ভাসানচরের পথে রোহিঙ্গাবাহী ১০ বাস

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৩ ডিসেম্বর ২০২০, ১২:৪৯ | আপডেট : ০৩ ডিসেম্বর ২০২০, ১৩:০১

ভাসানচরে রোহিঙ্গা স্থানান্তর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে রওনা হয়েছে রোহিঙ্গা বহনকারী ১০টি বাস। বহনকারী বাসটিগুলো তাদের চট্টগ্রামের নৌবাহিনীর জেটিতে পৌঁছে দেবে। সেখান থেকে নৌবাহিনীর জাহাজে পৌঁছে যাবে ভাসানচর। 

এর মধ্যে দিয়ে শুরু হলো মিয়ানমার থেকে অভিবাসী হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ১ লাখ রোহিঙ্গাকে অস্থায়ীভাবে ভাসানচরে স্থানান্তরে সরকারের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম। ওই বাসগুলোয় ঠিক কতজন রোহিঙ্গা রয়েছেন, তা এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

রোহিঙ্গা স্থানান্তর প্রক্রিয়ায় নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছে র‌্যাব।

স্থানান্তর প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আগামীকাল ভাসানচরে যাচ্ছেন প্রায় সাড়ে তিন হাজার রোহিঙ্গা। এর মধ্য দিয়ে আশ্রয়ন প্রকল্প হিসেবে যাত্রা শুরু হতে যাচ্ছে ভাসানচরের। স্বেচ্ছায় স্থানান্তরে রাজি হওয়া রোহিঙ্গাদের ভাসানচর নিয়ে যেতে প্রস্তুত নৌবাহিনীর ১২টি ও সেনাবাহিনীর ১টি জাহাজ। এরই মধ্যে ভাসানচরে মজুদ রাখা হয়েছে প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী।

ভাসানচরে প্রথম ধাপে যাওয়া রোহিঙ্গাদের রাখা হবে ৫ থেকে ১১ নম্বর ক্লাস্টারে।  তিন মাসের মজুদ সক্ষমতার খাদ্য গুদামে প্রস্তুত ৬৬ টন খাদ্যপণ্য।  তবে প্রথম দিকে রোহিঙ্গাদের রান্না করা খাবার সরবরাহ করবে আল মানাহিল ওয়েলফেয়ার।

ভাসানচর আশ্রয়ন প্রকল্পে ১৪৪০টি ঘর এবং ১২০টি সাইক্লোন সেন্টারে থাকতে পারবেন ১ লাখ ১ হজার ৩৬০ জন রোহিঙ্গা। নিজ দেশ থেকে বিতাড়িত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় পেয়েছেন। পাচ্ছেন খাদ্য, চিকিৎসা। এমনকি শিশুদের শিক্ষার ব্যবস্থা আছে। আশ্রিত রোহিঙ্গাদের এদেশে সাময়িক অবস্থান যেন আরো শোভন হয়, সে চেষ্টার কমতি করেনি সরকার। তাই তিন হাজার কোটি টাকারও বেশি খরচ করে ভাসানচরে গড়ে তোলা হয়েছে বিশাল আশ্রয়ন প্রকল্প।

এদিকে, রোহিঙ্গাদের জীবন যাপন নির্বিঘ্ন করতে আগেই ভাসানচরে পৌঁছেছেন নিরাপত্তা বাহিনীর প্রায় আড়াইশ সদস্য এবং ২২ এনজিওর কর্মকর্তারা। প্রথম দলের বসবাস  শুরুর পর, কক্সবাজারের ক্যাম্পে থাকা মিয়ানমারের বাকি নাগরিকরাও ভাসানচরে আসতে আগ্রহী হবেন বলে মনে করেন প্রকল্প কর্মকর্তারা।

২০১৭ সালের আগস্ট পরবর্তী সময়ে মিয়ানমার সরকারে অব্যাহত দমন ও নিপীড়নের শিকার হয়ে এদেশে পালিয়ে আশ্রয় নেয় ১০ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা। সে থেকেই তারা বাংলাদেশে সরকারের আশ্রয়ে রয়েছে।

এবিএন/সাদিক/জসিম

এই বিভাগের আরো সংবাদ