ডোমারে বিদ্যালয়ের ভবন ভেঙে মালামাল বিক্রির অভিযোগ

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৪ আগস্ট ২০১৮, ১৭:৪২

নীলফামারী, ১৪ আগস্ট, এবিনিউজ : নীলফামারীর ডোমার উপজেলার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত মডেল বিদ্যালয় শহীদ স্মৃতি মডেল সরকারী প্রথমিক বিদ্যালয়ের নিয়মবহি:ভুতভাবে ভবন ভেঙে রড, এ্যাঙ্গেল, স্ক্রু, টিন, দরজাসহ বিভিন্ন মালামাল কালো বাজারে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। রবিবার হলহলিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: এনামুল হক চৌধুরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বরাবরে এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ করেন। 

লিখিত অভিযোগে জানা গেছে, শহীদ স্মৃতি মডেল সরকারী প্রথমিক বিদ্যালয়ে ৭৮ লক্ষ টাকা ব্যয়ে পাঁচ কক্ষ বিশিষ্ট একটি নতুন ভবনের বরাদ্দ হয়েছে। ভবনটি স্থাপনের জন্য বিদ্যালয়ের উত্তর দিকে একটি পুরাতন টিনসেড বড় দালান ঘড় ভেঙে ফেলা হয়। আর ওই ঘড়ের পুরাতন প্রায় দুই টন এঙ্গেল, দুই বস্তা স্ক্রু, ১৫-২০ বান্ডিল ঢেউটিন, পাঁচটি দরজা, জানালাসহ কয়েক হাজার ইট পাওয়া যায়।

সরকারী কোন মালামাল টেন্ডারের মাধ্যমে বিক্রির নিয়ম থাকলেও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি ও প্রধান শিক্ষক সেই নিয়মকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে প্রায় তিন লক্ষ টাকার মালামাল কালোবাজারে বিক্রি করেন।শহরের প্রানকেন্দ্রে অবস্থিত বিদ্যালয়ের এই ঘটনায় গোটা শহরে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে।

এদিকে বিদ্যালয় সংস্কারের জন্য কাবিখা প্রকল্প হতে আট টন চাল বরাদ্ধ দেয় নীলফামারী-১ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আফতাব উদ্দিন সরকার। সেই চালের ভাগ নিয়ে দুই বিদ্যুঃসাহী সদস্যরা বিদ্যালয়ের সভাপতির কাছে দুইটন চালের দাবী করলে সভাপতি তাদের জানান বিদ্যালয়ের কাজের জন্য এ চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ভাগের জন্য নয়। এনিয়ে তাদের মধ্যে বাকবিতন্ডার সৃষ্টি হয়।  
 
এবিষয়ে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি রাশেদ মাহমুদ উজ্জ্বল ও প্রধান শিক্ষক গোলাম সারওয়ার জানান, বিদ্যালয়ের পুরাতন ভবনটি ভেঙে এক হাজার চার শত কেজি এঙ্গেল ৪০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়েছে। আর টিনসহ অন্যান্য মালামাল বিদ্যালয়ের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে টেন্ডার না দিয়ে বিক্রির বিষয়ে তারা বালেন, এঙ্গেল পরিমানে কম হওয়ায় টেন্ডার দেওয়া হয় নাই।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ আমির হোসেন বলেন,আমি কিছু টিন দিয়ে আলাদা জায়গায় অস্থায়ীভাবে ছাত্র/ছাত্রী জন্য কক্ষের ব্যবস্থার কথা বলেছি। বাকী টিন,রড,এ্যাংগেল ও দরজাসহ যাবতীয় জিনিসগুলো প্রধান শিক্ষককে সংরক্ষনের জন্য বলা হয়েছে। সেসব জিনিস ভবন নির্মানের পর নিলামের মাধ্যমে বিক্রয় করা হবে। তবে এখন জানতে পেরেছি কিছু টিন ব্যবহার করা হয়েছে বাকীগুলো নাকি বিক্রি করে দিয়েছে ম্যানেজিং কমিটি। আমি এ ব্যাপারে বিদ্যালয়ের মালামালগুলো কোথায় ও কি অবস্থায় রয়েছে তা বিস্তারিত জানতে প্রধান শিক্ষককে লিখিত আকারে টিঠি দিয়েছি। 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা: উম্মে ফাতিমা জানান, বিদ্যালয়ের পুরাতন মালামাল উদ্ধারসহ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে ইতিমধ্যে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এবিএন/মো:আব্দুল্লাহ আল মামুন/জসিম/নির্ঝর

এই বিভাগের আরো সংবাদ