জবিতে কবি মাশরেকীর জন্ম শতবার্ষিকী উদযাপন

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০১ এপ্রিল ২০১৯, ১৬:৫৮

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) গীতিকবি আব্দুল হাই মাশরেকীর জন্মশত বার্ষিকী জাঁকজমক সাংস্কৃতিক ও আলোচনা সভার মাধ্যমে পলিত হয়েছে। আজ সোমবার বেলা ১১ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে  কবির জন্মদিন উদযাপনে ওপার বাংলা এপার বাংলার কবি ও সাংস্কৃতিক ব্যাক্তিদের একটি মিলন মেলায় পরিণত হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে জবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় একটি সাংস্কৃতিবান বিশ্ববিদ্যালয় অর্থাৎ একটি সাংস্কৃতিক বিশ্ববিদ্যালয়ে রুপান্তরিত হচ্ছে। দেশ যখন জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে স্বাধীন হয়, তখন একটি জায়গায় ছিল বাঙ্গালীত্ব ও বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদ। বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদের যত অনুকরনীয় আছে, এসব নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে এগিয়ে যেতে হবে। আমরা ধনী হচ্ছি। কিন্তু জাতির জনকের স্বপ্নের সোনার বাংলার স্বপ্নে এগুলো ছিল না।

জাতির জনকের স্বপ্নের সোনার বাংলা ছিল সবাই মিলে মিশে বাংলাদেশ। ধনী-গরিব, হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রীষ্টান সবাই মিলে একটি বহুমাত্রিক বাংলাদেশ। ধনীদেশ পৃথিবীতে অনেক ছিল। কিন্তু তারা একসময় হারিয়ে গেছে। কারণ তারা তাদের সংস্কৃতি ধরে রাখতে পারেনি। সাংস্কৃতিকভাবে ধনী হতে না পারলে ডলারের ধনী টিকে না। যদি আমরা আমাদের সংস্কৃতিকে ধারণ করতে না পারি তাহলে আমরাও টিকবো না।

তিনি আরো বলেন, আমরা একবার দ্বি-জাতির অযুহাতে বিভক্ত হয়েছি। কিন্তু অনেকেই বলে আমরা অসাম্প্রদায়িক ছিলাম। আমরা আসলে অসাম্প্রদায়িক ছিলাম না। আমরা এখন হিন্দু মুসলমান মিলে একসাথে খাচ্ছি, একই প্লেটে খাচ্ছি। আমরা কেবল মাত্র অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু আজ থেকে ৩০ বছর আগে আমরা কল্পনা করতে পারিনি।

 অসাম্প্রদায়িক সোনার বাংলার বিনির্মানে সবাইকে নিয়ে চলা, সবাইকে ধারণ করার বিষয়গুলো, সোনার বাংলা বিনির্মানের মর্মার্থ কবি আবদুল হাই মাশরেকীর গানের মধ্যেই আছে। তার গানগুলো আমরা যতই চর্চা করবো ততই অসাম্প্রদায়িক উদার বাংলাদেশ তথা জাতির জনকের সোনার বাংলা তৈরী করতে পারবো।

অনুষ্ঠানে সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব শংকর সাঁওজাল বলেন, কবি মাশরেকীকে রাষ্ট্রীয় ভাবে স্মরণ করতে হবে। এখন সময় এসেছে তাকে রাষ্ট্রীয় ভাবে স্মরণ করার। কোন একটি ভুলের কারনে বাংলা ও বাঙ্গালীর অনেক সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হারিয়ে যাচ্ছে। অন্তত তাদের অকৃত্রিম কৃতকর্ম গুলো তাদের স্বীয় নামে থাকতে দেয়া উচিত।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জবি ট্রেজারার অধ্যাপক সেলিম ভূঁইয়া, চিত্রশিল্পী নাজমা আক্তর, ওপার বাংলার কবি সৈয়দ হাসমত জালাল, মাশরেকী পরিষদের সভাপতি মাহবুবে আলম প্রমুখ।


এবিএন/মোস্তাকিম ফারুকী/জসিম/তোহা

এই বিভাগের আরো সংবাদ
well-food