ক্ষেতলালে বন বিভাগের বেহাল দশা

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৫:২২

জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলা প্রশাসনের বন বিভাগ অফিসটির এখন বেহাল দশা। দীর্ঘদিন সংস্কার ও প্রয়োজনীয়  রক্ষনা বেক্ষনের অভাবে অফিসসহ কর্মকর্তাদের বাস ভবনগুলো জরাজীর্ন অবস্থা । অথচ সংশ্লিষ্ঠ কতৃপক্ষ  এ বিষয়ে সম্পূর্ণ উদাসীন।

ক্ষেতলাল উপজেলা পরিষদ চত্তরের ভিতরেই প্রায় ৩ একর জায়গার উপর ১৯৮০ সালে  বন বিভাগ এ অফিস স্থাপন করা হয়। ভিতরে সামাজিক বনায়নের অংশ হিসেবে প্রয়োজনীয় বিভিন্ন গাছের চারা তৈরী করাসহ এলাকার সরকারী গাছ সংরক্ষণ ও প্রশিক্ষনের ব্যবস্থার কথা থাকলেও তা দৃশ্যমান নয়। বর্তমানে সংস্কারের অভাবে মূল অফিস সহ অন্যান্য ভবনগুলো পরিত্যাক্ত ও ভুতরে অবস্থা বিরাজ করছে।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রবেশ পথের মূল ফটকের সামনে আগাছায় ভরা যা দেখে যে কেউ সাপ,বিচ্ছুর ভয়ে বন বিভাগের সহজে ভিতরে প্রবেশ করতে পারে না। ভয়ভীতিকে উপেক্ষা করে বনবিভাগের ভিতরে প্রবেশ করলেও সেখানে দু’চার প্রজাতির ছোট ছোট  পরিত্যাক্ত চারা ও আগাছা  ছাড়া আর কিছুই চোখে পড়বে না।

অথচ উপজেলা বন বিভাগ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গজেধর রায় দাবি করেন, বন  বিভাগ বছরে প্রায় ৪০ হাজার বিভিন্ন ফলদ,বনজ ওষুধি চারা সরকারী নির্দেশে রাস্তা ঘাট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, দাতব্য প্রতিষ্ঠানসহ বেরী বাঁধের পার্শ্বে ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় রোপণ, বিতরণ করে থাকি ।

অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে উপজেলার বিভিন্ন প্রকল্পের বনায়নের জন্য যে চারার চাহিদা, তা পুরনে ওই বনবিভাগে নিজস্ব চারা উৎপাদনের কথা থাকলেও বনবিভাগ কর্মকর্তা বিভিন্ন ব্যক্তি মালিকানাধীন নার্সারী থেকে স্বল্প মূল্যের মানহীন চারা সরবরাহ করে চাহিদা পূরন করছে। মহান মুক্তিযোদ্ধের ৩০ লক্ষ শহীদের স্মরণে বৃক্ষ রোপনের অংশ হিসেবে ক্ষেতলাল উপজেলা বন বিভাগ ৪ হাজর ৫ শতটি বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষের চারা বিতরণ করলেও  তার গুনগত মান নিয়ে জনমনে ক্ষোভ দেখা দেয়।

এবিষয়ে উপজেলা বন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গজেধর রায় জানান,এখানে তিনি সহ আরও  দু’জন অফিসার পরিবার সহ বসবাসের কথা থাকলেও বাসভবন গুলো বসবাসের অনুপযোগী  হওয়াই  কেউ বসবাস করতে পারছেনা।

তারপরেও চাকুরীর খাতিরে বন বিভাগের মালী  মোস্তাফিজার রহমান ও অফিস সহায়ক বেলাল হোসেন জীবনের ঝুকি নিয়ে অবস্থান করছে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন,বন বিভাগের কর্মকর্তাদের কোন অফিস না থাকায় মালীদের ভূতরে ব্যারাকে বসেই তাদের নিয়মিত অফিস করতে হয়। বর্তমান সরকারের উন্নয়নের ছোঁয়া ক্ষেতলাল উপজেলার সকল দপ্তর স্পর্শ করলেও বন বিভাগ সকল ক্ষেত্রে বঞ্চিত।

 

এবিএন/মিজানুর রহমান/জসিম/তোহা

এই বিভাগের আরো সংবাদ