আজ কবি ও স্থপতি রবিউল হুসাইন এর স্মরণসভা

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৪ ডিসেম্বর ২০১৯, ১৯:৫১

বাংলা একাডেমির ফেলো, কবি ও স্থপতি রবিউল হুসাইনের প্রয়াণে বাংলা একাডেমি আজ ১৯শে অগ্রহায়ণ ১৪২৬/৪ঠা ডিসেম্বর ২০১৯ বুধবার বিকেল ৪:০০টায় একাডেমির রবীন্দ্রচত্বরে স্মরণসভার আয়োজন করে।

সভায় প্রারম্ভিক বক্তব্য প্রদান করেন একাডেমির মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী। স্মৃতিচারণ ও আলোচনায় অংশ নেন কবি মুহম্মদ নুরুল হুদা, কবি মুহাম্মদ সামাদ, কবি ফারুক মাহমুদ, কবি গোলাম কিবরিয়া পিনু, কবি আসলাম সানী, কবি আমিনুর রহমান, রবিউল হুসাইন-এর অনুজ তাইমুর হুসাইন, নিকটাত্মীয় খন্দকার রাশিদুল হক নবা প্রমুখ। প্রয়াত কবির স্মরণে নিবেদিত কবিতা পাঠ করেন কবি রবীন্দ্র গোপ, কবি তারিক সুজাত, কবি খোরশেদ বাহার।  স্মরণসভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রয়াত কবির পুত্র জিসান হুসাইন রবিন, কবি সানাউল হক খান, ড. ইসরাইল খান, কবি নাহার ফরিদ খান, কবি লিলি হক প্রমুখ। সভাপতিত্ব করেন বাংলা একাডেমির সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান।

সভার শুরুতে রবিউল হুসাইনের স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

হাবীবুল্লাহ সিরাজী বলেন, কবি-স্থপতি রবিউল হুসাইনের প্রয়াণের পর সঙ্গতভাবেই বাংলা একাডেমি থেকে তাঁর রচনাবলি প্রকাশের দাবি উঠেছে। এ দাবির সঙ্গে আমরাও একমত তবে একই সঙ্গে মনে করি যে কোনো কবি বা লেখকের নিবিষ্ট পাঠই তাঁকে তাঁর প্রয়াণের পরও উত্তরপ্রজন্মের কাছে বাঁচিয়ে রাখে। আমরা বহুমাত্রিক রবিউল হুসাইনের রচনার নিরন্তর পাঠ প্রত্যাশা কবির এবং এই সদাহাস্যময়, সজ্জন, সুপ্রিয় স্বজনের আত্মার চিরশান্তি কামনা করি।
 
স্মৃতিচারণ ও আলোচনায় অংশ নিয়ে বক্তারা বলেন, রবিউল হুসাইনের কবিতায় জীবনের নিরর্থতা অননুকরণীয় ব্যঞ্জণায় ফুটে উঠেছে যদিও শেষ বিচারে তিনি জীবনবাদী দর্শনেরই অনুগামী। কবিতায় আবেগ বর্জনের নীরিক্ষাধর্মী সাধনা করলেও তাঁর শ্রেষ্ঠ কবিতাগুলো আবেগেরই নির্যাস-জাত। কবিতার সমান্তরালে তিনি লিখেছেন উপন্যাস, গল্প, প্রবন্ধ-গবেষণা, শিশুসাহিত্য। সম্পাদনা করেছেন কবিতায় ঢাকা এবং অনুবাদ করেছেন পাবলো নেরুদা ও এ্যালেন গিন্সবার্গের কবিতা । গত শতকের ষাটের দশকে না ছোটকাগজের মধ্য দিয়ে এদেশের ছোটকাগজ আন্দোলনেও তিনি তাঁর অঙ্গীকারের প্রমাণ রেখে গেছেন। বাঙালি জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ভাস্বর তাঁর সামগ্রিক  সাহিত্যভুবন।

তাঁরা বলেন, বাংলাদেশের আধুনিক বাস্তুকলা বিকাশে রবিউল হুসাইন এক বিশিষ্ট নাম। ঢাকাসহ দেশের নানা প্রান্তের বেশ কিছু স্থাপত্যকর্ম তাঁর উদ্ভাবনময়, নান্দনিক চিন্তার সাক্ষ্য বহন করছে। বাংলা একাডেমির ঐতিহাসিক বর্ধমান হাউস-সহ বিভিন্ন স্থাপনা সংস্কার এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সম্প্রসারিত অমর একুশে গ্রন্থমেলা বিন্যাসে তিনি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্মৃতি জাদুঘর, বাংলাদেশ স্থপতি ইন্সটিটিউট, জাতীয় কবিতা পরিষদসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত থেকে এদেশের প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক অভিযাত্রায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন।

সভাপতির বক্তব্যে জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, রবিউল হুসাইন ব্যক্তিজীবনে যেমন মৃদু স্বভাবের ছিলেন, তেমনি তাঁর কবিতাও মৃদুস্বরের। তাঁর কবিতা ভালভাবে পঠিত ও আলোচিত হলে তাঁর ভিন্নধর্মী কাব্যবৈশিষ্ট্য অনুধাবন করা সম্ভব হবে। স্মরণসভায় রবিউল হুসাইনের লেখা মা কবিতা পাঠ করেন সায়েরা হাবীব। সঞ্চালনা করেন বাংলা একাডেমির কর্মকর্তা পিয়াস মজিদ।


এবিএন/জসিম/তোহা

 

এই বিভাগের আরো সংবাদ