ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

বইমেলায় নজর কেড়েছে বাংলা বিভাগের স্টল ‘চর্যা’

  অনি আতিকুর রহমান

২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২১:৫৩ | অনলাইন সংস্করণ

গতকাল রাতে শেষ হয়েছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও অমর একুশে স্মরণে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) তিনদিনব্যাপি বইমেলা-২০১৯। দীর্ঘদিন পর অনুষ্ঠিত মেলাকে ঘিরে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে উৎসাহ উদ্দীপনাও ছিল একটু বেশী।  জাতীয় ও বিশ্বসাহিত্যের বাহারি বইয়ের সংগ্রহ, দেশবরেণ্য ব্যক্তিত্বদের আলোচনা আর মেলা প্রাঙ্গনের মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান মাতিয়ে রেখেছিল দর্শনার্থীদের।  তবে এসবের আড়ালে এবারের বইমেলায় নজর কেড়েছে বাংলা বিভাগের স্টল ‘চর্যা’।

অনন্য নামকরণ, অকৃত্রিম স্টলসজ্জা, সাহিত্যের চিরায়ত বইয়ের বাহারি পসরা আর স্টলে একদল শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সদা হাস্যোজ্জ্বল আতিথেয়তা অনুপম করে তুলেছিল ‘চর্যা’কে। ফলে মেলায় ঘুরতে আসা ক্রেতা-দর্শনার্থীদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল বাংলা বিভাগের স্টলটি।

বাংলা বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহা. সাইদুর রহমান বলেন, ‘স্টল ডেকোরেশনে বাঙালি লোক ঐতিহ্য তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। ফলে আমাদের গ্রামীণ ও লোকজ উপাদানের সমন্বয়ে এই স্টল সাজানো হয়েছে, যাতে কৃত্রিমতা নেই।’

মেলায় ঘুরে দেখা যায়, পাঠকাঠি, মাদুর, বাঁশের ছাঁচ, বেতের চালনা, ককশিট, কাগজের ফুল-পাতা প্রভৃতি দিয়ে শৈল্পিক হাতের ছোঁয়ায় গড়া হয়েছে ‘চর্যা’র শরীর। কৃত্রিমতাকে ছাড়িয়ে লোকজ ও অমর একুশের চিত্রই মুলত ফুটে উঠেছে স্টলটির অবয়বে।

স্টলের ডিজাইনকারী ঝিনাইদহের ‘স্বপ্নচারু’ একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক শাহীন চারুদেশ বলেন, বাংলা বিভাগের চাওয়া অনুযায়ী অকৃত্রিম কদর্য উপাদানে লোকজ ও একুশের চিত্র ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছি। স্টলের কাজ দর্শনার্থীদের পছন্দ হয়েছে শুনে আমি আনন্দিত।

স্টলটি লক্ষ্য করে সামনে এগোতেই ক্রেতাদের অভ্যর্থনা জানায় বাংলা বিভাগের একদল শিক্ষার্থী আর সাহিত্যের বাহারি সব বই। বইগুলো একটু নেড়েচেড়ে দেখেতে গিয়ে চোখে পড়ে বিভাগীয় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের রচিত অন্তত অর্ধশত বই।  এ ছাড়াও বাংলা ভাষায় দেশী-বিদেশী কয়েক’শ প্রকারের বইয়ের সমাহার।  

বাংলা বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী তিষা বলেন, আমাদের স্টলে দেশী-বিদেশি প্রায় ৮’শ ধরনের বই রয়েছে।  এ ছাড়া আমাদের স্টলের ডেকোরেশনও ব্যতিক্রম। ফলে দেখতে এসেও অনেকে বই কিনে ফেলছে।  আমি নিজেও কয়েকটি বই কিনেছি।

মেলায় ঘুরতে আসা জিল্লুর রহমান জানান, বাংলা বিভাগের স্টলটি ভিন্নরকম। এখানে যেমন বইয়ের প্রচুর সংগ্রহ রয়েছে, তেমনি এর ডিজাইনটাও সবার চেয়ে আলাদা; সবার থেকে নান্দনিক। মেলা প্রাঙ্গনে দেখা মিলল বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সাইফুজ্জামানের সাথে। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন পর হলেও ক্যাম্পাসে মেলা বেশ জমে উঠেছে।  শিক্ষার্থীদের পাঠ্যাভ্যাস তৈরী করতে এবং লেখালেখিতে উৎসাহ যোগাতে এমন আয়োজন নিয়মিত হলে ভাল হবে।

এই বিভাগের আরো সংবাদ
well-food