পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই ৩৮তম বিসিএসের ফল

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৩ জুন ২০২০, ২২:০৩

৩৮তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশের দীর্ঘসূত্রিতা নিয়ে পরীক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকন্ঠা থাকলেও বিদ্যমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন স্বয়ং সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, করোনা ভাইরাস সবকিছুই অস্বাভাবিক করে দিয়েছে। তবে পরিস্থিতি একটু স্বাভাবিক হলেই স্বল্প সময়ের ব্যবধানে ফলাফল প্রকাশ করা হবে। ফলাফল প্রকাশের জন্য কমিশন থেকে একটি সাব কমিটি করা হয়েছে। কমিটি মিটিংও করেছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ফল প্রকাশের প্রস্তুতি চলছে।

যদিও করোনা ভাইরাসের প্রকোপ না থাকলে গত এপ্রিলের প্রথমেই ফলাফল প্রকাশ করার সব প্রস্তুতি ছিলো পিএসসির । কিন্তু বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া ভয়ংকর করোনা ভাইরাসের থাবায় প্রতিটি রাষ্ট্রের সবকিছুই স্থবির হয়ে গেছে। সরকারের পাশাপাশি পিএসসির কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যঘাত ঘটেছে। শুধু ৩৮তম বিসিএস নয়, ৪০ এবং ৪১ তম বিসিএসের কার্যক্রমও আটকে যায়।

পরীক্ষার্থীরা বলছেন, আগামী ১৯জুন ৩৮তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি জারির সময় তিন বছর অতিক্রান্ত হবে। কিন্তু এখনো পর্যন্ত ফলাফল প্রকাশের সুনির্দিষ্ট খবর নেই। এতে করে চরম হতাশ হয়ে যাচ্ছেন তারা। কেননা অনেকের সরকারি চাকুরির বয়স শেষ হয়ে যাচ্ছে। এজন্য দ্রুত বিশেষ ব্যবস্থায় ফলাফল প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন তারা।

৩৮তম বিসিএসের শতভাগ সচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য দুইজন পরীক্ষক কর্তৃক খাতা মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালু করে পিএসসি। মূলত দুইজনের মধ্যে নম্বরের হেরফের হলে তৃতীয় পরীক্ষক কর্তৃক খাতা মূল্যায়নে সময় ক্ষেপন হয়।

দীর্ঘসূত্রিতার কারণ হিসাবে পিএসসি বলছে, তৃতীয় পরীক্ষক কর্তৃক খাতা মূল্যায়ন, বাংলা এবং ইংরেজিতে প্রশ্নপত্র প্রস্তুত, অধিক স্বচ্ছতার জন্য ১২পরীক্ষার্থী নিয়ে ভাইভা বোর্ড গঠন, ৩৮তম বিসিএসের মধ্যে ৩৯তম বিশেষ বিসিএস থেকে ৭হাজার চিকিৎসক নিয়োগ, ৪০তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা সম্পন্ন করা এবং দুই লাখ সহকারী শিক্ষকের পরীক্ষা গ্রহণের কারণে ফলাফল প্রকাশে বিলম্ব হয়।

দ্রুত ফলাফল প্রকাশের বিষয়ে পিএসসি সর্বোচ্চ সদিচ্ছা রয়েছে বলে জানিয়েছেন সাব কমিটির একজন সদস্য। তিনি বলেন, বিসিএসের ফলাফল প্রস্তুত করতে হয় সুর্নিদিষ্ট একটি কক্ষে বসে। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে একসাথে বসে পিএসসির বয়োজ্যেষ্ঠ সদস্যদের নিয়ে কাজ করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এই বিষয়টি সবাই বিবেচনায় নিতে হবে। স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে অফিসিয়াল কার্যক্রম চলছে না। তাই পরিস্থিতি একটু উন্নীতি হলেই ফলাফল প্রকাশের কার্যক্রম শুরু হবে। ওই সদস্য আরো বলেন, বিলম্বের কারণে ৩৮তম বিসিএসে পদ সংখ্যাও বাড়তে পারে।

৩৮তম বিসিএসের ফলাফল প্রকাশের বিষয়ে জানতে চাইলে পিএসসির চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সাদিক ইত্তেফাককে বলেন, ‘করোনা শুধু জাতীয় নয়, এটি বৈশ্বিক সঙ্কট তৈরি করেছে। এই বাস্তবতা সবাইকে মানতে হবে। আমাদের চেষ্টার কোন ত্রুটি নেই। ৩৮তম বিসিএসের ফলাফল প্রকাশ পিএসসির কাজের মধ্যে অন্যতম। আশা করছি পরিস্থিতি একটু ভালো হলে দ্রুত সময়ের মধ্যে ফলাফল প্রকাশ করতে পারবো।

গত বছরের ২৯ জুলাই থেকে ৩৮তম বিসিএসের মৌখিক পরীক্ষা শুরু হয়। চলতি বছরের ৯ ফেব্রুয়ারি পরীক্ষা শেষ হয়েছে। গত বছরের ১ জুলাই ৩৮তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করে পিএসসি। এতে পাশ করেন ৯ হাজার ৮৬২ জন। ৩৮তম বিসিএসের মাধ্যমে জনপ্রশাসনে ২ হাজার ২৪ জন ক্যাডার কর্মকর্তা নিয়োগ করার কথা ছিল। তবে এখন এই বিসিএসে অতিরিক্ত আরো ৩৭৬ জন বেশি নিয়োগ পাবেন। এতে এই বিসিএসে মোট পদের সংখ্যা হচ্ছে ২ হাজার ৪শ। ২০১৭ সালের ২৯ ডিসেম্বর ৩৮তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ৩ লাখ ৮৯ হাজার ৪৬৮ জন প্রার্থী আবেদন করেন।

এবিএন/মমিন/জসিম

এই বিভাগের আরো সংবাদ