মহাকবি মাইকেল মধুসূদনের ১৪৮তম প্রয়াণ দিবস আজ

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২০, ১১:০৫

‘দাঁড়াও পথিকবর, জন্ম যদি তব/ বঙ্গে! তিষ্ঠ ক্ষণকাল! এ সমাধি স্থলে/ (জননীর কোলে শিশু লভয়ে যেমতি/বিরাম) মহীর পদে মহা নিদ্রাবৃত/দত্তকুলোদ্ভব কবি শ্রীমধুসূদন!

যশোরে মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত সমাধিস্থলে এই অবিস্মরণীয় পংক্তিমালায় নিজেকে চিনিয়ে যাচ্ছেন প্রজন্মের পর প্রজন্ম। আজ এই  মহাকবির ১৪৮তম প্রয়াণ দিবস। ১৮৭৩ সালের ২৯ জুন তিনি কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন। তার জন্ম যশোরের সাগরদাঁড়ি গ্রামে ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি।

মাইকেল মধুসূদন দত্ত ছিলেন বাংলা কাব্যের অনুপ্রেরণা। বাংলা সাহিত্যে তিনি বিশাল প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন। বাংলা সাহিত্যে তার সৃষ্টি অসাধারণ ও অতুলনীয়। তিনি বাংলা ভাষায় সনেট ও অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক। বাংলা সাহিত্যে তার অবদান অবিস্মরণীয়।

মধুসূদনের আগমন-সৃষ্টিধর্মী। তিনি জন্মেছিলেন এক বিরল প্রতিভা নিয়ে। তার সহজাত প্রবৃত্তি ছিল বিদ্রোহ।

মধুসূদন ছিলেন আধুনিক বাংলা কাব্য সাহিত্যের জনক। সনাতন কাব্যধারাকে পাল্টিয়ে নতুন আঙ্গিকে বাংলা সাহিত্যে অমৃতধারা সৃষ্টি তার বিরল দৃষ্টান্ত। কপোতাক্ষের কুলুকুলু ধ্বনি দুই কূলের সবুজ শস্যক্ষেত, পাখির কাকলি, জলপাই রঙের ঘনসবুজ বন-লতাপাতা আর ধূসর মাটির ধূলিকণা শিশু মধুসূদনের দেহ ও মনকে গড়ে তুলেছিল বাঙালি করে।

মেঘনাদবধ কাব্য রামায়ণের পৌরাণিক কাহিনি থেকে সংগৃহীত হলেও প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য সাহিত্যের ভাবনার সংমিশ্রণে মধুসূদনের এ এক অপরূপ সৃষ্টি। মেঘনাদবধ মহাকাব্যের অসাধারণ সাফল্যের মাধ্যমেই মধুসূদন কবি হিসেবে লাভ করেছেন ব্যাপক যশ ও খ্যাতি।

কবি খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করে শ্রী মধুসূদন থেকে মাইকেল মধুসূদন হয়েছিলেন। কবি থেকে হয়েছিলেন ব্যারিস্টার কিন্তু হতে পারেননি সুমহান ঐতিহ্যসমৃদ্ধ বাঙালি থেকে পররাজ্যগ্রাসী ইংরেজ। বাঙালিত্ব ছিল মধুসূদনের আমৃত্যু অহঙ্কার। শুধু তাই নয়, নিজেকে নিয়ে তার সেই সরস পরিহাসও সবিশেষ উল্লেখের অপেক্ষা রাখে ‘আমি শুধু বাঙালি নহি, আমি বাঙাল, আমার বাটি যশোহর।’

মাইকেলের ব্যক্তিগত জীবন ছিল নাটকীয় এবং বেদনাঘন। মাত্র ৪৯ বছর বয়সে কলকাতায় কপর্দকশূন্য করুণ অবস্থায় মৃত্যু হয় এই মহাকবির। মধুসূদনের শেষ জীবন চরম দুঃখ ও দারিদ্র্যের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হয়। আইন ব্যবসায় সাফল্য পাননি। অমিতব্যয়ী স্বভাবের জন্য হয়ে পড়েন ঋণগ্রস্ত।

দাম্পত্যজীবন বলতে মধুসূদন রেবেকা ম্যাকটিভিস নামে এক ইংরেজ যুবতীকে বিবাহ করেন। এই বিয়ে সাত বছর স্থায়ী হয়েছিল। রেবেকার গর্ভে মধুসূদনের দুই পুত্র ও দুই কন্যার জন্ম হয়। মাদ্রাজ জীবনের শেষ পর্বে রেবেকার সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ হওয়ার পর এমিলিয়া আঁরিয়েতা সোফিয়া নামে এক ফরাসি তরুণীকে বিয়ে করেন। আঁরিয়েতা মধুসূদনের সারাজীবনের সঙ্গিনী ছিলেন।

এবিএন/সাদিক/জসিম

এই বিভাগের আরো সংবাদ