চেতনায় মুক্তিযুদ্ধ

  হিল্লুল তালুকদার

০৪ জুন ২০২০, ১৭:৪৬ | অনলাইন সংস্করণ

ছবি : সংগৃহিত
আমি মুক্তিযুদ্ধ দেখিনি......
তবে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস শুনেছি,
আর সাদা কাগজের পাতায় লিপিবদ্ধ কালো শব্দাবলীতে সোনার বাংলার জন্মের ইতিহাস পড়েছি।
একটি স্বাধীন, সার্বভৌম দেশের স্বপ্ন দেখা কয়েকজন বীর বাঙালির আত্মত্যাগের ইতিবৃত্ত
আমি উপলব্ধি করতে পেরেছি,
জাতি,ধর্ম,বর্ণ ভুলে সমগ্র বাঙালি তাদের সোনার বাংলায় একদিন এক কাতারে দাঁড়াবে,
এই বিশ্বাস আছে বলেই আমিও সোনার বাংলার স্বপ্ন দেখি,
আমি বায়ান্নের নির্ভীক বাঙালির তাজা রক্তে রঞ্জিত রাজপথ কল্পনার চোখে দেখতে পারি,
অনুভব করতে পারি তার বিভৎস রুপ।
নিপীড়ন,অত্যাচার, খুন, লুটপাট আর ধর্ষনের ইতিহাস,
আমাকে আমার দেশকে ভালবাসতে শিখিয়েছে।
দারিদ্র্য, ক্ষুধা,অনাহার, অকাল মৃত্যু,
মৃত মায়ের কোলে দুগ্ধপোষ্য শিশুর করুন আর্তনাদ,
আমাকে বাধ্য করেছে দেশকে ভালবাসতে।
পিতার কাধে সন্তানের লাশ বহনের যন্ত্রণা,
এখানে, ওখানে পড়ে থাকা অজানা, অচেনা মানুষের লাশের মাংস,
চিল, শকুন আর শিয়ালের ছিড়ে খাওয়া আমাকে শিখিয়েছে,
কিভাবে দেশকে ভালবাসতে হয়।
কিভাবে দেশের তরে অকাতরে প্রাণ বিলিয়ে দিতে হয়।
পিতা-মাতার সামনে বিবস্ত্র কন্যার দেহ নিয়ে,
পৈশাচিক আনন্দের উল্লাস,
বুলেটের আঘাতে শত প্রাণের তাজা রক্ত ঝরে যাওয়া আমাকে শিখিয়েছে,
কিভাবে কষ্ট আড়াল করে বাঁচতে হয়।
চোখের সামনে সন্তানকে মৃত্যুর মুখে দাঁড় করিয়ে দেয়া পিতা-মাতার আত্মত্যাগ,
জাগিয়ে তুলেছে আমার মনুষ্যত্ব।
৭-ই মার্চে শেখ মুজিবের বজ্র কন্ঠে ধ্বনিত ভাষনে,
লাখো মানুষের ভিতর জাগ্রত হওয়া স্বাধীন বাংলার মাটিতে বসবাসের ঢেউ তোলা প্রাণোচ্ছল
উন্মাদনা,
আমাকে শিখিয়েছে,
শত সহস্র কষ্টের মাঝেও কিভাবে বুক চিতিয়ে রুখে দাঁড়াতে হয়।
একের পর এক উদ্ধার হওয়া বধ্যভূমিতে শত শত মানুষের হাড় আর মাথার খুলি,
চোখ বাঁধা অবস্থায় এক কাতারে দাঁড়িয়ে থেকে,
হাজার হাজার কৃষক,তরুণ,যুবক, অর্ধ বয়স্ক থেকে বৃদ্ধের
মৃত্যুকে স্বেচ্ছায় আলিঙ্গনের পূর্ব মুহুর্তে,
জয় বাংলা বলে স্বতঃস্ফূর্ত দৃঢ় চিৎকারে আকাশ,বাতাস, কম্পিত হওয়ার ইতিহাস,
কালো রাত খ্যাত ২৬শে মার্চের উন্মাতাল গণহত্যা আর স্বাধীনতার পূর্ব লগ্নে  
১৪-ই ডিসেম্বর রাতে কতিপয় দেশদ্রোহী
রাজাকার, আল-বদর, আল-শামস বাহিনীর যোগসাজশে,
স্বাধীন বাংলার মেরুদণ্ড ভেঙে দেয়ার লক্ষ্যে,
পাক হানাদার বাহিনীর বুদ্ধিজীবী হত্যার নীল নকশা
আমার চেতনায় ছড়িয়ে দিয়েছে,
সোনার বাংলার স্বপ্ন দেখার আত্মবিশ্বাস।
আমি ভালবাসি মা, মাটি আর এই স্বাধীন দেশকে,
স্বাধীন দেশের সোনার মাটিতে বসবাস করা আবালবৃদ্ধবনিতাকে,
আর ভালবাসি বলেই চেতনায় ধারণ করি মুক্তিযুদ্ধ।
গল্প, কবিতা, গান আর রুপালী পর্দায় ফুটে উঠা মুক্তিযুদ্ধের ভয়াবহতা
আমি চোখ বন্ধ করে উপলব্ধি করতে পারি।
আমি স্বাধীনভাবে বাঁচতে চাই,
স্বাধীনভাবে বাঁচার নিরাপত্তা চাই।
চাই প্রতিটি মানুষের মৌলিক অধিকার ভোগ করার স্বাধীনতা। 
দেখতে চাই প্রতিটি মানুষের সদাহাস্যজ্বল পবিত্র মুখাবয়ব।
তাই সোনার বাংলার স্বপ্ন দেখতে আমি পিছ পা হই না।
জানি, কোনো মানুষের সব স্বপ্ন পূরণ হয় না,
তাই বলেতো আর স্বপ্ন দেখা থেমে থাকতে পারেনা????
বীর বাঙালির ইতিহাস, হেরে যাওয়ার ইতিহাস নয়,
বীর বাঙালির ইতিহাস, অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে না দাঁঁড়ানোর ইতিহাস নয়।
বাঙালির ইতিহাস বিজয়ের, 
বাঙালির ইতিহাস গর্বে মাথা উচু করে বাঁচার।
বাঙালির ইতিহাস, গণতন্ত্রের ইতিহাস,
৫২'র ভাষা আন্দোলন, ৬৬'র ছয় দফা, ৬৯'র গণ অভ্যুত্থান, ৭০'র সাধারণ নির্বাচন, আর
৭১'র এর নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের ইতিহাস,
সবক্ষেত্রেই বাঙালির বিজয়ের জয়গাথা।
পরাশক্তির আক্রমনে, অথবা অন্যায় অত্যাচারে বাঙালি সব সময় জেগে উঠবেই.....
সোনার বাংলার স্বপ্ন একদিন না একদিন সবার চোখে মুখে ফুটে উঠবেই।
যে জাতি ভাষায় জন্য, নিজের মা-বোনের সম্ভ্রম রক্ষার জন্য,
স্বাধীন ভূ-খণ্ডে স্বাধীনভাবে বাঁচার জন্য অকাতরে প্রাণ বিলিয়ে দিতে পারে,
যে জাতি দুইশত বছরের ইংরেজ শাসন আর তেইশ বছরের পাক হানাদার বাহিনীর শাসন, নির্যাতন, নিপীড়ন আর ভয়াল দুঃস্বপ্নের দূর্বীসহ শৃঙ্খল ভেঙ্গে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পেরেছে,
সে জাতির স্বপ্ন কখনো অলীক স্বপ্ন হতে পারেনা।
সে জাতির অগ্রযাত্রা কখনোই ষড়যন্ত্রের ফাঁদে আটকে পড়ে,
রুদ্ধশ্বাসে মরে যেতে পারেনা।
সব বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে, সেই জাতি একদিন কণ্ঠে কণ্ঠ মিলিয়ে গেয়ে উঠবেই......
আমার সোনার বাংলা
আমি তোমায় ভালোবাসি।

এবিএন/জনি/জসিম/জেডি

এই বিভাগের আরো সংবাদ