সাহিত্যিক সৈয়দ মুজতবা আলীর জন্মদিন আজ

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১২:০৪

প্রখ্যাত সাহিত্যিক ও বহুভাষাবিদ সৈয়দ মুজতবা আলীর জন্মদিন আজ। ১৯০৪ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর তিনি সিলেটের করিমগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন।

মুজতবা আলীর পিতা সৈয়দ সিকান্দার আলী। তার পৈতৃক ভিটা সিলেটের হবিগঞ্জে। পিতার বদলীর চাকরি হওয়ায় মুজতবা আলীর প্রাথমিক শিক্ষাজীবন কাটে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে।

১৯২১ সালে তিনি শান্তিনিকেতনে ভর্তি হন। তিনি ছিলেন বিশ্বভারতীর প্রথম দিকের ছাত্র। সেখানে তিনি সংস্কৃত, ইংরেজি, আরবি, ফার্সি, হিন্দি, গুজরাটি, ফ্রেঞ্চ, জার্মান ও ইটালিয়ান ভাষাশিক্ষা লাভ করেন। ১৯২৬ সালে এখানেই তিনি বিএ ডিগ্রি অর্জন করেন। এর পর তিনি আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করেন। দর্শনশাস্ত্র পড়ার জন্য বৃত্তি নিয়ে জার্মানির বন বিশ্ববিদ্যালয়ে যান। তুলনামূলক ধর্মতত্ত্বে গবেষণার জন্য তিনি পিএইচ ডি লাভ করেন ১৯৩২ সালে। ১৯৩৪-১৯৩৫ সালে তিনি মিসরে কায়রোর আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন।

আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া শেষ করে কর্মজীবনে সৈয়দ মুজতবা আলী ১৯২৭ থেকে ১৯২৯ সাল পর্যন্ত কাবুলের একটি কলেজে অধ্যাপনা করেন। সেখানে তিনি ইংরেজি ও ফ্রেঞ্চ ভাষার শিক্ষক ছিলেন। ১৯৩৫ সালে বরোদার মহারাজার আমন্ত্রণে তিনি বরোদা কলেজে তুলনামূলক ধর্মতত্ত্বের অধ্যাপক হিসেবে যোগ দান করে প্রায় আট বছর কাটান। এর পর দিল্লির শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে যোগ দেন। পরবর্তী সময় তিনি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের বগুড়ার আযীযুল হক কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের খণ্ডকালীন প্রভাষকের দায়িত্ব পালন করেন।

পঞ্চাশের দশকে তিনি কিছু দিন আকাশবাণীর স্টেশন ডিরেক্টরের দায়িত্ব পালন করেন পাটনা, কটক, কলকাতা ও দিল্লীতে। ১৯৬১ সালে তিনি শান্তিনিকেতনে ফিরে যান। বিশ্বভারতীর ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের রিডার হিসেবে যোগ দেন। ১৯৬৫ সালে তিনি অবসর গ্রহণ করেন। 

সৈয়দ মুজতবা আলী পরিণত বয়সে সাহিত্যচর্চায় মনোনিবেশ করার সঙ্গে সঙ্গেই ‘দেশে বিদেশে’ প্রকাশনার মধ্য দিয়েই তিনি বাংলা সাহিত্যাঙ্গনে জায়াগা করে নেন।

মুজতবা আলীর মধ্যে বিপুল সম্ভাবনার ইঙ্গিত হস্তলিখিত পত্রিকায় প্রকাশিত রচনায় রবীন্দ্রনাথ দৃষ্টি আকৃষ্ট হয়। শান্তিনিকেতনে অধ্যায়নরত অবস্থায় বিশ্বভারতী নামের হস্তলিখিত ম্যাগাজিনে মুজতবা আলী লিখতেন। পরবর্তী সময় তিনি সত্যপীর, ওমর খৈয়াম, টেকচাঁদ, প্রিয়দর্শী প্রভৃতি ছদ্মনামে বিভিন্ন পত্রিকায়, যেমন- দেশ, আনন্দবাজার, বসুমতী, সত্যযুগ, মোহাম্মদী প্রভৃতিতে কলাম লেখেন।

তার বহুদেশ ভ্রমণের অভিজ্ঞতা থেকে লিখেছেন ভ্রমণকাহিনী। এ ছাড়া লিখেছেন ছোটগল্প, উপন্যাস, রম্যরচনা। ১৯৪৯ সালে তিনি নরসিং দাস পুরস্কার লাভ করেন এবং ১৯৬১ সালে পান আনন্দ পুরস্কার।

তার উল্লেখযোগ্য রচনাগুলো হলো- ভ্রমনকাহিনী : দেশে-বিদেশে (১৯৪৯), জলে ডাঙ্গায় (১৯৬০); উপন্যাস: অবিশ্বাস্য (১৯৫৪), শবনম (১৯৬০), শহরইয়ার (১৯৬৯); ছোটগল্প: চাচা কাহিনী (১৯৫২), টুনি মেম (১৯৬৪); রম্যরচনা: পঞ্চতন্ত্র (১৯৫২), ময়ূরকণ্ঠী (১৯৫২)।

১৯৭৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি সৈয়দ মুজতবা আলী মৃত্যুবরণ করেন।

এবিএন/সাদিক/জসিম

এই বিভাগের আরো সংবাদ