চিতলমারীতে মা-মেয়েকে রক্ষায় স্ত্রীর বিরুদ্ধে সাংবাদিক সম্মেলন

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৮ আগস্ট ২০১৮, ১৭:১৫

বাগেরহাট, ১৮ আগস্ট, এবিনিউজ : “নাবালক অবস্থায় আমার বাবা মারা যায়। বিধবা মা সাবেত্রী রাণী নাবালিকা বোন আশালতাকে নিয়ে কঠোর পরিশ্রম করে আমাদের বড় করেন। পরবতির্তে আমি বড় হলে মা আমাকে বিয়ে দেন। কিন্তু আমার দাম্প্যত্ত জীবন সুখের হয়নি। স্ত্রী কারনে পরিবারে সৃষ্টি হয়েছে নরক যন্ত্রনা।”

আজ (১৮ আগস্ট) শনিবার বেলা ১২টায় বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলা সবুজ সংঘ ক্লাবে জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা তুলে ধরেন উপজেলার শিবপুর গ্রামের মৃত সদানন্দ মন্ডলের ছেলে দেবাশীষ মন্ডল (৩৫)।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও জানান, একই উপজেলার মাছুয়ারকুল গ্রামের ভবেস চন্দ্র বাইনের মেয়ে জবা রাণী (২৮) তার স্ত্রী। তার স্ত্রী অত্যাধিক ভোগ-বিলাস প্রিয়। সব সময় তার দাবী দামি গহনা ও শাড়ি। তাদের সংসারে দীঘি রাণী মন্ডল (৩) নামে একটি কণ্যা সন্তান রয়েছে। কণ্যার কথা ভেবে কষ্ট হলেও তার স্ত্রীর চাহিদা তিনি পূরণ করে আসছেন।

 কিন্তু সেই স্ত্রী প্রতিবেশী সুকলাল বসুর ছেলে তাপস বসুর (৩১) সাথে পরকিয়া প্রেমে জড়িয়ে পড়ে। স¤প্রতি সে তার মেয়ে ও সংসার ফেলে তাপসের হাত ধরে পালিয়ে যায়। এতেও ক্ষান্ত হয়নি জবা। পালিয়ে গিয়ে তারা একই্ উপজেলার আড়–য়াবর্নি গ্রামের একটি বাড়ী ও বাগেরহাট সদরে বাসাভাড়া নিয়ে স্বামী-স্ত্রী পরিচয় দিয়ে বসবাস করছে। 

সেখানে থেকে তারা বিজ্ঞ আদলাতে দেবাশীষের বিরুদ্ধে যৌতুক আইনে একটি মামলা দায়ের করেছে। উক্ত মামলায় বর্তমানে তিনি জামিনে রয়েছেন। বিজ্ঞ আদালতকে সম্মান জানিয়ে দেবাশীষ আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে আদালতের রায়ের আপেক্ষায় রয়েছেন। কিন্তু সুচতুর জবা রাণী ও তার ভাই অভিজিৎ বাইন তাকে ও তার বৃদ্ধ মা এবং শিশু মেয়েকে শারিরীক ও মানষিক ভাবে চরম নির্যাতন করছে। 

সংবাদ সম্মেলনে এ সময় উপস্থিত ছিলেন বৃদ্ধ কুমদ মন্ডল ও সুমঙ্গল বিশ্বাসসহ বহু গ্রামবাসী। গ্রামবাসীরা এ সময় লম্পট তাপসের হাত থেকে বাঁচার দাবী জানান। 

এ ব্যপারে জবা রাণী সব অভিযোগ অস্বীকার করে স্থানীয় সাংবাদিকদের জানান, তিনি তার স্বামী দেবাশীষের বিরুদ্ধে বিজ্ঞ আদলাতে যৌতুক আইনে একটি মামলা দায়ের করেছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে তাপস বসু কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।  তবে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ চিতলমারী উপজেলা শাখার সভানেত্রী হেলানা পারভিন ও সাধারন সম্পাদিকা সাবেরা কামাল স্বপ্না মুঠোফোনে বলেন, তাপস বসু একটি লম্পট চরিত্রের যুবক।

সে এ পর্যন্ত স্থানীয় ৩-৪ টি গৃহবধূর সংসার ভেঙ্গেছে। শিশু কন্যাটির কথা ভেবে আমরা দেবাশিষ ও জবার মধ্যে আপোষের চেষ্টা করছি। যাতে তাদের সংসারটি টিকে আমরা চাই। 


এবিএন/এস.এস সাগর/জসিম/তোহা

এই বিভাগের আরো সংবাদ