ঢাকা নির্ভর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়!

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২২ জুলাই ২০১৯, ১৭:৪৫

অনেকটা ঢাকা নির্ভর হয়ে পরেছে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি)। বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ নিয়োগ পাওয়ার পর ঢাকাস্থ বেরোবি’র লিয়াঁজো অফিস উদ্বোধন করেন। তিন থেকে চার মাস বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সিনেট, সিন্ডিকেট, অর্থ কমিটির সভা করলেও পরে ধারাবাহিকভাবে এসব সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে ঢাকাস্থ লিয়াজো অফিসে। শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগের পরীক্ষা ও সাক্ষাতকার থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ স্বাক্ষরের জন্যও ঢাকায় যেতে হচ্ছে শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের। এমনকি নিয়মবহির্ভুত শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ফাউন্ডেশন ট্রেনিংও ঢাকায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের লক্ষ লক্ষ অর্থ যেমন অপচয় হচ্ছে তেমনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসকে অবমাননা করা হচ্ছে বলে মনে করছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

জানা যায়, বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ নিয়োগ পাওয়ার পরেই ঢাকাস্থ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের লিয়াঁজো অফিস উদ্বোধন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে সু-সজ্জিত সিনেট কক্ষ ও কলফারেন্স রুম থাকা সত্ত্বেও ধারাবাহিক ভাবেই সিনেট, সিন্ডিকেট, অর্থ কমিটির সভা ঢাকাস্থ লিয়াজো অফিসে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি সিন্ডিকেটের ৬২তম ও অর্থ কমিটির ২৬তম সভা অনুষ্ঠিত হয় লিয়াজো অফিসে। সেখানে সিন্ডিকেট ও অর্থকমিটি মিলে ১৬জন সদস্য উপস্থিত ছিলেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারি উপস্থিত ছিলেন ১০জন।

১৬ জন সদস্য এর মধ্যে ১২ জনই রংপুরে অবস্থান করেন। যাদের টিএ/ডিএ বাবদ লক্ষ লক্ষ টাকা ব্যয় করছেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয়ের এত সু-সজ্জিত অবকাঠামো থাকতে কেন বারবার ঢাকায় বিভন্ন সভা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ অপচয় হচ্ছে? এমন প্রশ্ন শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের।

এদিকে বারবার ঢাকয় সিন্ডিকেট সভা আহ্বান করার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে ৬২তম সিন্ডিকেট সভা বয়কট করেন দুই সিন্ডিকেট সদস্য বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষক সাবেক প্রক্টর অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম ও শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক মাযহারুল আনোয়ার।

এ ব্যাপারে সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক গাজী মাযহারুল আনোয়ারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে সব ধরনের অবকাঠামো থাকার পরেও উপাচার্য কী কারণে সিন্ডিকেট সভা ঢাকায় আহ্বান করেন? এতে অর্থের অপচয়সহ অনেক বিতর্কের সৃষ্টি হয়। শিক্ষক সমিতি বারবার উপাচার্যকে ঢাকায় সিন্ডিকেট সভা আর নিয়োগ বোর্ড করার ব্যাপাওে প্রতিবাদ জানিয়েছে। তাছাড়া শিক্ষক সমিতি সাধারণ সভা করে এ ধরনের কর্মকান্ডের বিরোধিতা করেছে। ফলে আমি মনে করি এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়কে এবং রংপুর অঞ্চলের মানুষকে অপমানিত করা হচ্ছে।’ সার্বিক কারণে সিন্ডিকেট সভা বয়কট করার সিদ্ধান্ত নেই। সেই সঙ্গে পরবর্তী সিন্ডিকেট ও অন্যান্য সভা যেন ক্যাম্পাসেই হয় সেজন্য আহবান জানান তিনি।

এদিকে ক্যাম্পাসে উপাচার্যের ধারাবাহিক অনুপস্থিতির সুযোগ নিচ্ছেন কিছু শিক্ষক-কর্মকর্তা। বিভিন্ন অনিয়মে বারবার উত্তপ্ত হয়ে উঠছে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। সম্প্রতি তিন দফা দাবিতে টানা ২৫ দিন সর্বাত্মক কর্মবিরতি পালন করে আসছে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেনীর কর্মচারীদের সংগঠন কর্মচারী সমন্বয় পরিষদ। টানা কর্মবিরতিতে কার্যত অচল হয়ে পরেছে বেরোবির একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম। ভয়াবহ সেশনজটের মুখে পতিত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। বারবার আলোচনায় বসলেও এর সুষ্ঠু সমাধান করছেনা উপাচার্য বলে অভিযোগ কর্মচারীদের। সূত্রে জানা যায়, উপাচার্য ২০১৭ সালের ১৪ জুন বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেওয়ার পর গত ২৮ মার্চ পর্যন্ত ৬৫২ দিন অতিবাহিত হয়েছে। শিক্ষক-কর্মকর্তাদের সূত্রগুলো বলছে, এর মধ্যে উপাচার্য ৪৬৫ দিনই ক্যাম্পাসে অনুপস্থিত ছিলেন। এ নিয়ে গণমাধ্যমে খবরও প্রকাশিত হয়েছে। রেজিস্ট্রার আবু হেনা মোস্তফা কামালও ক্যাম্পাসে উপস্থিত থাকেনা বলে অভিযোগ রয়েছে।

সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ বলেন, ‘আমি এখন নিয়মিত ক্যাম্পাসে থাকছি। সার্বিক মঙ্গলের জন্যই ঢাকাস্থ লিয়াজো অফিসে এসব সভা করা হয় বলেও জানান তিনি।’

এবিএন/ইভান/জসিম/রাজ্জাক

এই বিভাগের আরো সংবাদ