ভূমিহীন ও গৃহহীনদের সহায়তায় প্রধানমন্ত্রীর বিরল দৃষ্টান্ত

  ইউএনবি

২২ জানুয়ারি ২০২১, ২২:০০ | আপডেট : ২২ জানুয়ারি ২০২১, ২২:০৫ | অনলাইন সংস্করণ

আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় নির্মিত ঘর
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামীকাল শনিবার আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় সারাদেশে ৬৬ হাজার ১৮৯টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের মধ্যে ঘর বিতরণ উদ্বোধন করবেন।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী সকাল সাড়ে ১০টায় তার সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি উদ্বোধন অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন।

এটি ‘মুজিব বর্ষ’ ‍উপলক্ষে সকল ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে ঘর সরবরাহ করার সরকারের উদ্যোগের অংশ।  প্রধানমন্ত্রী বেশ কয়েকবার উল্লেখ করেছেন যে দেশে কেউ গৃহহীন থাকবে না।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বিশ্বে প্রথমবারের মতো গৃহহীন ও ভূমিহীন পরিবারগুলোর জন্য হস্তান্তর করতে সরকার ১১৬৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ৬৬ হাজার ১৮৯টি বাড়ি সম্পন্ন করেছে।

আগামী মাসেও গৃহহীন ও ভূমিহীন লোকদের মধ্যে আরও এক লাখ বাড়ি বিতরণ করা হবে।

পাশাপাশি, মুজিব বর্ষের সময় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশ্রয়ণ প্রকল্পের অধীনে ২১টি জেলার ৩৬টি উপজেলায় ৪৪টি প্রকল্পের আওতায় ৭৪৩টি ব্যারাক নির্মাণ করে ৩৭১৫টি পরিবারকে পুনর্বাসিত করা হয়েছে।

মুজিব বর্ষে ঘর পাচ্ছেন ফরিদপুরের দেড় হাজার গৃহহীন পরিবার

২০২০ সালে ৮ লাখ ৮৫ হাজার ৬২২টি পরিবারের তালিকা তৈরি করা হয়। যার মধ্যে ২ লাখ ৯৩ হাজার ৩৬১টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবার এবং ৫ লাখ ৯২ হাজার ২৬১টি পরিবার রয়েছে যাদের ১  থেকে ১০ শতক জমি আছে কিন্তু আবাসন ব্যবস্থা নেই।

আশ্রায়ণ ১৯৯৭ থেকে ২০২০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ৩ লাখ ২০ হাজার ৫৮টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে পুনর্বাসিত করেছে।

নেত্রকোনার ৯৬০ গৃহহীন পরিবার ঘর পাচ্ছেন

আশ্রায়ণ-২ প্রকল্পের সময়কাল জুলাই ২০১০ থেকে জুন ২০২২ পর্যন্ত। এই সময়ের মধ্যে ৪৮৪০.২৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ২ লাখ ৫০ হাজার ভূমিহীন, গৃহহীন ও বাস্তুচ্যুত পরিবারকে পুনর্বাসনের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।

এটি, জুলাই ২০১০ থেকে ২০১৯ সালের জুন পর্যন্ত সারাদেশে ১ লাখ ৯২ হাজার ২৭৭টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে পুনর্বাসিত করেছে।

মোট ৪৮ হাজার ৫০০ ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে ব্যারাকে পুনর্বাসিত করা হয়েছে এবং ১ লাখ ৪৩ হাজার ৭৭৭টি পরিবার যাদের নিজস্ব জমি রয়েছে (১ থেকে ১০ শতাংশ) কিন্তু বাড়ি নির্মাণের সামর্থ নেই তাদের আধা-ব্যারাক, বিশেষভাবে নকশা করা বাড়িগুলো পুনর্বাসন করা হয়েছে।

দেশে ভূমিহীন ও গৃহহীন অসহায় মানুষদের মধ্যে যাদের ভূমি নেই তাদের সরকারের খাস জমি থেকে ২ শতাংশ ভিটে এবং ঘর দিচ্ছে সরকার। যাদের ভিটে আছে ঘর নাই তাদের ঘর দিচ্ছে সরকার।

প্রতিটি ঘর দুই কক্ষ বিশিষ্ট। এতে দুটি রুম ছাড়াও সামনে একটি বারান্দা, একটি টয়লেট, একটি রান্নাঘর এবং একটি খোলা জায়গা থাকবে। পুরো ঘরটি নির্মাণের জন্য খরচ হবে ১ লাখ ৭১ হাজার টাকা এবং মালামাল পরিবহনের জন্য ৪ হাজার টাকা দেওয়া হবে প্রতি পরিবারকে।

বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, খুলনার বিভিন্ন অঞ্চলে সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের কাছে হস্তান্তর করতে প্রস্তুত এসব ঘর। যারা প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর পাচ্ছেন তাদের চোখে-মুখে খুশির ঝিলিক। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তারা।

সারা বাংলাদেশে ঘরও নাই, জমিও নাই এমন পরিবারের সংখ্যা ২ লাখ ৯৩ হাজার ৩৬১। ভিটেমাটি আছে, ঘর জরাজীর্ণ কিংবা ঘর নাই এমন পরিবারের সংখ্যা ৫ লাখ ৯২ হাজার ২৬১। মুজিববর্ষ উপলক্ষে সারা বাংলাদেশে যে তালিকা করা হয়েছে সব মিলিয়ে সেই তালিকায় ৮ লাখ ৮৫ হাজার ৬২২টি পরিবার রয়েছে।

আশ্রয়ণ প্রকল্পের নথি থেকে জানা যায়, ভূমিহীন-গৃহহীন পরিবার পুনর্বাসনের লক্ষ্যে ১৯৯৭ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তত্ত্বাবধানে আশ্রয়ণ নামে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় একটি প্রকল্প গ্রহণ করে। এই প্রকল্পের আওতায় ১৯৯৭ সাল থেকে ২০২০ সালের ডিসেম্বর মাস অবধি ৩ লাখ ২০ হাজার ৫২টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে পুনর্বাসন করা হয়।

আশ্রয়ণ প্রকল্পের উদ্দেশ্য হলো- ভূমিহীন, গৃহহীন, ছিন্ন অসহায় দরিদ্র জনগোষ্ঠীর পুনর্বাসন, ঋণপ্রদান ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহে সক্ষম করে তোলা এবং আয় বাড়ে এমন কার্যক্রম সৃষ্টির মাধ্যমে দারিদ্র্য দূরীকরণ।

এবিএন/জনি/জসিম/জেডি

এই বিভাগের আরো সংবাদ