খাগড়াছড়ির আলুটিলায় সড়ক দুর্ঘটনায় পথচারী নিহত, আহত ৩০

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১০ আগস্ট ২০১৮, ২০:৪০

খাগড়াছড়ি, ১০ আগস্ট, এবিনিউজ : খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার আলুটিলায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বহনকারী একটি বাস দুর্ঘটনায় পড়ে এক পথচারী নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তত ৩০জন শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে ৪ জনের অবস্থা গুরতর। দুর্ঘনার পর বাসের চালক পালিয়ে গেছে।

আজ শুক্রবার সকাল সোয়া ১০টার দিকে আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্রের নামার পাহাড় মোড়ে এপিবিএন ক্যাম্প এলাকায় শিক্ষার্থীদের বহনকারী বাস কিরন বর্ণিতা(খাগড়াছড়ি-জ-০৪-০০০৮) নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে এ দুর্ঘনার কবলে পড়ে।  

নিহত হাফিজ উল্লাহ খোকন কুমিল্লার নাঙ্গলকোটের গোত্রশালের মৃত আকবর আলীর ছেলে। মাছের পোনা বিক্রী করতে সে খাগড়াছড়ি এসেছিল। আহতরা সবাই চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।

ঘটনার তাৎক্ষনিক স্থানীয়দের সহায়তায় ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ বাহিনী আহত ও নিহতদের উদ্ধার করে খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে নিয়ে আসে। আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজন গুরুতর বলে জানা গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুক্রবার(১০ আগষ্ট) সকাল ১০টায় খাগড়াছড়ি-চট্টগ্রাম সড়কের বড়ব্রীজ আনসার ক্যাম্প মোড় এলাকায় এ ঘটনাটি ঘটে। বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারানোর পর প্রথমে মোস্তাফিজুর রহমান নামে এক মাছের পোনা বিক্রেতাকে চাপা দিলে সে ঘটনাস্থলেই মারা যায়। পরে বাসটি একটি পাহাড়ের সাথে ধাক্কা লেগে উল্টে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ও দমকল বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে খাগড়াছড়ি জেলা সদর আধুনিক হাসপাতালে নিয়ে আসে। 

পুলিশ জানায়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় অ্যাডভেঞ্চার ক্লাবের ৪৫সদস্য সাজেক ভ্রমণের জন্য খাগড়াছড়ি আসতেছিল। আলুটিলা পাহাড় নামার সময় বড়ব্রীজ আনসার ক্যাম্প মোড় এলাকায় শিক্ষার্থীদের বহনকারী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে এক পথচারীকে চাপা দেয় এবং রাস্তার পাশের পাথরের সাথে লেগে উল্টে যায়।

দুর্ঘটনায় শিকার শিক্ষার্থীরা জানান, বাসে তারা ৪৫জন শিক্ষার্থী সাজেকে উদ্দেশ্যে যাচ্ছিছিলেন। যাত্রার পর বাসটি কয়েকবার সমস্যা দেখা দিয়েছিল। এ কারণে তাদের খাগড়াছড়ি পর্যন্ত পৌঁছতে দেরী হয়।

খাগড়াছড়ি সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) মো: সাহাদত হোসেন টিটু জানান, বাসটি ক্রটিপূর্ণ ছিল। দুর্ঘনার খবর পাওয়ার সাথে সাথে আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়।

খাগড়াছড়ি জেলা সদর আধুনিক হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাক্তার নয়নময় ত্রিপুরা জানান, হাসাপাতালে অন্তত ৩০ শিক্ষার্থীকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে চারজনের অবস্থা গুরতর। অন্যদের প্রাথামিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

এবিএন/চাইথোয়াই মারমা/জসিম/রাজ্জাক

এই বিভাগের আরো সংবাদ