প্রেমের টানাপোড়নে ইবিতে দুই শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা

ইবি, ১০ আগস্ট, এবিনিউজ : কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন। প্রেমের টানাপোড়নে ওই দুই শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রফেসর ড. মাহবুবুর রহমান জানান, দুই শিক্ষার্থী ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের মাস্টার্স শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী।

মেয়েটির নাম মুমতাহিনা মুমু হেনা। তার বাসা সাতক্ষীরা জেলায়। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. আশরাফুল ইসলামের মেয়ে বলে জানা গেছে। আর ছেলেটির নাম রোকনুজ্জামান রোকন। তার বাসা চুয়াডাঙ্গা জেলায়। উভয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১১-২০১২ বর্ষের মাস্টার্স শেষ বর্ষের অধ্যয়নরত ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন।

জানা যায়, গতকাল বৃহস্পতিবার (০৯ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টার দিকে ঝিনাইদহের ঝিনুক টাওয়ারের বাসায় নিজ কক্ষে ফ্যানের সাথে ওড়না পেচিয়ে গলায় ফাঁসি নেয় হেনা। বিষয়টি টের পেয়ে দরজা ভেঙে তাকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়ার পথে তিনি মারা যান। প্রেমিকার মৃত্যুর সংবাদ শুনে রাত ৮টার দিকে কুষ্টিয়ার মতি গেটের সামনে ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেন রোকন।

নিহতদের সহপাঠীরা জানান, ছাত্রী হেনার সঙ্গে একই বিভাগের ছাত্র রোকনুজ্জামান রোকনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। নিজেদের সম্পর্কে টানাপোড়নের কারণে হেনা নামের ওই ছাত্রী গতকাল রাতে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলে আত্মহত্যা করে। এদিকে প্রেমিকার এমন আত্মহত্যার কথা শুনে রোকনুজ্জামান রোকনও আত্মহত্যা করেন। রাত সাড়ে ৮টার দিকে সদর উপজেলার মতি মিয়ার রেলগেইট নামক স্থানে পোড়াদহ থেকে ছেড়ে আসা গোয়ালন্দগামী শাটল ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেন রোকন।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রফেসর ড. মাহবুবর রহমান জানান, আমি আনুমানিক রাত ৮টার দিকে বিষয়টি জানতে পারি। আত্মহত্যাকারী দুই শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তবে হঠাৎ দু’জনই কি কারণে এমন সিদ্ধান্ত নিলেন সে বিষয়ে এখনও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়নি। ওই দুই শিক্ষার্থীর মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে নিজ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলেও প্রক্টর নিশ্চিত করেছেন।

এ বিষয়ে পোড়াদহ জিআরপি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আজিজ বলেন, ওই ছাত্রের মরদেহ কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এবিএন/মাইকেল/জসিম/এমসি