করোনার প্রভাবে ৯৫ শতাংশ পরিবারের উপার্জন ক্ষতিগ্রস্ত: ওয়ার্ল্ড ভিশন

  ইউএনবি

২০ জুন ২০২০, ১৭:২৬ | অনলাইন সংস্করণ

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের প্রভাবে দেশের প্রায় ৯৫ শতাংশ পরিবারের উপার্জন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে ওয়ার্ল্ড ভিশন।

বেসরকারি সংস্থাটি জানায়, কোভিড-১৯ এর প্রভাবে সৃষ্ট সামাজিক ও অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে শিশু, বিশেষত যারা শহর বা গ্রামের অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বসবাস করছে তাদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যঝুঁকি বৃদ্ধি পেয়েছে।

শনিবার প্রকাশিত ওয়ার্ল্ড ভিশনের বাংলাদেশ নিয়ে কোভিড-১৯ র‌্যাপিড ইমপ্যাক্ট অ্যাসেসমেন্ট প্রতিবেদন এ তথ্য উঠে আসে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশব্যাপী সরকার ঘোষিত প্রায় ৯০ দিনের লকডাউনে কার্যত অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড স্থবির হয়ে পড়ে। এতে দেশের প্রায় ৯৫ শতাংশ পরিবারের উপার্জন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যার মধ্যে দৈনিক রোজগার বা ব্যবসা বন্ধ থাকায় ৭৮ দশমিক ৩ শতাংশ পরিবারের উপার্জন কমেছে।

ওয়ার্ল্ড ভিশনের অন্তর্র্বতীকালীন ন্যাশনাল ডিরেক্টর চন্দন গোমেজ বলেন, ‘আমরা শঙ্কিত। বিশেষত, পাঁচ বছরের কম বয়সী সেই শিশুদের নিয়ে যারা অপুষ্টির মতো প্রতিরোধযোগ্য সংক্রমণের ঝুঁকির মধ্যে আছে, যা দেশে শিশু মৃত্যুর হার বাড়িয়ে তুলতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘দেশের ২৬ জেলার ৫৭টি উপজেলায় আমাদের কর্ম এলাকাগুলোতে দেখেছি খাদ্য সংকটের কারণে অপুষ্টির মতো সমস্যাগুলোতে শিশুরা অধিক মাত্রায় সংক্রমিত হচ্ছে।’

প্রতিবেদনটিতে উঠে এসেছে, জরিপ এলাকার ৯৪ দশমিক ৭ শতাংশ পরিবারে খুব সামান্য অথবা কোনো খাবার সঞ্চিত নেই যেখানে ৩৮ দশমিক ৫ শতাংশ শিশু এবং ৫৮ দশমিক ৯ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি দিনে সর্বোচ্চ দুবেলা খেতে পারছেন। এছাড়া ৫৮ শতাংশ পরিবার খুব কম খাবার খেয়ে দিন পার করছে।

প্রতিবেদনে আরও উঠে এসেছে, প্রায় ৩৪ শতাংশ পরিবার রান্না, ধোয়া-মোছা ও পান করার জন্য নিরাপদ ও বিশুদ্ধ পানি পাচ্ছে না । অন্যদিকে ৫০ শতিাংশ পরিবার স্বাস্থ্যবিধি উপকরণ এবং পরিষ্কার পানির অপর্যাপ্ততার কারণে সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার মত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে পারছে না।

‘আমি শঙ্কিত সেই ৮৭ শতাংশ শিশুদের নিয়ে যারা বাড়িতে থেকে বিচ্ছিন্ন বোধ করছে এবং ৯১ দশমিক ৫ শতাংশ শিশু যারা কোভিড-১৯ নিয়ে দুঃশ্চিন্তাগ্রস্ত। রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরের শিশু এবং তাদের পার্শ্ববর্তী জনবসতিসহ বাংলাদেশের শিশুদের বর্তমান পরিস্থিতিতে যেসব সমস্যা প্রভাবিত করছে তা সমাধানে আমাদের দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া এবং এ সমস্যাগুলো সমাধানে প্রয়োজনীয় উপকরণ ও সেবা প্রাপ্তি নিশ্চিত করা প্রয়োজন,’ যোগ করেন চন্দন গোমেজ।

দেশের আট বিভাগের ৫২ উপজেলার ১২ থেকে ১৮ বছর বয়সী ১ হাজার ৬১৬ জন শিশু এবং ২ হাজার ৬৭১ জন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির ওপর পরিচালিত জরিপ থেকে প্রাপ্ত তথ্য নিয়ে র‌্যাপিড ইমপ্যাক্ট অ্যাসেসমেন্ট প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।

এবিএন/মমিন/জসিম

এই বিভাগের আরো সংবাদ