ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্’র ১৩৩তম জন্মবার্ষিকী পালিত

ঢাকা, ১১ জুলাই, এবিনিউজ : বাংলা একাডেমি আজ বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টায় একাডেমির কবি শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে বহুভাষাবিদ, গবেষক ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্’র ১৩৩তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে একক বক্তৃতানুষ্ঠানের আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণ প্রদান করেন একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান। মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্’র ভাষানীতি ও ভাষাপরিকল্পনা-ভাবনা শীর্ষক একক বক্তৃতা প্রদান করেন অধ্যাপক জীনাত ইমতিয়াজ আলী। সভাপতিত্ব করেন বাংলা একাডেমির সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্’র পৌত্রী কবি শান্তা মারিয়া, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার, মানজার চৌধুরী সুইট, আবৃত্তিশিল্পী লায়লা আফরোজ প্রমুখ।

স্বাগত ভাষণে অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান বলেন, বাঙালিত্বের বীজ রোপন ও বিকাশে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্’র আমৃত্যু  লড়াই আমাদের অনন্ত প্রেরণার উৎস।

একক বক্তা অধ্যাপক জীনাত ইমতিয়াজ আলী বলেন, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্’র কর্মজীবন ছিল বৈচিত্র্যপূর্ণ। কিন্তু অন্যান্য পেশার চেয়ে শিক্ষকতাকেই তিনি শ্রেয়তম পেশা হিসেবে গ্রহণ করেন এবং অবশিষ্ট জীবনে সেই পরিচয়কেই মহিমান্বিত করেছেন। বলা যায়, নিরলস শ্রম ও অপার অধ্যবসায়ই তাঁকে ‘জ্ঞানতাপস’ এবং সমকালীন বিদ্বৎসমাজের শীর্ষস্থানীয় প্রতিনিধিতে রূপান্তরিত করেছে। তাঁর চিন্তাজগৎ ও সৃষ্টিকর্ম আমাদের সমৃদ্ধ করে, তাঁর রচনা আমাদের আত্ম-আবিষ্কারে প্রণোদিত করে।

তিনি বলেন, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্’র রচনাসম্ভার বিষয়-বৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ- গবেষণামূলক প্রবন্ধ, সৃষ্টিশীল রচনা, অনুবাদকর্ম, শিশুতোষ রচনা, পাঠ্যবই প্রণয়ন, অভিধান সংকলনÑ সর্বত্রই তাঁর সাফল্য ও সার্থকতা অপার। পাকিস্তান আমলে রাষ্ট্রভাষা প্রশ্নে উদ্ভূত বিতর্কে তিনি দ্বিধাহীন চিত্তে বাংলার পক্ষে দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ করেছেনÑ এটা তাঁর জন্য কেবল আবেগের বিষয় ছিল না বরং ভাষাবিজ্ঞানী হিসেবেও তিনি মনে করতেন মাতৃভাষার মর্যাদা যে কোনো নাগরিকের কাছে প্রথম ও প্রধান। তাঁর ভাষাভাবনা ও নানামুখী চিন্তার স্মারক তাঁর অভিভাষণগুচ্ছ।

একক বক্তা বলেন, আমরা আমাদের ভাষা ও সংস্কৃতিসহ জাতীয় জীবনের যেকোনো সংকটে মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্’র ছায়াতলে আশ্রয় গ্রহণ করতে পারি; লাভ করতে পারি অনিবার্য নির্দেশনা।

সভাপতির ভাষণে জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ একজন প্রণম্য ভাষাবিদই ; একই সঙ্গে তিনি বাংলা ভাষার জন্য সংগ্রামের ক্ষেত্রে অগ্রবর্তীদেরও একজন। বাংলা ভাষার রাষ্ট্রীয় মর্যাদা বিষয়ে যেমন তিনি তাঁর জোরাল অবস্থান ব্যক্ত করেছেন তেমনি বাংলা হরফ পরিবর্তনসহ পাকিস্তান সরকারের নানা পরিকল্পনার বিরুদ্ধে সাহসের সঙ্গে রুখে দাঁড়িয়েছেন।

এবিএন/মাইকেল/জসিম/এমসি