বড়পুকুরিয়ায় কয়লা খনির মামলায় কারাগারে ৬ এমডিসহ ২২ কর্মকর্তা

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৩ জানুয়ারি ২০২১, ২০:০১

দিনাজপুরের পার্বতীপুর বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির কয়লা কেলেংকারীর ঘটনায় সাবেক ছয় ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ ২২ কর্মকর্তাকে জেল হাজতে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

আজ বুধবার দিনাজপুরের স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক মাহমুদুল করিম এই আদেশ দেন। এ ঘটনায় পার্বতীপুর বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি এলাকায় বিকেলে সরেজমিনে গেলে খনি কর্মকর্তা কর্মচারী ও এলাকাবাসীর মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।

বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি থেকে ২৪৩ কোটি ২৮ লাখ ৮২ হাজার ৫০১ টাকা মূল্যের কয়লা চুরির অভিযোগে ২০১৮ সালের ২৪ জুলাই ১৯ জনের নাম উল্লেখ করে পার্বতীপুর মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়। এ যাবত তারা জামিনে ছিলেন। মামলাটি বিচারের জন্য দিনাজপুরের স্পেশাল জজ আদালতে প্রেরণ করা হয়। বুধবার এই মামলার চার্জ গঠন ও জামিনের জন্য দিন ধার্য ছিলো। আসামিরা হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করলে বিচারক তাদের জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মামলার আসামিরা হলেন- সাবেক ছয় এমডি মো. আব্দুল আজিজ খান, প্রকৌশলী খুরশিদ আলম, প্রকৌশলী কামরুজ্জামান, মো. আমিনুজ্জামান, প্রকৌশলী এসএম নুরুল আওরঙ্গজেব ও প্রকৌশলী হাবিব উদ্দীন আহমেদ। অন্যরা হলেন- সাবেক মহাব্যবস্থাপক (জিএম) শরিফুল আলম, মো. আবুল কাশেম প্রধানিয়া, আবু তাহের মো. নুরুজ্জামান চৌধুরী, ব্যবস্থাপক মাসুদুর রহমান হাওলাদার, মো. আরিফুর রহমান ও সৈয়দ ইমাম হাসান, উপ-ব্যবস্থাপক মো. খলিলুর রহমান, মো. মোর্শেদুজ্জামান, মো. হাবিবুর রহমান, মো. জাহিদুর রহমান, সহকারী ব্যবস্থাপক সত্যেন্দ্র নাথ বর্মন, মো. মনিরুজ্জামান, কোল হ্যান্ডেলিং ম্যানেজমেন্টের ব্যবস্থাপক মো. সোহেবুর রহমান, উপ-মহাব্যবস্থাপক এ কে এম খাদেমুল ইসলাম, ব্যবস্থাপক অশোক কুমার হাওলাদার ও উপ-মহাব্যবস্থাপক মো. জোবায়ের আলী।

দিনাজপুরের কোর্ট ইন্সপেক্টর ইসরাইল হোসেন এ প্রতিনিধিকে বলেন, আজ বুধবার এই চাঞ্চল্যকর মামলাটির চার্জগঠনের শুনানির দিন ছিল। আসামিরা আদালতে উপস্থিত হয়ে জামিনের আবেদন করলে বিচারক তাদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

পার্বতীপুর মডেল থানার মামলা সূত্রে জানা গেছে, গত ২০০৬ সালের জানুয়ারি মাস থেকে ২০১৮ সালের ১৯ জুলাই পর্যন্ত ১ লাখ ৪৪ হাজার ৬৪৪ মেট্রিক টন কয়লা চুরি হয় বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি থেকে। চুরি যাওয়া কয়লার আনুমানিক মূল্য ২৪৩ কোটি ২৮ লাখ ৮২ হাজার ৫০১ টাকা ৮৪ পয়সা। এই ঘটনায় বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানির ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মো. আনিসুর রহমান বাদী হয়ে ২০১৮ সালের ২৪ জুলাই ১৯ জনের নাম উল্লেখ করে পার্বতীপুর থানায় মামলা করেন।

মামলাটি দুদকের তফশিলভুক্ত হওয়ায় দুদক কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়। পরে দুদকের তদন্তকারী কর্মকর্তা তদন্ত শেষে ২৩ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট জমা দেন। চার্জশিট দাখিলের পর সাবেক এমডি মো. মাহবুবুর রহমান মারা যান।

 

এবিএন/এম এ জলিল সরকার/জসিম/তোহা

এই বিভাগের আরো সংবাদ