নতুন নেতৃত্ব আসছে জবি ছাত্রলীগ

  বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক

২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২১:০১ | অনলাইন সংস্করণ

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শাখা ছাত্রলীগের কমিটিতে শীর্ষ স্থান পেতে দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাসহ শীর্ষ পর্যায়ে নেতাদের পেছনে ঘুরছেন অনেকে।

২৭ আগষ্ট আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা জাহাঙ্গীর কবির নানক সেপ্টেম্বরের মধ্যে ছাত্রলীগের সকল ইউনিটের কমিটির কথা বললে আবারো পুরোদমে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের নেতারা।

পদ প্রত্যাশীদের অনেকেই ৫ জানুয়ারি ২০১৪ এর আগে রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন না। এজন্য যারা ছাত্রলীগের সেই দুঃসময়ে রাজনীতি করছেন তারা মনে করছেন এরা ছাত্রলীগে অনুপ্রবেশকারী।

এছাড়া যারা শরীফ সিরাজ কমিটিতে অথবা বর্ধিত কমিটিতে ছিলেন তাদের কারো বিরুদ্ধে রয়েছে বিস্ফোরক মামলা, কারো শেষ হয়েছে বয়স আর কারো বিরুদ্ধে আছে ছাত্রলীগ থেকে স্থায়ী বহিস্কারেরও অভিযোগ। তবে এসব বিতর্কিত নেতা কর্মীরাই পদ প্রত্যাশীদের দৌড়ে এগিয়ে আছেন বলে জানা যায়।

অনুসন্ধানে জানা যায়, কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য'র অনুসারী হিসেবে সক্রিয় আছেন সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম টিটন। তি‌ন স্বীকার করে বলেন, তার বয়স নেই। তবে সম্মেলন পর্যন্ত বয়স ছিলো বলে দাবি তার।

ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের সংঘর্ষের ঘটনায় বিস্ফোরক ও অস্ত্র মামলার ৩ নাম্বার আসামি তিনি৷গত কমিটির শীর্ষ পদপ্রত্যাশীও ছিলেন এই নেতা। পরবর্তী কমিটিতে সহ-সভাপতি হয় এবং ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতা হওয়ার লোভে পদ থেকে অব্যাহতি নেন। এছাড়াও সাধারণ সম্পাদক এর অনুসারী হিসেবে এগিয়ে আছেন আক্তার হোসেন, অঞ্জন চৌধূরী পিংকু, শাহবাজ হোসাইন বর্ষণ, আসাদুজ্জামান আসাদ এবং আব্দুল্লাহ শাহীন প্রমুখ।

এদের মধ্যে আব্দুল্লাহ শাহীন রাজনীতিতে সক্রিয় হোন ২০১৭ সালের পর। তার বিরু‌দ্ধে শি‌বির করার অ‌ভিযোগ থাক‌লেও নিজেকে তাবলীগ জামাতের সাবেক কর্মী বলে স্বীকার করেন।

সদ্য সাবেক জবি ছাত্রলীগের দপ্তর সম্পাদক শাহবাজ হোসাইন বর্ষণ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য ইকবাল হোসেন এমপির ভাগ্নে। রাজনীতিতে সক্রিয় না থাকলেও তরিক-রাসেল কমিটিতে সিন্ডিকেটের জোরে গুরুত্বপূর্ণ এ পদে আসীন হন তিনি।

এই নেতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী হলেও এখন পর্যন্ত দ্বিতীয় বর্ষের গণ্ডি পার করতে পারেনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মে সাত বছরের মধ্যে স্নাতক-স্নাতকোত্তর শেষ করার নিয়ম থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিশেষ সুবিধায় তার ছাত্রত্ব টিকে আছে।

কেন্দ্রীয় সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় এর আনুসারী হিসেবে পদ পত্যাশী আছেন ইব্রাহীম ফরাজী, সৈয়দ শাকিল, আল আমিন শেখ এবং জামাল উদ্দিন,নাহিদ পারভেজ, নুরুল আফসার প্রমুখ। এদের মধ্যে শেখ জামাল গত বছরের ২০ জুলাই ছাত্রলীগের সম্মেলনের সঞ্চালক ছিলেন। সম্মেলনে একজন ছাত্রলীগ কর্মীর মৃত্যু হলেও তিনি সেটি গোপন করেন। কোন ব্যবস্থাও গ্রহণ করেন নি।সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ শাকিল প্রশ্ন ফাঁসের সাথে জড়িত তার পেছনে রয়েছেন আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের শীর্ষ পর্যায়ের একাধিক নেতা। সাবেক কমিটির উপ-মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক নাহিদ পারভেজও আছেন আলোচনায়,এই নেতা ক্যাম্পাসে দীর্ঘদিন রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয় ছিলেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক নেতাদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন৷

জবি ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি আল আমীন শেখ আওয়ামীলীগের এক প্রেসিডিয়াম মেম্বার কাছে নিয়মিত ধরণা দিচ্ছেন এই প্রেসিডিয়াম মেম্বারের পি এস এর মাই ম্যান হিসেবেও পরিচিত এই নেতা কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের উপ-আপ্যায়ন বিষয়ক সম্পাদক হারুন-অর-রশিদের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকি নাজমুল আলমের অনুসারী। জবি ছাত্রলীগের সাবেক এই সহ-সভাপতি আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেনের ঘনিষ্ঠ বলেও পরিচিত৷

জবি ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইব্রাহিম ফরাজি যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য নুরুন্নবী চৌধুরী শাওনের অনুসারী হিসাবে পরিচিত। এ নেতার অনুসারী ছাত্রলীগ কর্মী রবিউল ইসলাম রবি সিআইডির প্রশ্ন ফাঁস তালিকার আসামি।

জবি ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হোসনে মোবারক রিসাদ তরিকুল-রাসেল কমিটির গঠনের ১৫ দিনের মধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয় টিএসসিতে চাঁদাবাজির ও মারামারির অভিযোগে ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কৃত হন। তরিকুল-রাসেল কমিটি ভাঙার পরেও টিএসসি, ফটোকপির দোকান, লেগুনা স্টান্ড থেকে চাঁদাবাজির অভিযোগ আছে।

কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ কমিটি দেওয়া বিষয়ে জানান, আমরা প্রতিনিয়ত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে কথা বলে কমিটির বিষয়ে তার পরামর্শ নিচ্ছি।

জবি ছাত্রলীগের নতুন নেতৃত্ব কেমন চান? এমন প্রশ্নের জবাবে বিশিষ্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষক জবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান বলেন, ছাত্রলীগের নেতৃত্বে ছাত্ররাই আসা উচিৎ যারা বর্তমানে অধ্যায়রত। এমন নেতৃত্ব না আসুক যারা সন্ত্রাসী, রাহাজানি, বিভিন্ন অপকর্মের সঙ্গে জড়িত। ছাত্রলীগ নেতা হবে সাধারণ ছাত্রছাত্রীর প্রতিনিধি। যারা হবে দেশ ও জাতির জন্য মঙ্গলজনক।

উল্লেখ্য, জবি শাখা ছাত্রলীগের কমিটি ২০১৮সালের ১৭ নভেম্বর মো.তরিকুল ইসলাম কে সভাপতি ও শেখ জয়নুল আবেদিন রাসেল কে সাধারণ সম্পাদক করে ৩৯ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিলো। এর পরেই সাংগঠনিক সম্পাদক ও যুগ্ন সাধারণ সম্পাদকসহ কয়েকজনকে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অপরাধে ছাত্রলীগ থেকেই বহিস্কার করা হয়।

এরই ধারাবহিকতায় প্রেমঘটিত কারণে দিনভর সংঘর্ষের জেরে গত বছরের ১৯ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী এই শাখা ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করে। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের সকল সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থগিত করে।

এবিএন/মমিন/জসিম

এই বিভাগের আরো সংবাদ