চাঁদপুর-২ (মতলব উত্তর ও মতলব দক্ষিণ) নির্বাচনী আসন

মাঠে আওয়ামী লীগ, লবিংয়ে ব্যস্ত বিএনপি

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৩:৪৮

আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চাঁদপুর-২ (মতলব উত্তর ও মতলব দক্ষিণ উপজেলা) আসনে সাধারণ মানুষের মাঝে চলছে নানান সমীকরণ। আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টি থেকে কে পাচ্ছেন মনোনয়ন তা নিয়ে চলছে গুঞ্জন। কে বিজয়ী হলে মতলব উত্তর ও মতলব দক্ষিণে বেশি উন্নয়ন হবে এমন আলোচনা থেকে শুরু করে কোন আলোচনাই বাদ যাচ্ছে না।

তবে নির্বাচনী মাঠে আওয়ামী লীগের বর্তমান সংসদ সদস্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীর বিক্রম এমপি ও বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রাক্তন সদস্য, ছেংগারচর ডিগ্রি কলেজের সভাপতি ও বাংলাদেশ সিএনজি এসোশিয়েশনের মহাসচিব সাজেদুল হোসেন চৌধুরী দীপুকে মাঠে দেখা যাচ্ছে। মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন, দীপু চৌধুরী। খোঁজ-খবর নিচ্ছেন দলীয় নেতাকর্মীদের।

জাতীয় পার্টিকে দেখা গেলেও বিএনপি রয়েছে মনোনয়ন লবিংয়ে ব্যস্ত। স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত চাঁদপুর-২ নির্বাচনী আসন থেকে যে দলের এমপি হয়েছে সে দলই সরকার গঠন করেছে।

মতলব উত্তরে ১৪টি ইউনিয়ন, ১টি পৌরসভা ও মতলব দক্ষিণে ৬টি ইউনিয়ন, ১টি পৌরসভা। মোট এই দুই উপজেলার ২০টি ইউনিয়ন ও ২টি পৌরসভা নিয়ে চাঁদপুর-২ নির্বাচনী আসন। এ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীর বিক্রম আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের শক্তিশালী প্রার্থী। উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডে তিনি অনেক এগিয়ে আছেন।

মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীর বিক্রম ছাড়াও আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দৌড়ে রয়েছেন বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রাক্তন সদস্য, ছেংগারচর ডিগ্রি কলেজের সভাপতি ও বাংলাদেশ সিএনজি এসোশিয়েশনের মহাসচিব সাজেদুল হোসেন চৌধুরী দীপু, সাবেক সংসদ সদস্য এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) এম রফিকুল ইসলাম, ঢাকা মহানগর (দক্ষিণ) আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এড. নূরুল আমিন রুহুলসহ আরো কয়েকজনের নাম শোনা যাচ্ছে। বর্তমান সংসদ সদস্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীর বিক্রম এর পাশাপাশি আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী সাজেদুল হোসেন চৌধুরী দীপু এলাকায় ব্যাপক প্রচার-প্রচারনা সহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে ভূমিকা রেখে আসছেন। দলীয় নেতাকর্মীরা আগামী নির্বাচনে দীপু চৌধুরীকে চায়।

নির্বাচনী এলাকায় দেখা গেছে দীপু চৌধুরী পোষ্টার, ব্যানার, ফেষ্টুনে ছেয়ে গেছে। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি নুরুল আমীন রুহুলের কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের অনেক নেতার সঙ্গেই সখ্যতা রয়েছে। সর্বশেষ চাঁদপুর জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে তিনি অংশগ্রহণ করলেও ফলাফল পক্ষে আসেনি।

তবে মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীর বিক্রম আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করলে তার জ্যেষ্ঠপুত্র সাজেদুল হোসেন চৌধুরী দিপু প্রার্থী হবেন। তিনি দীর্ঘদিন মতলব উত্তর ও মতলব দক্ষিণের রাজনৈতিক, সামাজিক, শিক্ষা, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিকসহ অন্য কর্মকা-ের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কারণে নির্বাচনী মাঠে তারও রয়েছে ব্যাপক পরিচিতি। মতলব উত্তর ও মতলব দক্ষিণের তৃণমূলের আওয়ামী লীগ নেতারা সাজেদুল হোসেন চৌধুরী দীপুকে চায়। তৃণমূলের নেতাদের দুঃখে-সুখে দীপু চৌধুরী কাজ করে যাচ্ছেন।

২০০৮ সালের নির্বাচনে চাঁদপুর-২ ও চাঁদপুর-৩ আসনকে পুনঃসংস্কার করে মতলব উত্তর ও মতলব দক্ষিণ উপজেলাকে চাঁদপুর-২ আসনের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ থেকে মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীর বিক্রম এমপি হয়ে স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী ও নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী হন। ওই সময় তিনি বৃহত্তর মতলব উপজেলাকে ২টি উপজেলায় বিভক্ত করে, ১টি মতলব দক্ষিণ অপরটি মতলব উত্তর উপজেলায় রূপান্তর করে ২টি পৌরসভাও ঘোষণা করেন। ১টি হচ্ছে মতলব পৌরসভা অপরটি ছেংগারচর পৌরসভা।

২০০৮ সালের নির্বাচনে চাঁদপুর-২ আসনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পেয়ে জয়ী হয় এমপি হন এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) এম. রফিকুল ইসলাম। তাঁর সাথে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী সাবেক সংস্থাপন প্রতিমন্ত্রী নূরুল হুদা পরাজিত হন। উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক মোঃ জহির সরকার এবং যুগ্ম আহ্বায়ক চন্দন সাহা জানান, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমরা দীপু চৌধুরীকে চাই। তিনি দলের জন্য কাজ করছেন। এ আসনটি জননেত্রী শেখ হাসিনাকে উপহার দিতে হলে দীপু চৌধুরীর কোন বিকল্প নেই।

উপাদী দক্ষিণ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মোঃ গোলাম মোস্তফা জানান, উপাদী দক্ষিণ ইউনিয়নে স্বাধীনতার পর যে উন্নয়নমূলক কাজ হয়েছে, তা আমাদের জন্য স্মরনীয়। আগামী নির্বাচনে আমরা দীপু ভাইকে নৌকা প্রতীক নিয়ে পেতে চাই। মতলব উত্তর ও মতলব দক্ষিণ উপজেলা তৃণমূলের আওয়ামী লীগ নেতারা আগামী নির্বাচনে দীপু চৌধুরীকে এমপি হিসেবে পেতে চায়। পুরো নির্বাচনী এলাকায় দীপু চৌধুরীর পোষ্টারে-ব্যানারে ছেয়ে গেছে। ২০১৪ সালের নির্বাচনে মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া  বীর বিক্রম বিনাপ্রতিদ্বন্ধিতায় নির্বাচিত হন।

বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য নূরুল হুদার মৃত্যুর পর বিএনপি অনেকটাই অভিভাবকশূণ্য হয়ে পড়ে। বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে যারা ইতোমধ্যে কেন্দ্রীয় লবিং করছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য প্রয়াত নূরুল হুদার জ্যেষ্ঠ পুত্র তানভীর হুদা, বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা আতাউর রহমান ঢালী, দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ড. জালাল উদ্দিন, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও মতলব দক্ষিণ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এম এ শুক্কুর পাটোওয়ারী, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ব্যারিস্টার ওবায়েদুর রহমান টিপু।

এদিকে মতলব উত্তর উপজেলা বিএনপি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলমগীর সরকার জানান, চাঁদপুর-২ নির্বাচনী আসনে যারা বিএনপি করে তারা সাবেক সাংসদ ও প্রতিমন্ত্রী প্রয়াত নুরুল হুদা সাহেবকে মনেপ্রাণে ভালবাসতেন এবং তারা নুরুল হুদার জ্যেষ্ঠ সন্তান তানভীর হুদাকেও ভালবাসেন। মতলব উত্তর-দক্ষিণের বিএনপি যে তানভীর হুদার প্রতি আস্থাশীল তা দলীয় হাইকমান্ড জানে। আর তা জানে বলেই আমরা বিশ্বাস করি দলীয় ধানের শীষ প্রতিকটি তানভীর হুদাই পাবে।

অপরদিকে, উপজেলা বিএনপির বেশ ক’জন নেতা জানান, আতাউর রহমান ঢালীকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেন বলেই বিএনপি’র চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া তাকে চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা হিসাবে নিয়োগ দিয়েছেন।

অন্যদিকে, মতলব উত্তর উপজেলা বিএনপি’র বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নুরুল হক জিতু জানান, মতলব উত্তর ও মতলব দক্ষিণ বিএনপি’র কমিটি দলের কেন্দ্রীয় নেতা ড. জালাল উদ্দিনের মাধ্যমেই সংগঠিত হয় এবং কমিটির নেতৃবৃন্দ তার প্রতিই আস্থাশীল। এ কারণে ড. জালাল উদ্দিনই ধানের শীষ প্রতীক পাবেন এটা তাদের বিশ্বাস।

এদিকে চাঁদপুর-২ আসনে জাতীয় পার্টির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে মাঠে সক্রিয় রয়েছেন জাতীয় পার্টির চাঁদপুর জেলা শাখার সাবেক আহ্বায়ক মোঃ মিজানুর রহমান খান, কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান এমরান হোসেন মিয়া। অনেক আগে থেকেই তিনি গণসংযোগের পাশাপাশি দলীয় কর্মকা-ে নিজেকে সম্পৃক্ত রেখেছেন। মিজানুর রহমান খানের সাথে সাবেক রাষ্ট্রনায়ক হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদের সঙ্গে তার রয়েছে বিশেষ সখ্যতা। এ কারণে তিনি চাঁদপুর-৩ আসন থেকে লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেছেন। তবে ২০০৮ ও ২০১৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাপা মহাজোটে থাকায় কোন প্রার্থী ছিল না এ আসনে।

মতলব উত্তর ও মতলব দক্ষিণ নিয়ে চাঁদপুর-২ আসন হলেও উপজেলাভিত্তিক বিএনপি-আওয়ামী লীগের ভোটার সংখ্যা একরকম নয়। বিগত নির্বাচনগুলোতে দেখা গেছে, মতলব উত্তরে আওয়ামী লীগের ভোট বেশি। আবার মতলব দক্ষিণ উপজেলায় বিএনপির ভোট বেশি। তবে ইতিমধ্যে মতলব দক্ষিণে আওয়ামী লীগের ভোট পূর্বের তুলনায় বেড়েছে।

মতলব উত্তর ও মতলব দক্ষিণের ২টি উপজেলায় উপজেলা চেয়ারম্যান, ২টি পৌরসভার মেয়র ও ২০টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। এ কারণে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের পক্ষে ভোটের জরিপে আওয়ামী লীগ এগিয়ে রয়েছেন। দলীয় ভোটার সংগ্রহের কাজে ব্যাপক ভূমিকা রাখছে জনপ্রতিনিধি ও দলীয় নেতাকর্মীরা। কেননা, তারা সবাই আওয়ামী লীগ মনোনীত ও সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।

আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা এবার পুরুষ ভোটারদের পাশাপাশি মহিলা ভোটারদেরকে কাছে টানার ব্যাপারে খুব বেশি মনোযোগী। নির্বাচনী এলাকার মতলব উত্তর ও মতলব দক্ষিণে ঘুরে কথা বলে দেখা গেছে, ভোটাররা চায় উন্নয়ন। অধিকাংশ ভোটার জানায়, যে সরকার উন্নয়ন করে, তাদেরকেই ভোট দিমু। আমরা উন্নয়নে বিশ্বাসী। গত কয়েক বছরে আমাগো এলাকায় অনেক উন্নয়ন হইছে। যেমন- যোগাযোগ ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ, ক্রীড়া, কৃষি, শিক্ষা, মসজিদ-মন্দিরসহ সকল ক্ষেত্রেই আমাদের উন্নয়ন হইছে। আমরা যোগ্য প্রার্থীকেই ভোট দিমু।

এবিএন/ শ্যামল চন্দ্র দাস/জসিম/নির্ঝর

এই বিভাগের আরো সংবাদ