চাঁদপুরের হাটবাজারে এখন ইলিশে সয়লাব

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৭ আগস্ট ২০১৮, ১১:৪৮

চাঁদপুর, ১৭ আগস্ট, এবিনিউজ : চাঁদপুর জেলা শহরসহ উপজেলাগুলোর সব হাটবাজার এখন ইলিশে সয়লাব হয়ে গেছে। কিন্তু মাছগুলোর বেশিরভাগই (প্রায় ৯০ শতাংশ) পেটে ডিম থাকা মা ইলিশ। কিন্তু তাতে ক্রেতাদের ভ্রুক্ষেপ নেই। তারা কমদামে মাছ পেয়ে খুশি। প্রচুর মাছ আমদানি হওয়ায় খুশি মাছ ব্যবসায়ীরাও।

রেলওয়ে বড় স্টেশন এলাকার চাঁদপুর মাছ ঘাটের অবস্থান। মূলত নদী বা সাগরে মাছ আহরণের পর জেলেরা এখানেই নিয়ে আসেন বিক্রির জন্য। মাছ ঘাটে যে ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে তার অর্ধেকই ৫০০ থেকে ৬০০ গ্রাম ওজনের।

ভোলা, চরফ্যাশন, রামগতি, সন্দীপ ও আশপাশের সমুদ্রে ধরা পড়া এ মাছগুলোও ডিমওয়ালা। এসব মাছ ট্রলার ও পিকআপ ভ্যানে করে চাঁদপুরে নিয়ে আসা হচ্ছে। ইলিশবাহী পিকআপ চাঁদপুরে আসতে ছয় ঘণ্টারও কম সময় লাগছে বলে জানিয়েছেন চালকরা।

চাঁদপুর মাছ ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, সহস্রাধিক শ্রমিক ও মাছ ব্যবসায়ীদের হট্টগোলে পুরো এলাকা গমগম করছে। মাছ শিকারিরা বড় নৌকা ও ট্রলারে করে ইলিশ নিয়ে ঘাটে ভিড়ছেন।

আড়তে দিন দিন ক্রেতাদের সংখ্যা বাড়ছে বলে জানান স্থানীয় মাছ বিক্রেতা বিপ্লব দাস।

মাছ ব্যবসায়ীদের আনুমানিক হিসাব অনুযায়ী, গত চার দিনে ঘাটে প্রায় সাড়ে তিন হাজার মণ ইলিশ এসেছে।

ঘাটে কাজ করা শ্রমিক খোকন, নজরুল, মিজান, মনির প্রমুখ জানান, এখন অনেক ইলিশ আসায় তাদের সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কাজ করতে হচ্ছে। তাদের কেউ ট্রলার ও পিকআপ থেকে মাছ খালাসের কাজ করেন, কেউ ঝুড়িতে বরফ ও কাঠের গুড়াসহ ইলিশ প্যাক করেন আবার কেউ ট্রাকে ইলিশ বোঝাই করেন। ইলিশবাহী এসব ট্রাক মূলত রাজধানীর কারওয়ান বাজার, আবদুল্লাহপুর, বাইপাইল, কিশোরগঞ্জ, ময়মনসিংহ, সিলেট, জামালপুর ও নারায়ণগঞ্জসহ দেশের উত্তারাঞ্চলে যায়।

স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ী কালু ভূইয়া জানান, মাছ ঘাটের পাশাপাশি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নদীর তীরের হরিণা ফেরি ঘাট, হানারচর, হাইমচর, ঈদগাঁহ বাজার, আনন্দ বাজার ও আরো কিছু এলাকায় ছোট বাজার তৈরি হয়েছে। সেখানেও এখন পর্যাপ্ত ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে।

মাছ ঘাটে কথা হয় ঢাকার ভিক্টোরিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সোনিয়া রহমান ও তার স্বামীর সাথে। তারা ঘাট থেকে ইলিশসহ অন্যান্য মাছ কিনেছেন। সোনিয়া রহমান বলেন, ”মাছ নিয়ে আমরা লঞ্চে করে ঢাকায় ফিরে যাবো। এ কাজটি আমরা প্রায়ই করি।”

এদিকে ঘাটে ইলিশের প্রাচুর্যের ঢেউ শহরের সব মাছ বাজার যেমন নতুন বাজার, পুরাণবাজার, বিপণিবাগ বাজার, বাবুরহাট বাজার, ওয়ারলেস বাজার ইত্যাদিতে পড়েছে। সেই সাথে অনেককে শহরের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ইলিশ বিক্রি করতে দেখা যাচ্ছে।

হাটবাজারে ছোট আকারের ইলিশ কেজি প্রতি ২০০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ৫০০ গ্রাম ওজনের ডিমওয়ালা ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৩৫০ টাকা কেজিতে। এক কেজি ওজনের ইলিশের দাম কেজি প্রতি ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা। আর দেড় কেজি বা তার চেয়ে বড় ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে ১৩শ’ টাকা কেজিতে।

চাঁদপুর বড় স্টেশন মাছ ঘাটের ব্যবসায়ী মকবুল খন্দকার জানান, তিনি পদ্মার দুই কেজি ওজনের ইলিশ দুই হাজার টাকা কেজিতে বিক্রি করছেন।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে চাঁদুপর নদী মৎস গবেষণা ইনস্টিটিউটের ইলিশ গবেষক ড. আনিসুর রহমান বলেন, ‘জাটকা ধরা নিষিদ্ধের সময়কাল সফলভাবে শেষ হওয়ায় এবছর আমরা গতবারের তুলনায় অধিক ইলিশ আহরণের আশা করছি।’

তিনি আরো বলেন, ‘ডিম থাকা মা ইলিশের স্বাদ কম। ডিম ছাড়া ও কম ডিমের সুস্বাদু ইলিশ পেতে আরো কয়েকদিন সময় লাগবে।’

এবিএন/শংকর রায়/জসিম/পিংকি

এই বিভাগের আরো সংবাদ