শিশু আকিফার দাফন সম্পন্ন, তিনজনের নামে মামলা

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ৩১ আগস্ট ২০১৮, ২০:৩৫ | আপডেট : ৩১ আগস্ট ২০১৮, ২০:৪০

“আমি কোন ক্ষতিপূরণ চাইনা, মেয়েই বেঁচে নেই তাহলে আর টাকা দিয়ে কি হবে? মেয়ে হত্যার ঘাতকের সর্ব্বোচ বিচার চাই, টাকার কাছে বিক্রি হতে চাই না।” মেয়েকে শেষ বিদায় দিয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানায় মামলা দায়েরের পর আক্ষেপের সুরে সাংবাদিকদের কাছে এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন কুষ্টিয়ার চৌড়হাস মোড়ে বাসের ধাক্কায় নিহত শিশু আকিফার বাবা হারুন উর রশিদ।

গতকাল বৃহস্পতিবার (৩০ আগস্ট) রাতে কুষ্টিয়া মডেল থানায় দন্ডবিধির ৩০৪ ধারায় মামলা করেন তিনি। মামলায় ঘাতক বাসের চালক খোকন, সুপারভাইজার ইউনুস মাষ্টার এবং ঘাতক ওই বাসের মালিক জয়নুলকে আসামী করা হয়েছে। আসামীরা সবাই ফরিদপুর জেলা সদরের বাসিন্দা।

এদিকে বৃহস্পতিবার (৩০ আগস্ট) বাদ এশা চৌড়হাস ঈদগাহ গোরস্থানে শিশু আকিফার দাফন সম্পন্ন হয়। এর আগে সন্ধ্যায় আকিফার লাশবাহী গাড়িটি বাড়িতে পৌছালে সেখানে এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। প্রিয় সন্তানের নিথর দেহ কোলে নিয়ে বসে ছিলেন হতভাগা বাবা হারুন উর রশিদ। মা রিনা বেগমের আর্তনাদে ভারি হয়ে উঠছে চারিদিক। শিশুটিকে এক নজর দেখার জন্য ছুটে আসেন শত শত মানুষ।  
এ ঘটনার সিসি টিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে ফুসে উঠে কুষ্টিয়ার সচেতন মহল। আলোচিত এই ঘটনায় গঞ্জেরাজ নামক যাত্রীবাহী বাস চালকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবীতে ঘটনাস্থল কুষ্টিয়ার চৌড়হাসে গত বুধবার বেলা সাড়ে ১১টায় মানববন্ধন করে স্কুলের শিক্ষার্থীরা, সাংবাদিক ও স্থানীয় সচেতন এলাকাবাসী। তাদের এই কর্মসূচী এখনো অব্যাহত রয়েছে।

সচেতন মহলের ব্যানারে কর্মসূচীর ডাক দেয়া আয়োজকদের একজন সাংবাদিক হাসিবুর রহমান রিজু বলেন, শিশু মৃত্যুর ঘটনায় মডেল থানায় রাতে মামলা হয়েছে। পুলিশ দ্রুত ঘাতক বাস ও জড়িতদের গ্রেফতার করতে না পারলে কঠোর কর্মসূচী দেয়া হবে।

“নিরাপদ সড়ক চাই” কুষ্টিয়া জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক নুরুন্নবী বাবু বলেন, শিশু আকিফা হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে “নিরাপদ সড়ক চাই” জেলা শাখার পক্ষ থেকে বিভিন্ন কর্মসূচী হাতে নেয়া হয়েছে।

কুষ্টিয়া মডেল  থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) নাসির উদ্দিন জানান, ঘটনার পরই পুলিশ ঘটনাস্থলে যেয়ে ঘাতক বাসটির নম্বর, মালিক ও চালকের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করে অভিযান চালায়। বৃহস্পতিবার ভোরে শিশুটির মৃত্যু হলে তার বাবা থানায় এজাহার দায়ের করলে আমরা মামলাটি তাৎক্ষণিক রুজু করি। আসামীদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে।

প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার (২৮ আগস্ট) বেলা পৌনে ১২টার দিকে রাজশাহী থেকে ফরিদপুরের উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা গঞ্জেরাজ পরিবহনের একটি বাস শহরের চৌড়হাস মোড়ের কাউন্টারে এসে থামে। সে সময় থেমে থাকা বাসের সামনে দিয়ে এক বছরের শিশু কন্যা আকিফাকে কোলে নিয়ে রাস্তা পারা হচ্ছিলেন মা রিনা বেগম।

হঠাৎ কোন হর্ণ ছাড়াই চালক খোকন বাসটি চালিয়ে দেন। এতে মায়ের কোল থেকে রাস্তার উপর ছিটকে পড়ে আহত হয় শিশু কন্যা আকিফা। বাসের ধাক্কায় রিনা বেগমও আহত হন।

গতকাল বৃহস্পতিবার (৩০ আগস্ট) ভোরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় শিশু আকিফা। সে কুষ্টিয়া শহরের চৌড়হাস এলাকার সবজি ব্যবসায়ী হারুন উর রশিদের মেয়ে।

এবিএন/এ.এইচ.এম.আরিফ/জসিম/রাজ্জাক

এই বিভাগের আরো সংবাদ