এপার বাংলা-ওপার বাংলা একসাথে চলতে চাই: জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৮:০০ | আপডেট : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৮:৪১

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক আন্তর্জাতিক ভাষা দিবসের অনুষ্ঠানে ‘সিএএ-এনআরসি-এনপিআর’ ইস্যুতে কেন্দ্রীয় সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি আজ (শুক্রবার) ভারত-বাংলাদেশের পেট্রাপোল-বেনাপোল সীমান্তে ভাষা দিবসের অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখার সময় এ সংক্রান্ত মন্তব্য করেন। 

জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক বলেন, ‘সিএএ-এনআরসি-এনপিআর’ আমাদেরকে আতঙ্কগ্রস্ত করে তুলেছে! আমরা যারা এখানে এসেছি আমরা ভাবছি আমাদের ওপার বাংলায় চলে যেতে হবে না তো! ভারতবর্ষ থেকে টুকরো হয়ে পূর্ববঙ্গ ও পশ্চিমবঙ্গ তৈরি হয়েছে। আবার নতুন করে বাংলাকে ভাঙা যাবে না। দিল্লির যারা চক্রান্ত করছে সেই চক্রান্ত আমরা মানি না। তাঁদেরকে আজ হুঁশিয়ারি দিতে চাই। ভাষা দিবস থেকে হুঁশিয়ারি। মনে রাখবেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর নাম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি সজাগ রয়েছেন। তিনি আমাদের অতন্দ্র পাহারাদার। তিনি আমাদের পাহারা দিয়ে রেখেছেন। তিনি বলেছেন, কেউ কাউকে এপার বাংলা থেকে ওপার বাংলায় বিদায় দিতে পারবে না। আমরা এপার বাংলায় এনআরসি-এনপিআর-সিএএ কার্যকর করছি না।’


জ্যোতিপ্রিয় বাবু এদিন উপস্থিত জনতাকে সবাইকে শপথ বাক্য পাঠ করিয়ে বলেন, ‘এই বাংলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে যে লড়াই আমরা শুরু করেছি, ভারতে তা দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। দ্বিধাহীন কণ্ঠে ভারতবর্ষের অন্যান্য রাজ্য তা গ্রহণ করেছে। আপনারা সবাই বলুন আমরা এনপিআর-সিএএ-এনআরসি কোনোটাই চালু করতে দেবো না। এই আমাদের শপথ। বাংলা মাকে বিচ্ছিন্ন করা যাবে না।’  

পরে খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক সাংবাদিকদের জানান, ভাষা দিবসকে সামনে রেখে এপার বাংলা থেকে একশো বোতল রক্ত ওপার বাংলায় যাবে। একইভাবে ওপার বাংলা থেকে একশো বোতল রক্ত এপার বাংলায় আসবে। তিনি বলেন, দু’দেশের মধ্যে সম্পর্ক ভালো আছে। কিন্তু তা বিচ্ছিন্ন করে দিচ্ছে বিজেপি। ভেঙে টুকরো করে দিচ্ছে। বিভাজন করে দিচ্ছে।’


খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক পরে বাংলাদেশের ভাষা দিবসের মঞ্চে বক্তব্য রাখার সময় বলেন, ‘সোনার বাংলা গ্রহণ করেছি। সোনার বাংলা, একবাংলা তৈরি হবে। আর বাংলাকে বিভক্ত করা যাবে না। যারা মনে করছে পশ্চিমবঙ্গকে ভেঙে আবার একটা বাংলা করব, আমরা তা করতে দেবো না, দেবো না, দেবো না। যদি আর একটা আন্দোলন হয়, আর একটা হবে রক্তের বন্যা। প্লাবন হবে। কিন্তু আমার বাংলা ভাষাকে আমি ছাড়ব না। আমি বাংলা ভাষা নিয়ে গর্ব অনুভব করি।’ 

তিনি বলেন, ‘দুই বাংলার মাঝে কাঁটাতার আছে। কাঁটাতার দিয়ে আমাদের আটকে রেখে দিয়েছে। আমরা সেই কাঁটাতারের বেড়া চাই না। কাঁটাতার আমরা খুলে দিতে চাই। আমরা এপার বাংলা-ওপার বাংলা একসাথে চলতে চাই। আমরা হয়তো একদিন থাকবো না কিন্তু একদিন দুই বাংলা এক হয়ে যাবে। একদিন তা হবেই।’

পেট্রাপোল-বেনাপোল সীমান্তে ভারতীয় ভাষা দিবসের মঞ্চে উপস্থিত হয়ে যশোর-১ আসনের এমপি শেখ আফিলুদ্দিন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘প্রতিবারেই আমরা এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করি। কিন্তু সব সময় বিভিন্ন সংস্থার বাধার সম্মুখীন আমরা হই। আমরা ভাষার জন্য যুদ্ধ করে শহীদ হয়ে যে ভাষার অধিকার আমরা আদায় করেছি সেটিই বাংলা ভাষা। সেই বাংলা ভাষার মানুষ আমরা এপারের বাঙালি, ওপারের বাঙালি তাঁদের একত্রিত হওয়ার জন্য নানাবিধ বাধাবিপত্তি আমাদের সামনে উপস্থিত হয়। আপনারা এখুনি তার প্রমাণস্বরূপ দেখেন বাংলাদেশের প্যাভিলিয়ন বেশিরভাগই খালি! কেন খালি? আমি জবাব  চাই প্রশাসনের কাছে। প্রশাসন আটকাতে তো পারে না গাছের শিকড়কে। প্রশাসন আটকাতে পারে না পাখিকে। প্রশাসন আটকাতে পারে না বাতাসকে। শুধু আটকে দিচ্ছে আমাদের মানুষকে, বাঙালিদেরকে। এভাবে আটকাতে আমরা চাই না। আমরা চাই বাঙালি বাঙালি ভাই-ভাই। মাঝখানে কোনও কাঁটাতারের বেড়া আমরা চাই না। সেজন্য আমি ওপার বাংলার পক্ষ থেকে এপারের সরকারকে বলতে চাই আমরা যারা বাংলা ভাষায় কথা বলি তাঁদের মাঝখানে কোনও কাঁটাতারের বেড়া চলবে না। এটাই আমার একান্ত দাবি। ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আমি এই দাবি উত্থাপন করলাম। আমি আশা করি এই দাবির প্রতি সকল বাঙালি একাত্মতা ঘোষণা করবে।’


এমপি শেখ আফিলুদ্দিন আরও বলেন, ‘এপারেও আমাদের একজন মমতাময়ী মা আছেন। আবার বাংলাদেশেও একজন মমতাময়ী মা রাষ্ট্র পরিচালনা করছেন। দুই মমতা এক হলে অবশ্যই আমি মনে করি কাঁটাতারের বেড়া অবশ্যই উঠে যাবে। ভিসা মুক্ত বাঙালি চলাফেরা করবে এটাই আমার বিশ্বাস।’

এদিনের ওই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের মন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য বাংলাভাষা নিয়ে বাঙালিদের আন্দোলনের ইতিহাসের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি জনগণ হল শক্তির মূল উৎস। যখন জনগণ চাইবে আবার এই বাংলা এক হয়ে যাবে। আমরা সেই অপেক্ষায় রইলাম।’ তিনি এদিন সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া তুলে দেওয়ার দাবি জানানো সহ ভিসামুক্ত পৃথিবীর পক্ষে সাফাই দেন।

ওই অনুষ্ঠানে পশ্চিমবঙ্গের খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, বাংলাদেশের সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য, যশোরের-১ আসনের এমপি শেখ আফিলউদ্দিন, বনগাঁ দক্ষিণের বিধায়ক সুরজিৎ বিশ্বাস, বনগাঁ পৌরসভার চেয়ারম্যান শঙ্কর আঢ্য, বনগাঁর সাবেক এমপি মমতা ঠাকুর, বনগাঁর সাবেক বিধায়ক গোপাল শেঠ, ছয়ঘরিয়া পঞ্চায়েতের প্রধান প্রসেনজিৎ ঘোষ, জেলা পরিষদের বনভূমির কর্মাধক্ষ্য একেএম ফারহাদসহ বনগাঁ, বাগদা, গোপালনগর ও গাইঘাটা এলাকার বহু তৃণমূল নেতা উপস্থিত ছিলেন।

এবিএন/মমিন/জসিম

এই বিভাগের আরো সংবাদ