ডয়চে ভেলের সাক্ষাৎকারে নুর

মৌলিক দাবির ভিত্তিতেই সরকার পতনের আন্দোলন করবো

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৮:০১

মৌলিক দাবির ভিত্তিতেই সরকার পতনের আন্দোলন করার কথা জানিয়েছেন ডাকসুর সদ্য সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর। গতকাল ডয়চে ভেলে বাংলার এক সাক্ষাতকারে নিজের রাজনৈতিক পরিকল্পনা, সাম্প্রতিক ধর্ষণ মামলাসহ বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন তিনি। এ সময় নুর বলেন, এই মুহূর্তে কেউ যদি আমাকে বলে যে সরকার পতনের আন্দোলন করো, আমি কিন্তু সেটা করবো না৷ কারণ হচ্ছে, বর্তমানে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতারণা, দুর্ণীতি, তাদের শাসনের নামে শোষণ আমরা দেখেছি৷ যদি একটা জাতীয় ঐক্য গড়ে ওঠে এবং ন্যূনতম কিছু শর্তের ভিত্তিতে একটা গণআন্দোলন হয়, যেমন ধরেন, দেশের গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনা হবে, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা হবে, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হবে- এই ধরনের কিছু মৌলিক দাবি-দাওয়া যদি চূড়ান্ত হয়, সেই দাবি-দাওয়ার ভিত্তিতে আমরা এই অবৈধ স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে পারি।

যে সরকারকে অবৈধ বলছেন, সেই সরকার পতনের আন্দোলন করবেন না কেন? এমন প্রশ্নে নুর বলেন, বাংলাদেশ ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন, বিএনপি, ঐক্যফ্রন্ট- সবাই এই সরকারের পতন চায়৷ কিন্তু এই সরকারের পতন আমরা ঘটালাম, তার পরবর্তী যে সরকার আসবে তারা কী করবে? এই দেশের কী মৌলিক পরিবর্তন করবে? মৌলিক দাবির ভিত্তিতেই আমরা সরকার পতনের আন্দোলন করবো৷ কারণ, আমরা একটা স্বৈরাচারকে সরিয়ে তো আরেকটা স্বৈরাচারকে ক্ষমতায় বসাবো না৷ সে কারণে এই দেশের শাসন ক্ষমতায় কিছু মৌলিক পরিবর্তন আনতে হবে।

কী কী ধরনের মৌলিক পরিবর্তন তারা চান সেই বিষয়গুলো তুলে ধরে নুর বলেন, কেউ দুই-তিনবারের বেশি প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি হতে পারবেন না৷ গণমাধ্যমের ওপর সরকারের কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকবে না৷ বিচার বিভাগকে স্বাধীন করতে হবে৷ স্বায়ত্ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলোতে সরকার কোনো হস্তক্ষেপ করতে পারবে না৷ আমরা এই ধরনের কিছু জনসম্পৃক্ত দাবি দাওয়া ঠিক করছি৷ এর ভিত্তিতেই আমরা স্বৈরাচার পতনের আন্দোলন করবো বা সরকার বিরোধী আন্দোলন করবো৷ এই দাবি-দাওয়া চূড়ান্তের আগে আমরা সরকারবিরোধী আন্দোলন করবো না।

নিজেদের দলে ভেড়ানোর জন্য বিভিন্ন রাজনৈতিক দলই তার সঙ্গে যোগাযোগ করে৷ এমনকি আওয়ামী লীগও তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছে বলে দাবি করে নুর জানান, এই মুহূর্তে কোনো দলেই যোগ দেবেন না, বরং বর্তমান রাজনৈতিক ব্যবস্থার পরিবর্তন চাইবেন৷ জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি নিয়ে আরেক প্রশ্নের জবাবে নূর বলেন, ৭১-এ তাদের ভূমিকা ছিল নিন্দনীয়।

সম্প্রতি নুরসহ বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র পরিষদের কয়েকজন নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে দুটি মামলা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী৷ প্রথম মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের স্নাতকোত্তর উত্তীর্ণ হাসান আল মামুনকে৷ দ্বিতীয় মামলায় প্রধান আসামি একই সংগঠনের আরেক যুগ্ম আহ্বায়ক নাজমুল হাসান সোহাগ৷ এরই মধ্যে হাসান আল মামুনকে পরিষদের আহ্বায়কের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে৷ এ বিষয়ে নুর বলেন, ‘হাসান আল মামুন ও নাজমুল হাসান ছাড়া অন্যদের বিরুদ্ধে ছাত্রী নির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ আনতে পারেননি৷ ছাত্রীর সঙ্গে হাসান আল মামুনের সম্পর্ক ছিল৷ এই সম্পর্ককে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে মামলা করা হয়েছে৷ নুর জানান, দুই থেকে আড়াই মাস আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই ছাত্রী ঢাকার বাইরে থেকে একবার তাকে ফোন দিয়েছিলেন৷ সমস্যায় পড়ার কথা বলে সহযোগিতা চেয়েছিলেন৷ ঢাকায় এসে বিস্তারিত বলবেন বললে ওই ছাত্রী তার সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ করেননি। সে বলেছে, নীলক্ষেতে আমি তার সঙ্গে বসেছিলাম বিষয়টি সমাধান করার জন্য৷ সেখানে নাকি বাড়াবাড়ি না করার জন্য তাকে হুমকি দিয়েছিলাম৷ আমি বলেছি, প্রমাণ করতে পারলে সমস্ত অভিযোগ মেনে নেবো৷ এই বিষয়ে সে কোনো তথ্য প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেনি৷
রিজভী বলেন, ষড়যন্ত্র ও চক্রান্তের মাধ্যমে রাজোচিত জীবন নির্বাহ যাতে ব্যাহত না হয়, সেজন্যই ওবায়দুল কাদের সাহেবরা কানা গলি দিয়ে কখনো বিনা ভোটে, কখনো নিশিরাতের ভোটে ক্ষমতায় আছেন। অলি-গলি ওবায়দুল কাদের সাহেবদেরই অবলম্বন করতে হয়। কারণ তারা ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়ে জনগণকে দুঃসহ জীবন-যাপনে বাধ্য করে অবৈধভাবে ক্ষমতা ধরে রেখেছেন।

'পাকিস্তানি গোয়েন্দাদের সঙ্গে বিএনপির দহরম-মহরম বহু পুরনো'- তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদের এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে বিএনপির এ নেতা বলেন, হঠাৎ করে তথ্যমন্ত্রীর এ ধরনের উদ্ভট বক্তব্য জনগণের মনে ঘোরতর সন্দেহের সৃষ্টি করেছে। মনে হয় তার মন্ত্রীত্ব এখন টালমাটাল অবস্থায় আছে। আওয়ামী লীগের জন্ম ও বিকাশ দেশি-বিদেশি গোয়েন্দাদের ল্যাবরেটরিতে। হাছান মাহমুদ সাহেব আপনি ভারতের প্রয়াত রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির রচিত বইটি পড়ে দেখুন, কীভাবে তিনি জেনারেল মঈন ইউ আহমেদকে ম্যানেজ করেছিলেন শেখ হাসিনার পক্ষে।

শনিবার পাবনা-৪ আসনের উপ-নির্বাচন চলছে উল্লেখ করে রিজভী বলেন, নির্বাচনকে ঘিরে কয়েকদিন থেকেই চলছে ধানের শীষের প্রার্থীর সমর্থক ও নেতাকর্মীদের ওপর আওয়ামী সন্ত্রাসীদের জুলুম-নির্যাতন। পাশাপাশি চলছে পুলিশি ধরপাকড়।
আজ নির্বাচন চলাকালে বিএনপির কোনো এজেন্টকে ভোটকেন্দ্রে ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না। আওয়ামী সন্ত্রাসীরা ভোটকেন্দ্রের বাইরে ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করে ভোটারদেরও ভোটকেন্দ্রে ঢুকতে দিচ্ছে না। শুধুমাত্র আওয়ামী সন্ত্রাসীরা কেন্দ্রে ঢুকে ভোট দিচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, চাঁদপুর সদর পৌরসভার আসন্ন মেয়র নির্বাচনে গত শুক্রবার নির্বাচনী প্রতীক আনার জন্য ধানের শীষের প্রার্থী ও তার সমর্থকরা রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে গেলে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা তাদের ওপর আকস্মিক হামলা চালায়। হামলায় বিএনপির ৪০ থেকে ৫০ জন নেতাকর্মী গুরুতর আহত হন।

এবিএন/মমিন/জসিম

এই বিভাগের আরো সংবাদ