চারণ কবি বিজয় সরকারের ৩৩তম মৃত্যুবার্ষিকী কাল

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৩ ডিসেম্বর ২০১৮, ১৬:০৪

একুশে পদকপ্রাপ্ত প্রয়াত চারণ কবি বিজয় সরকারের ৩৩তম মৃত্যুবার্ষিকী আগামীকাল মঙ্গলবার। এ উপলক্ষে ৪ ও ৫ ডিসেম্বর দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়েছে নড়াইল জেলা শিল্পকলা একাডেমি চত্বরে।

চারণ কবি বিজয় সরকার ফাউন্ডেশনের আয়োজনে দুইদিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার মধ্যে রয়েছে কবির প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক্য অর্পণ, স্মৃতিচারণ, বিজয়গীতি পরিবেশন, আলোচনা সভা, বিজয় সরকার স্বর্ণপদক প্রদান ও কবি গানের আসর। দু’দিনব্যাপী অনুষ্ঠান সফল করতে নানা উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানান বিজয় সরকার ফাউন্ডেশন কর্মকর্তা আকরাম শাহীদ চুন্নু। অনুষ্ঠানে দেশ-বিদেশের স্বনামধন্য বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ অংশগ্রহণ করবেন বলে তিনি জানান। এবার বিজয় সরকার স্বর্ণপদক পাচ্ছেন বাগেরহাটের কবি শ্যামল সরকার।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন নড়াইলের জেলা প্রশাসক আনজুমান আরা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন পুলিশ সুপার মো. জসিম উদ্দিন পিপিএম ও নড়াইল সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর রবিউল ইসলাম।

অসাম্প্রদায়িক চেতনার সুরস্রষ্টা, গীতিকার ও গায়ক, চারণকবি বিজয় সরকার ১৯০৩ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি (১৩০৯ বঙ্গাব্দের ৭ ফাল্গুন) নড়াইল সদর উপজেলার বাঁশগ্রাম ইউনিয়নের ডুমদি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম নবকৃষ্ণ অধিকারী এবং মার নাম হিমালয়া দেবী। তার শৈশবকাল এবং জীবনের বেশির ভাগ সময় কেটেছে প্রিয় জন্মভূমি ডুমদিসহ নড়াইলের বিভিন্ন এলাকায়। ছেলেবেলা থেকেই তিনি (বিজয় সরকার) কবিতা, গান রচনা ও সুরের মধ্যে ডুবে থাকতেন। তাই প্রাতিষ্ঠানিক লেখাপড়ায় তিনি আর বেশিদূর এগুতে পারেননি। মাত্র নবম শ্রেণীতে অধ্যয়নরত অবস্থায়ই তার লেখাপড়ার সমাপ্তি ঘটে। মতান্তরে তিনি ম্যাট্রিক পাস। 

এরপর তিনি গানের দল নিয়ে বেরিয়ে পড়েন বাংলাদেশ-ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে। তিনি একাধারে গানের রচয়িতা ও সুরকার। পোষা পাখি উড়ে যাবে সজনী/ একদিন ভাবি নাই মনেৃ। এই পৃথিবী যেমন আছে/ তেমনি ঠিক রবে/ সুন্দর এই পৃথিবী ছেড়ে/ একদিন চলে যেতে হবেৃ। তুমি জানো নারে প্রিয়/ তুমি মোর জীবনের সাধনা’ৃএ ধরনের অসংখ্য জনপ্রিয় গানের স্রষ্টা ছিলেন তিনি।তিনি প্রায় এক হাজার ৮০০ গান রচনা করেছেন। তিনি অনেক কবিতাও রচনা করেন। কবিগানের আসরেও দুর্দান্ত ছিলেন তিনি। মাতিয়ে তুলতেন দর্শক-শ্রোতাদের। কোন কোন মঞ্চে তৎক্ষনাৎ নিজের রচিত আধ্যাতিœক গান পরিবেশন করে তিনি উপস্থিত শ্রোতাদের মুগ্ধ করতেন।

কবি গানে বিশেষ অবদানের জন্য তিনি চারণকবি ও সরকার উপাধিতে ভূষিত হন। ১৯৮৫ সালের ৪ ডিসেম্বর ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কেউটিয়ার তার মৃত্যুর হয়। শিল্পকলায় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে ২০১৩ সালে একুশে পদক (মরণোত্তর) পান উপমহাদেশের প্রখ্যাত এই চারণ কবি।

এবিএন/সাদিক/জসিম

এই বিভাগের আরো সংবাদ