অদম্য মেধাবী রুবেলের লেখাপড়া কি বন্ধ হয়ে যাবে!

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০১৮, ১২:৫৫

কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ), ২৬ আগস্ট, এবিনিউজ : দিনের বেলায় রাজমিস্ত্রীর যোগালি আর রাতের বেলায় পড়াশুনা। বাবা আলতু মিয়া মারা গেছেন ছোট বেলায়। ভাঙ্গা ঘরে অসুস্থ বৃদ্ধ মা। তবুও সবকিছু সামলে নিয়ে মেধার স্বাক্ষর রেখে চলেছে আচমিতা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী কিশোর রুবেল মিয়া (১৪)।

অষ্টম শ্রেণিতে এই প্রতিষ্ঠান থেকে জিপিএ-৫ পাওয়া একমাত্র বৃত্তি প্রাপ্ত শিক্ষার্থী সে। বাবা আলতু মিয়ার চেহারা ঠিক মনে নেই। মাত্র ১বছর বয়সে বাবাকে হারিয়েছে রুবেল।

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার আচমিতা ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন বৃদ্ধ,অসুস্থ মাকে নিয়ে একটি ভাঙ্গা টিনের দু’চালা ঘরে বসবাস তার। বর্তমানে সে আচমিতা আদর্শ  উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত। সপ্তাহে কয়েকদিন এলাকায় কখনো ২০০ টাকা আবার কখনো ২৩০ টাকা মুজুরিতে রাজমিস্ত্রীর যোগালিয়া হিসেবে কাজ করে রুবেল। সেই টাকা দিয়েই চলে অসুস্থ মায়ের চিকিৎসা, সংসার এবং লেখাপড়ার খরচ।

মা ফিরোজা বেগম বলেন, ‘ঘরের চালে বড় বড় ছিদ্র। একটু বৃিষ্ট হলেই বিছানা আর ওর বইপত্র ভিজে একাকার হয়ে যায়। সেদিনের বৃষ্টিতেও বইগুলো ভিজে গেছে , রৌদ্রে শুকিয়ে তা ঘরে রাখছি।’

তিন ভাই আর চার বোনের মধ্যে রুবেল মিয়া সবার। বোনদের বিয়ে হয়ে গেছে। ভাই ২ জন আগেই বিয়ে করে অলাদা থাকেন। রুবেল থাকেন তার মাকে নিয়ে।

একদিকে পড়াশোনা অন্যদিকে সংসারের পুরো দায়িত্ব মাথায় নিয়ে অদম্য মেধাবী রুবেলের এভাবে এগিয়ে যাওয়া অনেকটা কষ্টদায়ক হলেও প্রতিশ্রুতি ছাড়া কিছুই পায়নি রুবেলের পরিবার। লেখাপড়া নিয়ে প্রতি মুহূর্তে শঙ্কায় রয়েছে রুবেল।

আচমিতা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সোহরাব উদ্দিন বলেন, ‘রুবেল অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র। তার কাছ কোন বেতন নেয়া হয়না। আমরা চেষ্টা করি তাকে সহযোগিতা করতে। তবে সে যদি শিক্ষার ভাল সুযোগ সুবিধা পেত, তবে আরও ভাল করত।’

এবিএন/রাজীব সরকার পলাশ/জসিম/এমসি

এই বিভাগের আরো সংবাদ