রাজাপুরে দরিদ্রদের জন্য বরাদ্ধ চাল লুটপাট

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১০ আগস্ট ২০১৮, ১৯:৪৪

ঝালকাঠি, ১০ আগস্ট, এবিনিউজ : ঝালকাঠির রাজাপুরে ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে দুস্থ-দরিদ্র মানুষের মাঝে বিশেষ বরাদ্ধের চাল বিতরণ কার্যক্রম নিয়ে ইউপি চেয়ারম্যান-মেম্বার ও সংশ্লিষ্ট ট্যাগ অফিসারের মিলিত একটি চক্র বিশেষ অনিয়ম ও হরিলুট শুরু করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সরকারি নিয়ম অনুযায়ী এ বছর বরাদ্দকৃত চাল জনপ্রতি ১০ কেজি থেকে বাড়িয়ে ২০ কেজি করে বিতরনের সিদ্ধান্ত নেয়া হলেও দুর্নীতিবাজ এ চক্রটি অর্ধেকের বেশি চাল লুটে নিচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এধরনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে গতকাল বৃহস্পতিবার (০৯ আগস্ট) সকালে সরেজমিন রাজাপুর উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মনিরুজ্জামান মনিরের নিজ এলাকা বড়ইয়া ইউনিয়নের দুস্থদের মাঝে বিশেষ বরাদ্ধের চাল বিতরণ কার্যক্রম প্রত্যক্ষকালে সত্যতা মিলেছে।

উপজেলা ত্রাণ অফিস সূত্রে জানা গেছে, ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে উপজেলার বড়ইয়া ইউনিয়নে কার্ডধারী ১ হাজার ৪শ’ ৪৫ জন দুস্থ-দরিদ্র মানুষকে ২০ কেজি হারে চাল বিতরণ করা জন্য ২৮.৯০০ মে.টন চাল বরাদ্ধ করা হয়। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে ২০ কেজির স্থলে প্রত্যেক কার্ডধারীকে সাড়ে ৯ থেকে ১০ কেজি হারে চাল বিতরণ করা হচ্ছে।

আর চাল বিতরণে স্বচ্ছতা ও অনিয়ম প্রতিরোধের দায়িত্বপ্রাপ্ত ‘ট্যাগ অফিসার’ উপজেলা প্রাথমিক সহকারি শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান ও রাজাপুর উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মনিরুজ্জামান মনিরের চাচাতো ভাই বড়ইয়া ইউপি চেয়ারম্যান মো. শাহআলম মন্টুকে ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্সের নিজ কক্ষে বসে খোশ গল্পে ব্যাস্ত সময় কাটাতে দেখা যায়।

চাল বিতরণ স্থলে গিয়ে দেখা যায়, সরকারি সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে ইউপি সদস্যরা এলাকার দুস্থ-দরিদ্র মানুষগুলোকে জনপ্রতি ২০ কেজির স্থালে সাড়ে ৯/১০ কেজি করে চাল বিতরণ করছে। এসময় সরকারিভাবে জনপ্রতি ২০ কেজি করে চাল বিতরণের বিষয়টি জানাজানি হলে উপস্থিত কার্ডধারী দুস্থ মানুষগুলোর মাঝে ক্ষোভ ছড়িয়ে পরে। তারা সরকারী নিয়মানুযায়ী ২০ কেজি করে চালের দাবীতে বিক্ষুদ্ব হয়ে ওঠে এবং কার্ডধারী অনেকে ১০ কেজি চাল বিতরণ করায় চাল না নিয়েই বাড়ি ফিরে যেতে দেখা যায়।

সরেজমিন উপস্থিত সাংবাদিকরা বরাদ্ধের অর্ধেক পরিমান চাল দেয়ার কারন জানতে কয়েকজন ইউপি সদস্যের সাথে কথা বলার চেষ্টা করলে দায় এড়াতে তারাও সটকে পড়ে। এক পর্যায়ে উপস্থিত দুস্থঃদের মাঝে উত্তেজনা সৃষ্টি ও জনপ্রতি ২০ কেজি হারে চাল দাবির মুখে ইউপি চেয়ারম্যান মো. শাহআলম মন্টু সাময়িকভাবে চাল বিতরণ বন্ধ রাখেন।

এ ব্যাপারে বড়ইয়া ইউপি চেয়ারম্যান মো. শাহআলম মন্টু জানায়, আমি প্রত্যেক ইউপি সদস্যকে খেয়ল রাখতে বলেছি যে প্রত্যেক কার্ডধারী যেন কমপক্ষে ১৭ কেজি চাল পায়। কিন্তু বিতরণের সময় ইউপি সদস্যরা যদি কোন কার্ডধারীকে চাল কম দেয় সে জন্য তারাই দায়ী।

এ বিষয়ে ট্যাগ অফিসার মো. আসাদুজ্জামান জানায়, চেয়ারম্যন সাহেব চা খেতে ডেকায় তার কক্ষে এসেছি। তবে আমি উপস্থিত থাকা অবস্থায় ২০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়েছে। আমি চেয়ারম্যনের কক্ষে আসার পর ইউপি সদস্যরা কত কেজি হারে চাল বিতরণ করেছে তা আমি জানিনা।

এবিএন/আজমীর হোসেন তালুকদার/জসিম/এমসি

এই বিভাগের আরো সংবাদ