অজয়

বিচিত্রা সেন, ০৮ জুন, এবিনিউজ : কিছুদিন হলো এ নতুন পাড়াটায় এসেছি। ভালো করে এখনো সবাইকে চিনে উঠতে পারিনি। তবে শহরের অন্যসব পাড়ার মতো এ পাড়াটাতেও উঠতি তরুণদের জটলা দেখা যায়। এ জটলার মধ্যে একটা ছেলেকে প্রায়ই চোখে পড়ে। হালকা–পাতলা লম্বা গড়ন। চেহারাটা বেশ মিষ্টি। সারাক্ষণ দেখা যায় রাস্তার পাশের কোনো দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে একগাদা বন্ধু নিয়ে আড্ডা দিচ্ছে, অথবা গলির মুখে দাঁড়িয়ে গান করছে, কিংবা সিগারেটের ধোঁয়ার রিং উড়িয়ে কারিশমা দেখাচ্ছে বন্ধুদের। কতই বা বয়স হবে ওর? একুশ– বাইশ হয়তো বা! কিংবা দুয়েক বছর এদিক সেদিক।

একটা কলেজে পড়াই আমি। কলেজে যাওয়া আসার সময় গলি দিয়ে ঢুকতে কখনো কখনো ওদের গ্রুপটাকে চোখে পড়ে। আমাকে খুব সম্মান করে ওরা। কখনো কথা হয় না, কিন্তু আমি টেক্সী কিংবা রিক্সা থেকে নামলেই দেখি ওরা গান বন্ধ করে দেয়, কিংবা সিগারেট আড়াল করে। কখনো কখনো কোথাও সপরিবারে বেড়াতে যাওয়ার সময় দেখি ওই গ্রুপটা যথারীতি গলির মুখে দণ্ডায়মান। আমাদের দেখে সসম্মানে পথ ছেড়ে দাঁড়ায়। পাশ কাটিয়ে চলে যাই আমরা।আমরা পরস্পরকে চিনতাম,কিন্তু জানতাম না। কিংবা কখনো বা দৃষ্টি বিনিময়ও হতো না এই নব্যতরুণদের গ্রুপটার সাথে। তবে আমি জানি ওরা আমাকে খুব সমীহ করে।

কলেজে পড়াই, সংসারও সামলাই। সংসার বলতে আমরা চারজন, আমি, আমার বর, আমার একমাত্র সন্তান দিব্য, আর ওকে দেখাশোনা করার জন্য একটা মেয়ে আছে,নাম মিতা। বাচ্চা ছোট হওয়াতে কলেজ সামলিয়ে বাইরে তেমন বেড়ানোও হয় না।তাই সুযোগ পেলেই কলেজে উৎসবের আমেজটা তৈরি করি।

সেদিন ছিল সেপ্টেম্বরের এক তারিখ। আমাদের কলেজে এক বিশেষ প্রোগ্রাম। সকাল থেকেই মনের মধ্যে কেমন উৎসব উৎসব ভাব টের পাচ্ছিলাম। কয়েকবার শাড়ি বদল করে শেষ পর্যন্ত আমার জন্মদিনে আমার হাজবেন্ডের গিফ্‌ট করা শাড়িটা পরলাম। যদিও আমি স্বর্ণের গয়না পরি না, কিন্তু কী মনে করে সেদিন আমি স্বর্ণের পুরো সেটটাই পরলাম। বার বার আয়নায় নিজেকে দেখতে গিয়ে যেন নার্সিসস বনে যাই প্রায়! আত্মমুগ্ধ আমি কলেজে কমনরুমে ঢোকার পর নিজের শাড়ি গয়না সিলেকশনের স্বীকৃতি পেলাম সব সহকর্মীর সমস্বরে চিৎকারে। আমাকে নাকি রাজরানীর মতো লাগছে! যদিও বাস্তবে রাজরানী কেমন ছিল তা আমাদের কারোই জানা নেই। নতুন শাড়ি–গয়নায় মনটাই কেমন যেন ফুরফুরে লাগছিল। যথাসময়ে প্রোগ্রাম শুরু এবং শেষ হলো। বাড়ি ফেরার আগে মনে পড়লো আজ এক তারিখ, বেতন এনং বোনাস তুলতে হবে। বেতন এবং পুজোর বোনাস ব্যাগে ঢোকানোর পরেই ফুরফুরে মনটা কেমন উসখুস করছিল। এতগুলো টাকা, একা বেবীটেক্সিতে যাবো, কোনো বিপদ হবে না তো? তখন সবেমাত্র মোবাইল ফোন বাজারে এসেছে।সখ করে একটা মোবাইল সেট নিয়েছি কিছুদিন আগে,সেটাও ব্যাগে আছে।মোটকথা আমার ভ্যানিটি ব্যাগটা সে মুহূর্তে আমার কাছে খুবই অমূল্যবস্তু। মনে কেমন যেন কু ডাক দিচ্ছিলো। কলেজ থেকে বেরুনোর সময় মনে পড়লো আমার গা ভর্তি সোনার গয়না। এ ভর দুপুরে এভাবে টেক্সীতে ওঠা কি ঠিক হবে? এরপর নিরাপত্তার কথা ভেবে গায়ের গয়নাগুলো সব ব্যাগে ভরলাম। সারাটা পথ বেবী টেক্সিতে একা একা আতংকে কাটালাম, পুজোর বোনাস, বেতন, মোবাইল ফোন, এবং একসেট স্বর্ণের গয়না এ আতংকের কারণ। যাই হোক ভগবানের নাম জপতে জপতে গলির মুখে এসে নামলাম।

কেমন এক দুশ্চিন্তায় আচ্ছন্ন আমি টেক্সিতে বসে ভাড়াটা না দিয়ে নিচে নেমে যেই না ব্যাগ খুলে টাকাটা বের করতে গিয়েছি, তখনই ঘটে গেলো এক অদ্ভুত ঘটনা!হঠাৎ দেখলাম একটা ঝাপটায় আমার ব্যাগ আমার হাত থেকে উধাও।তাকিয়ে দেখি এক পাগলী বয়স ঊনিশ / কুড়ি বছর, তার হাতেই আমার ব্যাগ। কিন্তু প্রথম ধাক্কায় কিছুটা হতচকিয়ে গেলেও আমি কি আর সাধারণ বাঙালি কুলবধূ? ছোটবেলা থেকেই খেলাধুলায়,বন্ধুদের সাথে মারামারিতে অভ্যস্ত আমি নিমিষেই পাল্টা আরেক টান দেওয়ার সাথে সাথেই ব্যাগ চলে এলো আমার হাতে। কিন্তু পরমুহূর্তেই পাগলীরূপী ছিনতাইকারী মেয়েটি আমার পিনআপ করা শাড়ির আঁচল ধরে এমন টান দিলো আমার সখের নতুন শাড়ির আঁচল পিন থেকে ছিঁড়ে পাগলীর হাতে চলে গেলো। জীবনে এমন নাজুক পরিস্থিতিতে আমি আর কখনো পড়িনি। একদিকে আমার শাড়ির আঁচল,অন্যদিকে আমার গয়না ও টাকাভর্তি ব্যাগ। ওই মুহূর্তে দুটোই আমার কাছে সমান গুরুত্বপূর্ণ। আমি চিৎকার করে সবার সাহায্য চাইলাম। কিন্তু বিকেল সাড়ে তিনটায় ওই এলাকায় আমার আশেপাশে কাউকেই দেখতে পাচ্ছিলাম না।রাস্তায় বেড়ে ওঠা মানুষদের গায়ে থাকে অস্বাভাবিক শক্তি,কারণ তারা জন্মলগ্ন থেকেই লড়াই করেই বাঁচে। পাগলীটারও এমন শক্তি সে আমার ব্যাগ কেড়ে নিবেই, আমার আঁচল তার হাতে হওয়াতে আমি কিছুটা বেকায়দায় পড়ে গেলাম,যদিও ব্যাগ এবং আঁচল কোনোটাই আমি ছাড়ছিলাম না। প্রকাশ্যে রাস্তার উপর চলছে তখন দুজন নারীর ব্যাগ নিয়ে টানাহ্যাঁচড়া। পাগলী আমার সাথে না পেরে আমাকে আঁচড়ানো শুরু করে দিলো তবুও আমি আমার বেতন,বোনাস,সদ্যকেনা মোবাইল ফোন,আর সোনার গয়নার মায়ায় কিছুতেই ব্যাগ ছাড়ছি না।আমি যেন সে মুহূর্তে ধৃতরাষ্ট্রের রাজসভায় দ্রৌপদী,ওই পাগলী যেন উন্মত্ত দুর্যোধন।কিন্তু কে হবে আমার বাসুদেব? আমি মনেপ্রাণে বিধাতার শরণ নিলাম।

হঠাৎ দেখলাম ঠিক সিনেমার মতোই আমার পিছন দিক থেকে আসা জিন্সের প্যান্ট পরা একটা পায়ের লাথিতেই পাগলীটা রাস্তায় ছিটকে পড়লো,আর ওর হাত থেকে মুক্ত হলো আমার আঁচল এবং ব্যাগ। আমি পাশ ফিরে দেখতে চাইলাম আমার দেবদূতকে। তখনই পেছন দিক থেকে আমার সামনে এসে ওই মিষ্টি চেহারার লম্বা ছেলেটি বললো,”ম্যাডাম আপনি বাসায় যান,একে আমি সামলাচ্ছি”। কিন্তুু ওর কথা শেষ হওয়ার আগেই পাগলীটা উঠে ওর উপর ঝাঁপিয়ে পড়লো।তারপর এক ভয়াবহ দৃশ্য।ছেলেটি এক একটা ফ্লাইং কিক দিয়ে পাগলীটাকে রাস্তায় ধরাশায়ী করছে, কিন্তু মুহূর্তেই পাগলীটা উঠে এসে ছেলেটিকে আঁচড়িয়ে কামড়িয়ে একাকার করে দিচ্ছে। আর এতক্ষণ যে রাস্তায় একটা মানুষ পাইনি আমি, সে রাস্তায় গোল হয়ে তালি দিয়ে সবাই এ দৃশ্য দেখছে। ছেলেটি বার বার চিৎকার করে বলছে, ম্যাডাম, আপনি বাসায় যান প্লীজ, ম্যাডাম আপনি বাসায় যান। আপনার বাচ্চা আপনার জন্য অপেক্ষা করছে। কিন্তু ছেলেটিকে এভাবে রেখে আমি নড়তে পারছিলাম না এক পাও। আমি শুধু সবাইকে বলছিলাম,”আপনারা সবাই পাগলীটাকে ধরেন প্লীজ, পাগলীটাকে ধরেন।” কিন্তু এমন মজাদার দৃশ্য উপভোগের সুযোগ কেউ হাতছাড়া করতে চাইলো না।

কারণ একটা ২২/২৩ বছরের ছেলে আর ১৯/২০ বছরের পাগলীর ওপেন ফাইট ওরা তো টাকা খরচ করে সিনেমাতেও দেখতে পাবে না। তাই আমার আর্তচিৎকারে সাড়া দেওয়ার কোনো গরজই তাদের ছিল না। অবশেষে এক ট্রাফিক সার্জেন্ট এসে পাগলীকে আটকালো। ছেলেটি আমাকে বাসায় যেতে বলে ওখান থেকে চলে গেলো। আমি তখনো আমার দেবদূতের পরিচয় জানি না।যদিও তাকে মুখচেনা চিনি। নিজেকে সামলে নিয়ে পাশের দোকানদারকে জিজ্ঞেস করে জানতে পারি আমার দেবদূত,আমার শ্রীকৃষ্ণ, আমার রক্ষাকর্তার নাম অজয়। গলির মুখেই ওদের বাসা। ওদের আর্থিক অবস্থা তেমন ভালো না। বাবার ছোট একটা পানের দোকানের আয়ে ওদের সংসার চলে।বাসায় ফিরে আমি মানসিকভাবে খুব অসুস্থ বোধ করছিলাম। অজয় না আসলে আমার কী দশা হতো তা ভাবতেই বার বার শিউরে উঠছিলাম। একবার ভাবলাম আমার হাজবেন্ডকে ফোন করে সব জানাই। পরে ভাবলাম,থাক,ওকে এখন টেনশন দিয়ে তো লাভ নেই,তার চেয়ে ও আসার অপেক্ষা করি।

সন্ধ্যায় ও বাসায় আসলে আমি কান্নায় ভেঙে পড়লাম। বার বার মনে হচ্ছিল পাগলী যেভাবে আমার শাড়ির আঁচলটা জড়িয়ে ফেলেছিল ওর হাতে,অজয় না আসলে আমার কী দশা হতো! ওকে সব ঘটনা খুলে বলে অজয়ের কথাটাও বললাম। ও পুরো ঘটনা শুনে হতবাক হয়ে গেলোএবং আমাকে কিছু না বলে সাথে সাথেই বেরিয়ে গেলো। কিছুক্ষণ পরেই দেখি অজয়কে নিয়ে ও হাজির। দোকানদারের সহায়তা নিয়ে গলির মুখ থেকে সে অজয়কে খুঁজে পেয়েছে আমাদের বাসায় এসে অজয় যেন কিছুটা হতবুদ্ধি হয়ে গেলো।সে বুঝে উঠতে পারছিল না কী ঘটতে যাচ্ছে।তাকে খুবই বিব্রত দেখাচ্ছিল। ওকে দেখে আমার দুচোখ দিয়ে অনবরত গড়িয়ে পড়ছিল জল।বার বার মনে হচ্ছিল অজয় ঠিক সময়ে না আসলে আমায় কী দশা হতো? আমরা দুজনই বার বার করে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছিলাম ওর কাছে।ওকে যখন নানারকম নাস্তা দিয়ে আপ্যায়ণ করি তখন ওর চোখে ছিল জল আর হাতেমুখে ছিল পাগলীটার আঁচড়ের দাগ। অজয় হঠাৎ আমার দিকে তাকিয়ে বললো,”ম্যাডাম,আমাকে তো সবাই রাস্তার বখাটে ছেলে বলে, পড়ালেখা বেশি করিনি, তবুও আমি কি আপনাকে দিদি ডাকতে পারি? আমার কোনো বড় বোন নেই।”আমি ওর হাতের বড় বড় আঁচড়গুলোর দিকে তাকিয়ে কাঁদতে কাঁদতে বললাম,” আজ থেকে তুমি আমার ছোট ভাই।আমারও কোনো ছোট ভাই নেই।তুমি আজ সবার সামনে আমার সম্মান এবং সম্পদ দুটোই বাঁচিয়েছো। তুমি ভাই হবে না তো কে ভাই হবে আমার?” আমার হাজবেন্ড বার বার করে বলছিল,”তুমি অনেক বড় একটা কাজ করেছো।আমি তোমার কাছে কৃতজ্ঞ। তোমার দিদিকে তুমি প্রতিদিন এসে একবার দেখে যাবে।” ও লাজুক হেসে বললো,”প্রতিদিন আসবো না।আপনারা বিরক্ত হবেন।আমরা রাস্তার বখাটে।দিদির কত সম্মান!আমি প্রতিদিন এ বাসায় আসলে দিদির অসম্মান হবে, তবে মাসে একবার আসবো।”আমি বললাম,” ঠিক আছে,আসবে কিন্তু।তোমার ঋণ আমি কখনো শোধ করতে পারবো না” অজয় জিভ কেটে বললো,” ছি,দিদি, এমন করে বলবেন না।”ও বেরিয়ে যাবার সময় ওর হাতে একটা প্যাকেট দিয়ে বললাম,” তুমি এটা রাখো।” বেদনায় বিমর্ষ হয়ে যাওয়া চোখে ও আমার দিকে তাকিয়ে বললো” দিদি,আমি তো আপনাকে দিদি বললাম, আপনি আমাকে টাকা দিচ্ছেন?” আমি লজ্জায় সংকুচিত হয়ে বললাম,” প্লীজ অজয়, ওভাবে নিও না।তোমার সারা শরীর ক্ষতবিক্ষত পাগলীর আঁচড়ে, তুমি এখনই ডাক্তারের কাছে যাবে। তাই এটা রাখো,তোমার কাজে লাগবে।”ও আবারও জিভ কেটে বললো,” না, দিদি, এটা নেওয়া আমার পক্ষে সম্ভব না”। বলেই পাশ কাটিয়ে দ্রুত বেরিয়ে গেলো। অজয় বেরিয়ে যাওয়ার পর মনে হলো অজয় আমাকে দিদি ডেকেছে সত্যি, তবে আসলে অজয় আমার চেয়ে অনেক বড়। আমরা সার্টিফিকেটধারী তথাকথিত শিক্ষিতরা অজয়দের কখনো ছু্‌ঁতে পারবো না।অজয়রা থাকে নিঃস্বার্থতার দিক থেকে অনন্য উচ্চতায়।

এরপর কেটে গেছে দশ / বারোদিন।মাঝে মাঝে অজয়কে গলির মুখে দেখি বন্ধুদের সাথে চুটিয়ে আড্ডা দিচ্ছে।আমাকে দেখলেই খুব ভদ্র ছেলের মতো মাথা নিচু করে এগিয়ে আসে,কেমন আছি জানতে চায়, কখনো কখনো টেক্সি ঠিক করে দেয়। এরই মধ্যে পাড়ায় পাড়ায় সাজ সাজ রব,পুজো একেবারে সন্নিকটে। ভাবলাম এবারের পুজোয় অজয়কে একটা শার্ট দেবো।কিন্তু কিছুতেই সময় বের করতে পারছি না। আজ বিকেলে যে করেই হোক অজয়ের জন্য একটা শার্ট কিনতেই হবে।কলেজ থেকে শর্টলিভ নিয়ে বাসায় ফিরছিলাম।কিন্তু গলির মুখে সিএনজি থেকে নেমে একটা পোস্টারের দিকে চোখ যেতেই মাথাটা চক্কর দিয়ে উঠলো! আমার চোখের সামনে একটা বিশাল ব্যানার আমার সমস্ত বোধবুদ্ধিকে যেন কিছুক্ষণের জন্য স্তব্ধ করে দিলো।

এ কী দেখছি আমি?কী লিখেছে এসব এ ব্যানারে? আমি আর দাঁড়াতে পারছি না! চোখ অন্ধকার হয়ে আসছে।সব মিথ্যা হোক,সব মিথ্যা হোক।কোনোরকমে টাল সামলিয়ে পাশের দোকানদারকে জিজ্ঞেস করলাম, ”এসব কী লিখেছে এখানে?”দোকানদার মলিনমুখে বললো,” হ্যাঁ,দিদি,ছেলেটা কাল রাতে এক্সিডেন্টে মারা গেছে।” আমি ঝাপসা চোখে তাকালাম ব্যানারটার দিকে। অজয়ের বড় একটা ছবির পাশে কালো কালিতে লেখা ”অজয় বড়ুয়ার অকাল মৃত্যুতে আমরা শোকাহত”।আমার চারপাশ তখন অন্ধকার হয়ে আসছে।শুধু মিটিমিটি হাসি নিয়ে অজয় আমার দিকে তাকিয়ে আছে।যেন বলছে,”দেখলে দিদি,কেমন ফাঁকি দিয়ে চলে গেলাম তোমাকে!” আমি আর দাঁড়াতে পারলাম না।দোকানের সামনে রাখা একটা টুলের ওপর বসে পড়লাম।আমার দুচোখ দিয়ে গড়িয়ে পড়া জল নিয়ে কে কী ভাবছে তা আর তখন মাথায় নেই,বার বার ভেসে উঠছে এই জায়গাটিতেই আমাকে বাঁচাতে ওর পাগলীর সাথে মারামারির দৃশ্যটা,আর কানে বাজছে,” আপনাকে আমি দিদি ডাকতে পারি ম্যাডাম?” (সংগৃহীত)

এবিএন/ফরিদুজ্জামান/জসিম/এফডি