ডাকসু

পুনঃ তফসিলের দাবিতে ছয় শিক্ষার্থীর আমরণ অনশন চলছে

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৩ মার্চ ২০১৯, ১২:৩৫

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সদ্য শেষ হওয়া নির্বাচন বাতিল করে পুনরায় তফসিল ঘোষণার দাবিতে অনশন করছেন চার প্রার্থীসহ ছয়জন।

মঙ্গলবার (১২ মার্চ) সন্ধ্যায় থেকে প্রথমে চার প্রার্থী অনশন শুরু করেন। পরে তাদের সঙ্গে দুজন সাধারণ শিক্ষার্থীও অনশনে যোগ দেন।

অনশনকারী চার প্রার্থী হলেন, ডাকসু নির্বাচনে শহীদুল্লাহ হল সংসদের সাহিত্য সম্পাদক পদের প্রার্থী শোয়েব মাহমুদ, মুহসিন হল সংসদের সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদের প্রার্থী মো. মাঈন উদ্দিন, জগন্নাথ হল সংসদের সদস্য পদের প্রার্থী অনিন্দ্য মণ্ডল এবং কেন্দ্রীয় সংসদের ছাত্র পরিবহন পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী তাওহীদ তানজীম। দুজন সাধারণ শিক্ষার্থী হলেন, আল মাহমুদ ত্বাহা ও রাফিয়া তামান্না।

অনশনে বসা শিক্ষার্থী অনিন্দ্য মণ্ডল বলেন, ১১ মার্চ একটি নিয়ন্ত্রিত নির্বাচন হয়েছে। সেই নির্বাচনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনে থাকা শিক্ষকেরা ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রসংগঠনের পক্ষে নির্লজ্জভাবে কাজ করেছেন। আমরা পুনরায় নির্বাচন যেমন চাই, সেই নির্বাচনের তফসিলের আগে সেসব শিক্ষকের পদ থেকে অব্যাহতি চাই। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমাদের অনশন চলবে।

অনশনকারীদের পক্ষে তাওহীদ তানজিম বলেন, অনেক আশা নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলাম। কিন্তু ভোটের লাইনে ইচ্ছাকৃতভাবে দীর্ঘ সময় ধরে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেছি প্রভাবশালীদের। যত উপায়ে সম্ভব, ঠিক সেভাবেই নির্বাচনকে অরাজক করেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এগুলো সহ্য করার মতো নয়। সে পরিপ্রেক্ষিত থেকে অনশনে বসা।

উল্লেখ্য, দীর্ঘ ২৮ বছর পর সোমবার (১১ মার্চ) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

নির্বাচনের ঘোষিত ফলাফলে নূরুল হক নূর পান ১১ হাজার ৬২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী সম্মিলিত শিক্ষার্থী সংসদের ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন পেয়েছেন ৯ হাজার ১২৯ ভোট।

জিএস গোলাম রাব্বানী ১০ হাজার ৪৪৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী কোটা আন্দোলনের নেতা মো. রাশেদ খাঁন পেয়েছেন ৬০৬৩ ভোট।

এজিএস সাদ্দাম হোসেন ১৫ হাজার ৩০১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ফারুক হোসেন পেয়েছেন ৮৮৯৬ ভোট।

এছাড়া স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক পদে সাদ বিন কাদের চৌধুরী ১২ হাজার ১৮৭, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক পদে আরিফ ইবনে আলী ৯ হাজার ১৫৪, কমনরুম ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক পদে লিপি আক্তার ৮ হাজার ৫২৪, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক পদে শাহরিমা তানজিম অর্নি ১০ হাজার ৬০৪, সাহিত্য সম্পাদক পদে মাজহারুল কবির শয়ন ১০ হাজার ৭০০, সংস্কৃতি সম্পাদক পদে আসিফ তালুকদার ১০ হাজার ৭৯৯, ক্রীড়া সম্পাদক পদে শাকিল আহমেদ তানভীর ৯ হাজার ৪৭, ছাত্র পরিবহন সম্পাদক পদে শামস-ঈ-নোমান ১২ হাজার ১৬৩ ও সমাজসেবা সম্পাদক পদে আখতার হোসেন ৯ হাজার ১৯০ ভোটে বিজয়ী হয়েছেন।

১৩টি সদস্য পদে বিজয়ীরা হলেন- যোশীয় সাংমা চিবল ১২ হাজার ৮৬৮, মো. রাকিবুল ইসলাম ঐতিহ্য ১১ হাজার ২৩২, তানভীর হাসান সৈকত ১০ হাজার ৮০৫, তিলোত্তমা সিকদার ১০ হাজার ৪৬৬, নিপু ইসলাম তন্বী ১০ হাজার ৩৯৩, রাইসা নাসের ৯ হাজার ৭৬৮, সাবরিনা ইতি ৯ হাজার ৪৫০, মো. রাকিবুল হাসান রাকিব ৮ হাজার ৬৭৩, নজরুল ইসলাম ৮ হাজার ৫০৯, মোছা. ফরিদা পারভীন ৮ হাজার ৪৬৯, মুহা. মাহমুদুল হাসান ৭ হাজার ৯৭৮, মো. সাইফুল ইসলাম রাসেল ৭ হাজার ৮১২ ও মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম সবুজ ৬৫১৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন।

এই নির্বাচনে ৬টি প্যানেল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা অংশ নিলেও ছাত্রদল, বাম দলগুলোর জোট, ছাত্র ফেডারেশনের প্রার্থীরা হল ও কেন্দ্রী সংসদের কোনও পদেই জয় পায়নি। অবশ্য সোমবার ভোট ভোট শেষ হওয়ার কিছুক্ষণ আগে নানা অনিয়মের অভিযোগে ভোট বর্জন করে পুনরায় নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলন করছেন তারা।

এবিএন/শংকর রায়/জসিম/পিংকি

এই বিভাগের আরো সংবাদ