জেদ্দায় বিএনপি-জামায়াতের সঙ্গে আইএসআই-এর গোপন বৈঠক

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২১:১৬ | আপডেট : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২১:২০

জেদ্দায় বিএনপি-জামায়াতের সঙ্গে আইএসআই-এর গোপন বৈঠক;
চলমান জাতীয় সংসদের মেয়াদ এখনও তিন বছর বাকি থাকতেই রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখলের জন্য বিএনপি-জামায়াতের সঙ্গে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা ইন্টার সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্সের (আইএসআই) গভীর ষড়যন্ত্রের তথ্য উদঘাটন করেছে গোয়েন্দা সংস্থা।


সৌদি আরবের জেদ্দায় বিএনপি-জামায়াতের সঙ্গে পাকিস্তানী গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইর এক গোপন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির শীর্ষ নেতা। বাংলাদেশে পাকিস্তানী এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য আগামী নির্বাচনে তিন শ আসনে বিএনপি-জামায়াতের প্রার্থীর তালিকা তৈরি করে দিয়েছে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই। গত ৩২ মাসে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই-এর সঙ্গে অন্তত ২০টি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে বিএনপি-জামায়াতের।

গোয়েন্দা সংস্থার হাতে এসেছে সাড়ে তিন ঘণ্টার শতাধিক ফোনালাপ রেকর্ড। এসব রেকর্ডের মধ্যে আছে, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা সাবেক মন্ত্রী খন্দকার মোশারফ হোসেনের সঙ্গে পাকিস্তানী গোয়েন্দা সংস্থার দুবাইভিত্তিক এজেন্ট পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শহীদ মেহমুদের ফোনালাপ। পাকিস্তানী গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইর দুবাইভিত্তিক এজেন্ট দুবাইয়ে বসবাসকারী শহীদ মেহমুদের সঙ্গে বিএনপি-জামায়াতের নেতৃবৃন্দের যোগাযোগ রক্ষার মাধ্যম হচ্ছেন বিএনপির দুবাই শাখার সভাপতি সিলেটের জকিগঞ্জের অধিবাসী জাহিদ হাসান। জামায়াতের সভাপতি শফিকুর রহমান থেকে শুরু করে বিএনপির সাজাপ্রাপ্ত লন্ডন প্রবাসী নেতা তারেক রহমান পর্যন্ত অনেকেরই ফোনালাপ রেকর্ড করেছে গোয়েন্দা সংস্থা। গোয়েন্দা সংস্থার সূত্রে এসব খবর পাওয়া গেছে। পাকিস্তানী গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইর এজেন্ট শহীদ মেহমুদ পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ৫৪তম লং কোর্স কমিশন্ড। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর এই অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দুবাইয়ে বসবাস করেন এবং দুবাইয়ে পাকিস্তানের আইএসআই এজেন্ট হিসেবে কর্মরত। বাংলাদেশের নির্বাচনে পাকিস্তানী এজেন্ডা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে তার এ্যাসাইনমেন্ট।

দুবাইয়ে বসবাস করছেন সিলেটের জকিগঞ্জের জাহিদ হাসান। বিএনপির দুবাই শাখার সভাপতি তিনি। তার মাধ্যমেই পাকিস্তানের আইএসআই এজেন্ট শহীদ মেহমুদের সঙ্গে যোগাযোগ হয় তারেক রহমানের। তারেক রহমানের কাছে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তিন শ প্রার্থীর তালিকাটি পাঠিয়েছেন জাহিদ হাসানই। তারেক রহমানের কাছে লন্ডনে যে তালিকাটি পাঠানো হয়েছে তাতে কোন কোন প্রার্থী মারা গেছেন এবং তারেক রহমান কোন কোন প্রার্থীকে চেনেনও না-এমন কথাবার্তা হয়েছে ফোনালাপে। আন্তঃরাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার বরাত দিয়ে একটি টিভি চ্যানেলের প্রতিবেদনে পাকিস্তানী গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইর এজেন্ট শহীদ মেহমুদের সঙ্গে বিএনপি-জামায়াত নেতাদের বৈঠক ও ফোনালাপের কথা উল্লেখ করে বলা হয়েছে, এসব বিষয়ে বিএনপি-জামায়াত থেকে কোন প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করা হয়নি। গোয়েন্দা সংস্থার পাওয়া ফোনালাপের রেকর্ডে পাকিস্তানী গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইর দুবাইভিত্তিক এজেন্ট শহীদ মেহমুদের সঙ্গে বিএনপি নেতা খন্দকার মোশারফের আলাপের সময়ে বিএনপি-জামায়াতের তিন শ প্রার্থীর তালিকা দেয়ার কথা বলা হয় আন্তঃরাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে।

তারেক রহমানের বিরুদ্ধে আইএসআই কানেকশনের অভিযোগ অনেক পুরনো। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি সরকারের মেয়াদকালে তার বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠেছিল। এমনকি মুম্বাই আন্ডারওয়ার্ল্ডের ডন দাউদ ইব্রাহিমের সঙ্গে তার বৈঠকেরও অভিযোগ আছে। সাম্প্রতিক আইএসআই যোগাযোগ প্রমাণ করে, বিএনপির এই শীর্ষ নেতা তার পুরনো যোগাযোগগুলো থেকে মোটেও সরে আসেননি। গোয়েন্দা নথিপত্রে যে তথ্য তাতে দেখা যায়, গত ছয় মাসে দুবাইয়ে বিভিন্ন হোটেলে অন্তত ১১ বার দেখা হয়েছে দুজনের।

 

এবিএন/ইমরান/জসিম/এসই

এই বিভাগের আরো সংবাদ