ফুঁসে উঠেছে গ্রামবাসি

চিতলমারীতে গুরু’র হাত থেকে কি রক্ষা পাবে স্কুলের সম্পত্তি?

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১২ আগস্ট ২০১৮, ২২:২০

বাগেরহাট, ১২ আগস্ট, এবিনিউজ : ‘আমরা বিভিন্ন দপ্তরে গুরুর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেছি। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। প্রধান শিক্ষক গুরু’র চাকুরীর মেয়াদ শেষ। তাই বাবার দান করা জায়গা-জমি চতুরতার মাধ্যমে ফেরত পেতে গুরু চালাচ্ছে গুরুগিরি। বাদী কেশব কির্তুনীয়া ও বিবাদী প্রধান শিক্ষক গুরুপদ কির্তুনীয়া আপন দু’ভাই। আর এসব কু-বুদ্ধির দাতা স্কুলের সাবেক সভাপতি সুনিল কির্তুনীয়া তাদের চাচাত ভাই। তাই শেষ পর্যন্ত কি গুরু’র হাত থেকে রক্ষা পাবে স্কুলের সম্পত্তি।’

আজ রবিবার (১২ আগস্ট) দুপুরে চরম ক্ষোভের সাথে কুড়ালতলা উত্তরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে দাঁড়িয়ে এমনটাই জানালেন বয়সের ভারে ন্যুয়ে পড়া সুভাষ কির্তুনীয়া (৭১)। 

তিনি আরও জানান, এলাকার মানুষের কথা ভেবে ১৯৮৫ সালে উপজেলার হিজলা ইউনিয়নের কুড়ালতলা উত্তরপাড়া গ্রামে একটি পাঠশালা স্থাপিত হয়। স্থানীয় মনোহর কির্তুনীয়া ছেলে-মেয়েদের প্রাথমিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে ১৯৯৩ সালের ৮ ডিসেম্বর ২৫৬৭ নং দানপত্র দলিলে এস এ ৬৪৪ নং খতিয়ানের ১৪৫৩, ১৪৫৪ ও ১৪৫৫ দাগসহ ১৬ টি দাগে ৩৬ শতক জমি রেজিষ্ট্রি করে দেন। পরবর্তীতে মনোহর কির্ত্তুনীয়া তার ছেলে গুরুপদ কির্তুনীয়ার চাকুরীর স্বার্থে ১৯৯৪ সালে ২৬ এপ্রিল তারিখে ১১০৪ নং দানপত্র দলিলে ১৪৫৩, ১৪৫৪ ও ১৪৫৫ দাগে ২২ শতক সম্পত্তি দান করেন এবং স্কুলটি রেজি. প্রাথমিক বিদ্যালয় হিসেবে পাঠদান শুরু করে। কিন্তু ২০১৩ সালে স্কুলটি সরকারি হওয়ার কারণে এবং জমিদাতার ছেলে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক গুরুপদ কির্তুনীয়ার অবসরে যাওয়ার সময় হওয়ায় উক্ত সম্পত্তি ফেরত পাবার লক্ষে সুচতুর গুরুপদ তার আপন দুই ভাই রবীন কির্তুনীয়া ও কেশব কির্তুনীয়াকে দিয়ে বিজ্ঞ আদালতে দেওয়ানী ১২৩/১৫ নং মামলা দায়ের করেছেন। শুধু তাই নয় উক্ত মামলার বাদি-বিবাদীরা অবৈধ ভাবে সম্পত্তি লাভের আশায় এ মামলাটি দায়ের করেছেন। 

এছাড়া প্রধান শিক্ষক গুরুপদ কির্তুনীয়া ও স্কুলের সাবেক সভাপতি সুনিল কির্তুনীয়া যোগশাজস করে আদালতে বিদ্যালয়ের পক্ষে যে জবাব দাখিল করেছেন তা ঠিক নয়। মামলার বাদি যাতে স্কুলের সম্পত্তি সহজে পেয়ে যানসেই ব্যবস্থা করেছেন। স্কুলটি বর্তমানে ২২ শতক জায়গায় রয়েছে। 

অন্যদিকে স্কুলের সম্পত্তি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এবং সাবেক সভাপতি রেকর্ড, নামপত্তন ও দাখিলা কোনটাই স্কুলের নামে করেনি। এ মতাবস্থায় স্কুলের ৩৬ শতক জায়গা যদি মনোহর কির্তুনীয়রা ছেলেরা পেয়ে যায় তাহলে অত্র এলাকার শতশত শিক্ষার্থী প্রাথমিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হবে। তাই এই স্কুল ও পাশের মন্দির রক্ষায় এলাকার নারী-পুরুষ ফুঁসে উঠেছেন। 

এ ব্যাপারে স্থানীয় প্রাভাষ মন্ডল, অনন্ত কির্তুনীয়া, সুধাংশু কির্তুনীয়া, লিপিকা মন্ডল, ইতি মন্ডল, লিপিকা কির্তুনীয়া ও  শলোকা রাজবংশীসহ অনেকে জানান, যে ভাবেই হোক স্কুল রক্ষা করতে হবে। ওই মাষ্টারের কারনে দিনদিন শিক্ষাথী কমে মাত্র ৩৫ জনে দাড়িয়েছে। অথচ স্কুলে শিক্ষক রয়েছে ৪ জন। এ ঘটনায় তারা প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রাণালয়সহ আরও ৭টি দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি।

কুড়ালতলা উত্তরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক গুরুপদ কির্তুনীয়া জানান, মামলাটি তার ভাইয়েরা করেছেন। স্কুলের পক্ষে তিনি জবাব ও দিয়েছেন। এরবেশী আর কোন কিছু বলতে তিনি রাজি হননি। 

তবে চিতলমারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ মোজাফফর উদ্দিন মুঠোফোনে জানান, এ ঘটনায় উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষসহ বিভিন্ন দপ্তরে শতাধিক গ্রামবাসি স্বাক্ষরিত অভিযোগ হয়েছে। অতিশীঘ্র সহকারি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বিষয়টি তদন্ত করবেন। 

এবিএন/এস এস সাগর/জসিম/রাজ্জাক

এই বিভাগের আরো সংবাদ