কসবায় ধর্ষণের ২১ দিন পর থানায় মামলা

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৯:১১ | আপডেট : ০১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৯:১৭

কসবা উপজেলার খাড়েরা ইউনিয়নে তৃতীয় শ্রেণির এক শিশুকে জোরপূর্বক ধর্ষণের ঘটনাটি ৬ লাখ টাকায় ধামাচাপা দেয়ায় ২১ দিন পর গত শুক্রবার (৩১ আগস্ট) গভীর রাতে মামলা করেছেন শিশুটির বাবা। এর আগে গত শুক্রবার  (৩১ আগস্ট) বিকেলে আইন মন্ত্রীর আনিসুল হক এর নিজ বাসভবনে কসবা প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দের সাথে এক স্বাক্ষাতকালে কসবা থানার ওসিকে এ ঘটনায় মামলা নিতে নির্দেশ দেন। 

ঘটনার পর পর থানায় দেয়া লিখিত অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, খাড়েরা ইউনিয়নের স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তৃতীয় শ্রেণিতে পড়াশুনা করে শিশুটি। তাদের বাড়ির পাশেই একটি হাঁস লালন পালনের জন্য একটি খামার করেছেন কসবা উপজেলার খাড়েরা গ্রামের সরু মিয়া। শিশুটি ওই খামারের পাশ দিয়ে বিদ্যালয় ও মক্তবে যাতায়ত করতো।

গত ৭ আগস্ট সকালে শিশুটি খামারের পাশ দিয়ে মক্তবে যাওয়ার সময় ওই খামার মালিক তাকে আমড়া দেয়ার কথা বলে খামারে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করে। পরদিনই শিশুটির মা বাদী হয়ে তার মেয়েকে জোরপূর্বক ধর্ষণের অভিযোগ কসবা থানায় দায়ের করে। ওই দিন রাতে কসবা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মৃনাল দেবনাথ আসামী বাড়িতে যায়। এ সময় তিনি রহস্যজনক কারণে আসামীকে ছেড়ে দিয়ে চলে আসেন এবং মামলাটি থানায় রেকর্ডভূক্ত করেননি। পরদিন ৯ আগস্ট রাতে শিশুটির বাড়িতে এক সালিশ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সালিশ সভায় খামার মালিক সরু মিয়া দোষ স্বীকার করেন। সালীশকারকগণ তাকে ৬লাখ টাকা জরিমানা করেছে। এ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে একাধিক সংবাদ প্রকাশিত হয়। 

গত শুক্রবার  (৩১ আগস্ট) স্থানীয় সংসদ সদস্য, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক নির্বাচনী গণসংযোগ করতে এলাকায় আসেন। বিকালে মন্ত্রীর উপজেলার পানিয়ারুপ গ্রামে নিজ বাস ভবনে কসবা প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দ মন্ত্রীর সংগে সৌজন্যস্বাক্ষাত করেন। ওই সময় শিশু ধর্ষণ ও ৬ লাখ ধর্ষণ ধামাচাপার ঘটনাটি আলোচনায় আসে। তিনি তাৎক্ষনিক ভাবে কসবা থানার ওসির কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে ওসি সদত্তোর দিতে পারেনি। মন্ত্রী ওসিকে দ্রুত মামলাটি রেকর্ড করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেন। 

পরে শুক্রবার (৩১ আগস্ট) রাতেই পুলিশ শিশুটির বাবাকে থানায় ডেকে আনেন। এ সময় ধর্ষিতার বাবাকে বাদী করে সরু মিয়ার বিরুদ্ধে ধর্ষণের চেষ্টা মামলা রেকর্ড করে কসবা থানা পুলিশ। শিশুটির বাবা এ প্রতিবেদককে বলেন, গ্রামের লোকজন তাকে মামলা করতে বলেছেন। তাই তিনি থানায় এসে মামলা করেছেন। তবে কি মামলা করেছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ধর্ষণের মামলা করেছি। আবার কিছু সময় পরে বলেন, ধর্ষণের চেষ্টা মামলা করেছি। 

কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুল মালেক বলেন, শিশুটির বাবাকে খবর পাঠিয়ে থানায় আনা হয়েছে। তাদের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতেই সরু মিয়ার বিরুদ্ধে ধর্ষণের চেষ্টা মামলা করা হয়েছে।

এবিএন/মো. অলিউল্লাহ সরকার অতুল/জসিম/রাজ্জাক

এই বিভাগের আরো সংবাদ