ফাইজার-বায়োএনটেকের টিকার জন্য সরকারের আবেদন

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৮ জানুয়ারি ২০২১, ১২:২২

ফাইজার-বায়োএনটেকের করোনার টিকার জন্য আবেদন করেছে বাংলাদেশ সরকার। এটি পেতে গত শনিবার (১৬ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে টিকার বৈশ্বিক জোট কোভ্যাক্সের কাছে আবেদন পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে এই টিকা দেশে আমদানি ও জরুরি ব্যবহারের অনুমোদনের জন্য কাজ শুরু হয়েছে। 

এরই অংশ হিসেবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক ইতোমধ্যে এ-সংক্রান্ত ফাইলে স্বাক্ষর করেছেন। ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর দু-এক দিনের মধ্যেই ফাইজারের টিকা আমদানি ও ব্যবহারের অনুমোদন দিতে পারে।

কোভ্যাক্স থেকে প্রথমেই বাংলাদেশ মোট জনসংখ্যার শূন্য ৪ শতাংশের জন্য টিকা পাবে। আগামী ফেব্রুয়ারির মধ্যে ওই টিকা আসতে পারে বলে সংশ্নিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। একই সঙ্গে বেসরকারি ব্যবস্থাপনা ও ঢাকায় অবস্থিত বিদেশি দূতাবাসগুলোতে টিকা দেওয়ার জন্য পৃথক নীতিমালা করতে যাচ্ছে সরকার।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, কোভ্যাক্সের মাধ্যমে ফাইজারের টিকা পেতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আবেদন করেছে। একই সঙ্গে ওই টিকা আমদানি ও জরুরি ব্যবহারের জন্য ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরও অনুমোদন দেবে। এ-সংক্রান্ত একটি ফাইলে তিনি স্বাক্ষর করেছেন। এখন ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর অন্যান্য কার্যক্রম শেষে ফাইজারের টিকা দেশে আমদানি এবং তা জরুরি ব্যবহারের জন্য অনুমোদন দেবে।

কোভ্যাক্স থেকে আট লাখ ডোজ টিকা পাওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ফেব্রুয়ারির মধ্যে ওই টিকা পেলে তা চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর প্রয়োগ করা হবে।

স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্র জানায়, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ভ্যাকসিনস অ্যান্ড ইমিউনাইজেশনস (গ্যাভি) এবং কোয়ালিশন ফর এপিডেমিক প্রিপেয়ার্ডনেস ইনোভেশনসের (সিইপিআই) নেতৃত্বে কভিড-১৯ ভ্যাকসিনস গ্লোবাল অ্যাকসেস ফ্যাসিলিটি (কোভ্যাক্স) গড়ে উঠেছে। চলতি বছর তারা নিম্ন ও মধ্যম আয়ের ৯২টি দেশে ১৩০ কোটি ডোজ টিকা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। প্রতিটি দেশের ২০ শতাংশ মানুষ কোভ্যাক্স থেকে টিকা পাবেন। এরই অংশ হিসেবে বাংলাদেশ টিকা পেতে যাচ্ছে। কোভ্যাক্সের পক্ষ থেকে গত ৬ জানুয়ারি বাংলাদেশসহ ১৯২টি সদস্য দেশকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। জানুয়ারির শেষ অথবা ফেব্রুয়ারিতে তাদের টিকা দেওয়া শুরু হবে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।

চলতি বছরের ৬ জানুয়ারি কোভ্যাক্স থেকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কাছে চিঠি দিয়ে জানতে চাওয়া হয়, বাংলাদেশ ফাইজার-বায়োএনটেকের টিকা নেবে কিনা। এ জন্য সরকারকে ১৮ জানুয়ারির মধ্যে চিঠি দিয়ে জানাতে বলা হয়। একই চিঠি অন্য সদস্য রাষ্ট্রগুলোকেও দেওয়া হয়। বাংলাদেশ গত শনিবার কোভ্যাক্সের কাছে টিকা নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে চিঠি দিয়েছে।

সদস্য রাষ্ট্রগুলোর আগ্রহের পরিপ্রেক্ষিতে ১৯ থেকে ২৮ জানুয়ারির মধ্যে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও গ্যাভি কর্তৃপক্ষ সংশ্নিষ্ট দেশের আগ্রহপত্র ও অবকাঠামো পরিস্থিতি মূল্যায়ন করবে। ২৯ জানুয়ারির মধ্যে টিকা বিতরণের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হবে। এরপর সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে টিকা প্রাপ্তির বিষয়ে জানানো হবে।

চিঠিতে আগামী মে মাসের মধ্যে এই টিকা প্রয়োগের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে জানুয়ারির মধ্যে দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ফাইজার-বায়োএনটেকের টিকা অনুমোদন করানোর শর্তের কথাও উল্লেখ করা হয়। কোভ্যাক্সের চিঠি পাওয়ার পরপরই স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকের নেতৃত্বে স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ নিজেদের মধ্যে অন্য একটি বৈঠক করেন। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীকেও অবহিত করা হয়। আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ফাইজার-বায়োএনটেকের টিকা গ্রহণ করা হবে। এরপরই ফাইজারের টিকা পেতে কার্যক্রম শুরু করে সরকার।

এবিএন/জনি/জসিম/জেডি

এই বিভাগের আরো সংবাদ