লেগুনার দখলে জবির দ্বিতীয় ফটক

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১২:৫২ | আপডেট : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৪:৪৮

পুরনো ঢাকার ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ফটক এখন লেগুনার দখলে। কলেজিয়েট স্কুল সংলগ্ন ওই ফটকটি সবসময় লেগুনার দখলে থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ফটকটি ব্যবহার অনেক কষ্টকর হয়ে পড়েছে।

লেগুনা স্ট্যান্ড এ ছাড়াও সেখানে রয়েছে রিকশা গ্যারেজ, গণশৌচাগার, ভাতের খোলা হোটেল অপরিচ্ছন্ন চায়ের দোকান এবং রিকশা কারিগরদের দোকান বসানো রয়েছে। এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার এক যুগেও গ্যারেজ-স্ট্যান্ড সরাতে পারেনি প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ভবনের সামনে দিয়ে বের হলেই দেখা মিলে এসব দৃশ্য।

এ নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা বলেন, আমাদের ছোট একটা বিশ্ববিদ্যালয়। এমনিতেই বসার বা দাঁড়ানোর তেমন কোনো জায়গা নেই তার মাঝে আবার যদি যেটুকু আছে সেটুকুও বহিরাগতদের দখলে থাকে বা ময়লা থাকে তাহলে তো আমাদের বসা বা দাঁড়ানোর কোনো জায়গাই থাকে না।

একাউন্টিং বিভাগের ছাত্র ১০ ব্যাচের আল নাহিয়ান সাদ বলেন, ক্যাম্পাসের দ্বিতীয় ফটকে তো দাঁড়ানোই যায় না, সেখানে লেগুনার ড্রাইভার-হেলপাররা ভিবিন্ন নেশাজাত দ্রব্য গ্রহন করে, যা আমাদের সুন্দর পরিবেশের জন্য মারাত্মকভাবে বাধা সৃষ্টি করে। কুমিল্লা জেলা ছাত্রকল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক শরিফুল আজম বলেন, ক্লাস থেকে বের হলেই  ঐ দিকে যাওয়ার বিভিন্ন প্রয়োজন পড়ে, কিন্তু প্রসাব-পায়খানা আর বিশ্রি গন্ধের জন্যে ঐ দিকে যাওয়া অনেক কষ্টকর হয়ে পড়েছে। শিক্ষার্থীরা এ ব্যাপারে দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

সরেজমিন দেখা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ফটক ও কলেজিয়েট স্কুলের ফটকের দেয়াল ঘেঁষে সদরঘাট সড়কের প্রায় অর্ধেক স্থান দখল করে গড়ে ওঠা এই রিকশা গ্যারেজ ও লেগুনা স্ট্যান্ডটি ছাড়াও দ্বিতীয় ফটকের দু’পাশ দখল করে স্থাপন করা হয়েছে কাউন্টার, যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং ইত্যাদি। ফটকের সামনে এলোপাতাড়িভাবে লেগুনা রাখায় শিক্ষার্থীদের পোহাতে হচ্ছে ভোগান্তি। এমনকি, রেহাই পান না সাধারণ পথচারীরাও। গুলিস্তান-সদরঘাট সড়কে যানজটের অন্যতম কারণ হিসেবেও একে দায়ী করেছেন অনেকে। গ্যারেজ-স্ট্যান্ডের পাশাপাশি রয়েছে শৌচাগার। যার দুর্গন্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ভবনের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণের কাজের সুবিধার্থে ফটকটি প্রায় সময় বন্ধ রাখা হয়। নতুন ভবনের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ কাজ শুরু হওয়ার পূর্ব থেকেই এ জায়গাটি বহিরাগতদের দখলে রয়েছে। তবে বর্তমানে কাজ চলার সুযোগে ফটকটিসহ আশপাশের জায়গা বেদখলে চলে যাচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উল্লেখযোগ্য এ ফটকটির বিষয়ে বার বার সংবাদ প্রকাশ হওয়ার পরও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না।

শিক্ষার্থীদের দাবি, এখনই ব্যবস্থা নিতে হবে। তা না হলে, সাময়িক বন্ধ থাকা ফটকটি চিরতরে হারাতে হবে। ফটকটি বন্ধ থাকায় একটি মাত্র ফটক (প্রধান ফটক) দিয়ে বিশ্ববিদ্যালেয়র ২৩ হাজার শিক্ষার্থী, ৭ শতাধিক শিক্ষক, কয়েকশ’ কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা যাওয়া-আসা করেন।

অন্যদিকে পোগোজ ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধিকাংশ শিক্ষার্থীরাও যাতায়াত করে এই ফটক দিয়ে। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় পরিবহনের বাসগুলো যাওয়া-আসার জন্য একটি মাত্র ফটকই ভরসা।

বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী সজিব বলেন, কলেজিয়েট স্কুল সংলগ্ন ফটকটি খোলা থাকলে ওই ফটক দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতল বাসগুলো যাওয়া-আসা করত। কাজের অজুহাতে ফটকটি বন্ধ থাকায় প্রধান ফটকে ভিড় বাড়ছে। এ ছাড়া দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় বাংলাবাজার সংলগ্ন ফটকটি হাতছাড়া হয়ে যেতে পারে।

এ ব্যাপারে জবি ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক শেখ জয়নাল আবেদিন রাসেল বলেন, একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশের জন্য এটা খুবই খারাপ।

এবিএন/মোস্তাকিম ফারুকী/জসিম/এমসি

এই বিভাগের আরো সংবাদ