নবনির্বাচিত ভিপি-জিএসকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত ডাকসু

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৩ মার্চ ২০১৯, ১২:২২ | আপডেট : ১৩ মার্চ ২০১৯, ১২:২৫

নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে দীর্ঘ ২৮ বছর পর সোমবার (১১ মার্চ) অনুষ্ঠিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে ছাত্রলীগ।

ভিপি নির্বাচিত হয়েছেন কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতা ও সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ প্যানেলের প্রার্থী নুরুল হক নূর এবং সাধারণ সম্পাদক (জিএস) হয়েছেন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী।

নব-নির্বাচিত ভিপি-জিএসকে স্বাগত জানাতে ইতোমধ্যেই প্রস্তুত করা হয়েছে ডাকসু ভবন।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ডাকসু ভবন নতুন রঙে সাজিয়ে রেখেছে।পারিপাটি করা হয়েছে ভিপি-জিএসসহ সবার সব কক্ষ। কক্ষগুলোর ভেতরে ডাকসু নথিপত্র রাখার আলমারি ও অন্যান্য আসবাবপত্রও সুসজ্জিত। ডাকসু সংগ্রহশালায় নতুন ভিপি-জিএসদের নাম লেখার জন্য আনা হয়েছে নতুন অনার বোর্ড।

শিক্ষার্থীদের মনে এখন প্রশ্ন- কবে ভিপি-জিএস তাদের চেয়ার বসবেন? শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে কাজ শুরু করবেন? সেই অপেক্ষার প্রহর গুনছেন ঢাবি শিক্ষার্থীরা।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও ডাকসুর সভাপতি বলেন, নির্বাচনে জয়-পরাজয়ে আমার ছাত্রদের অনেকের মধ্যে দুঃখ-কষ্ট আছে। তারা ফ্রি (শান্ত) হোক, স্থির হোক।

নির্বাচনের একদিন পর ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তজেনা লক্ষ্য করা গেছে।

মঙ্গলবার (১২ মার্চ) দুপুরে ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসটি) এলাকায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সাথে অন্য সব সংগঠনের নেতাকর্মীদের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। সারা দিন হামলা, উত্তেজনা, বিক্ষোভ, মিছিল, সমাবেশ আর নানা নাটকীয়তার পর বিকালে নতুন ভিপি নুরকে বরণ করে নেয় ছাত্রলীগ। টানটান উজেত্তনার এক প্রকার অবসান ঘটে।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে ছাত্রলীগ সভাপতি মো. রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন বলেন, অনেক সময় বড় কিছুর জন্য নিজেকেও বলি দিতে হয়। ডাকসুর ভিপি কোনো নির্দিষ্ট সংগঠনের নয়, ডাকসুর ভিপি সবার। নুরুল হক ভিপি হয়েছে, সে আমার ছোট ভাই এবং ছোট ভাইয়ের বন্ধু। আমি তাকে অভিনন্দন ও স্বাগতম জানাই।

শোভনের অভিনন্দন গ্রহণ করে ভিপি নুর বলেন, আমরা দুইজন ভিপি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলাম। অনেক অনিয়ম সত্ত্বেও আমি নির্বাচিত হয়েছি। শোভন ভাই আমার বড় ভাই, আমার হলের বড় ভাই। ভাইয়ের অভিনন্দনে আমি আনন্দিত। শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করতে প্রয়োজন হলে আমি শোভন ভাইয়ের সহযোগিতা চাইব।

ঘোষিত ফলাফলে নূরুল হক নূর পান ১১ হাজার ৬২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী সম্মিলিত শিক্ষার্থী সংসদের ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন পেয়েছেন ৯ হাজার ১২৯ ভোট।

জিএস গোলাম রাব্বানী ১০ হাজার ৪৪৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী কোটা আন্দোলনের নেতা মো. রাশেদ খাঁন পেয়েছেন ৬০৬৩ ভোট।

এজিএস সাদ্দাম হোসেন ১৫ হাজার ৩০১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ফারুক হোসেন পেয়েছেন ৮৮৯৬ ভোট।

এছাড়া স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক পদে সাদ বিন কাদের চৌধুরী ১২ হাজার ১৮৭, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক পদে আরিফ ইবনে আলী ৯ হাজার ১৫৪, কমনরুম ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক পদে লিপি আক্তার ৮ হাজার ৫২৪, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক পদে শাহরিমা তানজিম অর্নি ১০ হাজার ৬০৪, সাহিত্য সম্পাদক পদে মাজহারুল কবির শয়ন ১০ হাজার ৭০০, সংস্কৃতি সম্পাদক পদে আসিফ তালুকদার ১০ হাজার ৭৯৯, ক্রীড়া সম্পাদক পদে শাকিল আহমেদ তানভীর ৯ হাজার ৪৭, ছাত্র পরিবহন সম্পাদক পদে শামস-ঈ-নোমান ১২ হাজার ১৬৩ ও সমাজসেবা সম্পাদক পদে আখতার হোসেন ৯ হাজার ১৯০ ভোটে বিজয়ী হয়েছেন।

১৩টি সদস্য পদে বিজয়ীরা হলেন- যোশীয় সাংমা চিবল ১২ হাজার ৮৬৮, মো. রাকিবুল ইসলাম ঐতিহ্য ১১ হাজার ২৩২, তানভীর হাসান সৈকত ১০ হাজার ৮০৫, তিলোত্তমা সিকদার ১০ হাজার ৪৬৬, নিপু ইসলাম তন্বী ১০ হাজার ৩৯৩, রাইসা নাসের ৯ হাজার ৭৬৮, সাবরিনা ইতি ৯ হাজার ৪৫০, মো. রাকিবুল হাসান রাকিব ৮ হাজার ৬৭৩, নজরুল ইসলাম ৮ হাজার ৫০৯, মোছা. ফরিদা পারভীন ৮ হাজার ৪৬৯, মুহা. মাহমুদুল হাসান ৭ হাজার ৯৭৮, মো. সাইফুল ইসলাম রাসেল ৭ হাজার ৮১২ ও মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম সবুজ ৬৫১৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন।

এই নির্বাচনে ৬টি প্যানেল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা অংশ নিলেও ছাত্রদল, বাম দলগুলোর জোট, ছাত্র ফেডারেশনের প্রার্থীরা হল ও কেন্দ্রী সংসদের কোনও পদেই জয় পায়নি। অবশ্য সোমবার ভোট ভোট শেষ হওয়ার কিছুক্ষণ আগে নানা অনিয়মের অভিযোগে ভোট বর্জন করে পুনরায় নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলন করছেন তারা।

এবিএন/শংকর রায়/জসিম/পিংকি

এই বিভাগের আরো সংবাদ