করোনায় লিখিত পরীক্ষা নেবে বার কাউন্সিল

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৯:১১

নভেল করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে বন্ধ রয়েছে সারা দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। তবে এর মধ্যে আইনজীবীদের নিবন্ধন লিখিত পরীক্ষা চলতি মাসের ২৬ সেপ্টেম্বর নেওয়ার ঘোষণায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। এদিকে সনদের দাবিতে ৭১তম দিনের মতো একটানা প্রতীকী অনশন করে চলেছেন এমসিকিউ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষানবিশ আইনজীবীরা। সমস্যা সমাধানে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপও চেয়েছেন তাঁরা।

জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আজ শনিবারও অনশন কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষানবিশ আইনজীবীরা।

জানা যায়, সনদের দাবিতে শিক্ষানবিশ আইনজীবীদের চলমান আন্দোলনের কারণে গত ২৬ জুলাই লিখিত পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করে বার কাউন্সিল। আইনজীবীদের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ বার কাউন্সিল কর্তৃপক্ষ করোনা পরিস্থিতির মধ্যেই আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর লিখিত পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করে।

করোনার মধ্যে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার পরও ১৩ হাজার শিক্ষার্থীর পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।

এদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আগামী ৩ অক্টোবর পর্যন্ত বন্ধ রয়েছে। বন্ধের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পরীক্ষা সম্পন্ন করবে কিনা, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

এ বিষয়ে আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে আজ শনিবার দুপুরে এনটিভি অনলাইনকে তিনি বলেন, ‘পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ বার কাউন্সিল কর্তৃপক্ষের বিষয়। তবে করোনার মধ্যে পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে তাদের সঙ্গে আলোচনা করে দেখব।’

বার কাউন্সিলের পরীক্ষার কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন এনটিভি অনলাইনকে বলেন, ‘এমসিকিউ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষানবিশ আইনজীবীরা তাঁদের সনদ দেওয়ার জন্য দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছেন। শিক্ষার্থীদের দাবির মধ্যে ছিল অনেক দিন বন্ধ থাকা পরীক্ষা নেওয়া। এখন আমরা পরীক্ষার তারিখ ঠিক করেছি।  পরীক্ষা কমিটির সর্বশেষ মিটিংয়ে লিখিত পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়েছে। করোনা পরিস্থিতিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরীক্ষা নেবে কিনা, এ বিষয়টি আমার জানা নেই।’  

২০১৭ ও ২০২০ সালে অনুষ্ঠিত এমসিকিউ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষানবিশ আইনজীবীরা সনদের দাবিতে টানা ৭১ দিন প্রতীকী অনশন পালন অব্যাহত রেখেছেন।

শিক্ষানবিশ আইনজীবী পরিষদের অন্যতম সমন্বয়ক এ কে মাহমুদ বলেন, ‘অভিভাকরা আমাদের সনদের ব্যবস্থা করবেন, সে প্রত্যাশায় টানা ৭১ দিন ধরে রাস্তায় অবস্থান করছি। এরই মধ্যে অনেক শিক্ষানবিশ আইনজীবী করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। আমাদের দাবি হলো, সনদের ব্যবস্থা করে দিন, প্রত্যেকে নিজ নিজ বাড়ি ফিরে যাই।’

নজরুল ইসলাম নামের এক শিক্ষানবিশ আইনজীবী জানান, বার কাউন্সিল আইন অনুযায়ী, প্রতি ছয় মাস পরপর বার কাউন্সিলের তালিকাভুক্তির পরীক্ষা নেওয়ার কথা থাকলেও ২০১৭ সালের পর এখন পর্যন্ত একটি পরীক্ষাও সম্পন্ন করতে পারেনি বার কাউন্সিল; অথচ এই সময়ে আইন অনুযায়ী কমপক্ষে ছয়টি পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার কথা। ঠিক সময়ে পরীক্ষা না হওয়ায় আইন বিষয়ে পড়ালেখা করেও মারাত্মক সংকটের মধ্যে রয়েছেন আইনে ডিগ্রি অজর্নকারীরা। ছয় মাস পরপর প্রতি পরীক্ষায় পাঁচ হাজার আইনজীবী তালিকাভুক্ত হলেও গত তিন বছরে ছয়টি পরীক্ষায় কমপক্ষে ৩০ হাজার আইনজীবী তালিকাভুক্ত হতেন। সে তুলনায় বতর্মান ১২ হাজার ৮৭৮ জন খুবই সামান্য।

২০২০ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি কঠিন প্রতিযোগিতামূলক এমসিকিউ পরীক্ষায় প্রায় ৮৪ হাজার শিক্ষানবিশ আইনজীবী অংশ নিয়ে পাস করেন মাত্র মাত্র আট হাজার ৭৬৪ জন। আর ২০১৭ সালে পাস করেন সাড়ে তিন হাজার জন।

বার কাউন্সিল ঠিকমতো সময় পরীক্ষা না নেওয়ায় পরীক্ষার দাবিতে শিক্ষানবিশ আইনজীবীরা গত বছরের নভেম্বরে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সামনে অনশন করেন। বার কাউন্সিল যেহেতু ঠিক সময়ে পরীক্ষা নিতে পারেনি, তাই শিক্ষানবিশ আইনজীবীরা মানবিক বিবেচনায় লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা মওকুফের দাবি জানিয়ে গেজেট করে ১২ হাজার ৮৭৮ জনকে তালিকাভুক্তির বা সনদ প্রদানের দাবি জানাচ্ছেন।

এদিকে, গত ৭ সেপ্টেম্বর করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে আসন্ন ২৬ সেপ্টেম্বরের লিখিত পরীক্ষা বাদ দিয়ে শুধু মৌখিক (ভাইভা) পরীক্ষা গ্রহণ করে আইনজীবী সনদ প্রদানের দাবি সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে।  সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বিরোধী দল জাতীয় পার্টির হুইপ পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ এ দাবি জানান।

পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ জাতীয় সংসদে বলেন, ‘আন্দোলন দমানোর জন্য যে লিখিত পরীক্ষার তারিখ দিলেন, এখন এই করোনাকালে ১৩ হাজার পরীক্ষার্থী কীভাবে পরীক্ষা দেবেন? যেখানে আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে, সেখানে এই ১৩ হাজার আইনজীবীর অন্তর্ভুক্তির জন্য কীভাবে পরীক্ষা নেবেন স্পিকার? তাই আমার দাবি, এই করোনাকালে ১৩ হাজার পরীক্ষার্থীকে না বসিয়ে জেলা জজদের অধীনে শুধু ভাইভা পরীক্ষা নিয়ে তাঁদের আইনজীবী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হোক।’

এবিএন/মমিন/জসিম

এই বিভাগের আরো সংবাদ