রাবিতে বঞ্চিত শিশুদের পাঠশালা ‘আলোর দিশারী’

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২২ এপ্রিল ২০১৯, ১৬:৪৫

সেদিন ছিল পহেলা বৈশাখ ! বছরের প্রথম দিনটিকে ঘিরে কত আয়োজন! ক্যাম্পাস জুড়ে বৈশাখী আমেজ, চারদিকে কোলাহল। সারাদিন বন্ধু -বান্ধবীদের সাথে আড্ডা-গানের পর বিকেলে বড় ভাইদের সাথে বৈশাখী অনুষ্ঠান দেখতে গেলাম চারুকলায়। চারদিকে হৈ চৈ, উৎসবে আনন্দ সবাই দিনটিকে উদযাপন করছে। হঠাৎ করে গরমে শরীর খুব ক্লান্ত লাগছিলো, লোকজনের কোলাহল থেকে বেড়িয়ে স্বস্তি নিশ্বাস ফেলতে গেলাম কৃষি অনুষদে ভিতরে।

চারুকলা ভবনের ঠিক বাম পাশে কৃষি অনুষদ ভবন। প্রবেশ করতেই হঠাৎ নজরে পড়লো অভিনব পাঠশালা। বারান্দার ফ্লোরে  শিশুরা পড়ছে, আর কয়েকজন তাদের পাঠদান করাচ্ছিলো। শিশুরা সবাই মনোযোগী হয়ে ব্লাকবোর্ড দিয়ে তাকিয়ে আছে। বিষয়টা একটু অবাকই লাগলো, সবাই যখন আনন্দে মাতোয়ারা আর ওরা এখানে পড়াশোনা করছে? মনে হল এদের কি বৈশাখী হাওয়া লাগে নি? আগ্রহ জাগলো বিষয়টা জানার। কৌতুহল বশত তাদের পাঠদান দেখতে গেলাম। যাবার পর জানতে পারলাম কয়েকজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী পাশ্ববর্তী এলাকার সুবিধা বঞ্চিত, গরীব  শিক্ষার্থীদের  নিয়ে গড়ে তুলেছে পাঠশালা তাও সম্পূর্ণ বিনা বেতনে !

 আগ্রহবশত জানতে চাইলে পাঠশালাটির মূল উদ্দ্যোক্তা বিশ্ববিদ্যালয় চারুকলা বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ কর্মসূচি ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপ -সম্পাদক সৌমিত্র কর্মকার রানা তুলে ধরেছেন তাদের পরিকল্পনার কথা। পাঠশালাটির নাম “আলোর দিশারী”। এটা শিক্ষা বিষয়ক ছোট পাঠশালা। শিক্ষার আলোয় সমাজকে আলোকিত করার স্বপ্ন নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কয়েকজন শিক্ষার্থী মিলে পরিকল্পনা মোতাবেগ আলোর দিশারী নামক পাঠশালা গড়ে তুলেছেন।

 সবাই অতি দরিদ্র পরিবার থেকে উঠে এসেছেন, কত অবহেলা, কত বঞ্চনা সহ্য করে করে এ পর্যন্ত আসতে হয়েছে সেটা বুঝা বড় কষ্টকর। কেও যেনও অভাবে তাদের মতো সমস্যা তৈরি না হয়। তাই এটা তাদের ক্ষুদ্র প্রয়াস। সুবিধা বঞ্চিতদের বিনামূল্যে পাঠদান করানো হবে। অনেক মেধাবী শিশুরা অর্থের অভাবে তাদের স্বপ্নকে জয় করতে পারে না, অকালে ঝরে পড়ে। তাদের পাশে দাড়াতে তাদের ক্ষুদ্র প্রচেষ্ঠা। এই পাঠদান কর্মসূচী মূলত গরীব শিক্ষার্থীদের অনুপ্রেরণা ও ভবিষ্যতে অগ্রপথিক হিসেবে কাজ করবে। আলো দিশারী শিক্ষার্থীদের মাঝে মনোবল বৃদ্ধি করে দিবে। সুবিধা বঞ্চিত শিক্ষার্থীদের স্বপ্নের সারথী হয়ে কাজ করবে।

কৃষি অনুষদের বারান্দায় ফ্লোরিং করে এ পাঠশালা কার্যক্রম চলছে, বিকাল ৫টা যখন একাডেমিক পড়া শেষ হয় তখন বিশ্বদ্যিালয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা ওসব ছেলে - মেয়েদের  পাঠদান কার্যক্রম শুরু করে। প্রতি সপ্তাহে তিন দিন নেয়া হয় ক্লাস। এখন পর্যন্ত তাদের মোট শিক্ষার্থী অর্ধশতাধিক। দিনদিন স্কুলের জনপ্রিয়তা বাড়ছে বলে জানান কতৃর্পক্ষ। প্রতিটি ক্যাম্পাসে তথা সারাদেশব্যপী এর কার্যক্রম ছড়িয়ে দেয়ার লক্ষ্য কাজ করে যাচ্ছে। উদ্দ্যেশ একটাই শিক্ষার আলো সবার মাঝে পৌঁছে দিবে। অর্থের অভাবে কেও যেন অকালে ঝড়ে না পড়ে। শিক্ষার আলোয় আলোকিত হবে প্রতিটি ঘর,দেশ শিক্ষার হার বৃদ্ধি পাবে। সবাই নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করবে উন্নত পর্যায়ে তাহলে তাদের স্বার্থকতা।

বিনামূল্যে শিক্ষার সুযোগ পেয়ে আনন্দিত সেই শিশুরা জানালো তাদের মনের অভিব্যক্তি, বিশ্ববিদ্যালয় বড় ভাইয়েরা আমাদের বিনামূল্যে শিক্ষার সুযোগ করে দিয়েছে তাতে আমাদের পড়াশোনা ঠিকমত চালাতে পারছি এবং এখান থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে দেশ সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করবো পাশাপাশি ভাল কিছু করবো।

দেশে এমন কিছু স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন যারা নিঃস্বাথে কাজ করে যাচ্ছে, নিরবে, বিনা পারশ্রমিকে শিক্ষার আলোয় আলোকিত করতে কাজ করে যাচ্ছে। দেশ তাদের মনে রাখবে, রাখবে  সুবিধা নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হওয়া মানুষগুলো। এভাবে শিক্ষার আলোর আলোকিত করবে সমাজ এবং আলো ছড়িয়ে দিবে সর্বত্র এমনটাই প্রত্যাশা


এবিএন/উমর ফারুক/জসিম/তোহা

এই বিভাগের আরো সংবাদ
well-food