তুমিই আমার বর্ণমালা

  অঞ্জন রায়

২১ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২২:৩৮ | অনলাইন সংস্করণ

সেই কবে বাউল ফকিরের বিদ্রোহের একতারায় তুমি ছিলে-তুমি ছিলে ক্ষুদিরামের ফাঁসির সময়ে তার পাশেই। শুনে নিয়েছিলে- ‘একবার বিদায় দে মা ঘুরে আসি’। ছড়িয়ে দিয়েছিলে বারুদের মতোন লোকচরাচরে। তুমি ছিলে বিনয়, বাদল, দিনেশের হাতবোমা বানানোর গোপন আখড়ায়। তিতুমীরের পাশে তুমিও ছিলে বাঁশেরকেল্লার যুদ্ধে-ছিলে উল্লাসকর দত্ত, সতীশ পাকরাশীর পাশেই।

সূর্য সেনের পাশেই তুমি বন্দুক হাতে জালালাবাদে লড়েছো। প্রীতিলতা আর অহল্যার বোন তুমিই। তুমি ছিলে খাপড়া ওয়ার্ড কারাবিদ্রোহে। ৫২ তে তুমি রফিক আর সালামের মাঝে দাড়িয়ে ছিলে। ৭ মার্চ তুমি ছিলে মানুষের সমুদ্রের প্রতিটি স্লোগানে। ছিলে জনকের উত্তোলিত তর্জনীর মতোনই ঋজু -সাহসী।

২৫ মার্চ গণহত্যার প্রতিটি শহীদের লাশ তুমিই যত্নে আঁকড়ে ধরেছিলে। ৩০ লাখ মৃত্যু তোমাকে স্তব্ধ করে। ১৫ আগষ্ট জনকের রক্ত তোমাকে কাঁদায়-তুমি আমাদের কানে দিয়ে যাও প্রতিরোধের মন্ত্র।

প্রতিটি লড়াইয়ে তুমি থাকো সীমানা পেরিয়েও-বাস্তিল ভাংগায় তুমি ছিলে, ছিলে গিলোটিনের সামনে। স্পাতাকার্স তোমাকে চেনে। হিটলারের গ্যাস চেম্বারে ছোট্ট শিশুটি তোমার কোলেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছে। তুমিই ছিলে লালফৌজের সাথে। আনা ফ্রাংকের ডায়েরির অক্ষর তুমি। লাতিন আমেরিকায় তুমি চে আর তানিয়ার ভালোবাসার সাক্ষী। আলেন্দে আর ভিক্তর যারার মৃত্যুর তুমি স্বাক্ষী। তিয়েনমেনে ট্যাংকের সামনে তুমি ছিলে, ছিলে তাহরীর স্কোয়ারে, নন্দীগ্রামে, শাহাবাগে। তুমি মুসোলিনি থেকে কাদের মোল্লার ফাঁসির ন্যায্যতার লড়াইয়ে ছিলে মানুষের পাশে-

হ্যা-তুমিই আমার বর্ণমালা। আমার কাছে শুধু অক্ষর নয়, বেঁচে থাকার সাহস, প্রতিরোধের বীজমন্ত্র- আমার প্রথম চুমুর মতোন উজ্জ্বল।

এবিএন/জনি/জসিম/জেডি

এই বিভাগের আরো সংবাদ