৪১তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা জুনে 

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৩ মার্চ ২০২০, ২১:৪০

৪১তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা চলতি বছরের মার্চে হওয়ার কথা থাকলেও সেটি পিছিয়েছে। ৩৮তম বিসিএসের ফলাফল এবং মুজিববর্ষ উদযাপনের জন্য চলতি মাসে সেটি সম্ভব হচ্ছে না। পিএসসির একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সূত্র জানায়, আগামী এপ্রিল মাসে ৪১তম বিসিএসের প্রিলি পরীক্ষা হওয়ার একটা শঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তবে এপ্রিল মাসে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা শুরু হওয়ায় এপ্রিলে প্রিলি পরীক্ষা হবার সম্ভাবনা নেই। কারণ উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা মাসব্যাপী চলবে।

আবার এপ্রিলের ২৩ তারিখ থেকে রোজা শুরু হবে। রোজার মধ্যে বিসিএস প্রিলি হওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। রোজা শেষ হবে মে মাসের শেষের দিকে। এরপর ঈদের ছুটি। ছুটি শেষ হওয়ার পর বিসিএস প্রিলি পরীক্ষা নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সে হিসেবে জুনের প্রথম সপ্তাহে ৪১তম বিসিএস প্রিলি হবার সম্ভাবনা সব থেকে বেশি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পিএসসির পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক নেসারউদ্দিন জানান, বিসিএস অন্য চাকরি পরীক্ষার মতো নয়। এটি একটি পাবলিক পরীক্ষা। অন্যান্য পাবলিক পরীক্ষার সাথে সমন্বয় করে বিসিএস প্রিলির তারিখ নির্ধারণ করা হয়। আমরা মার্চে পরীক্ষার সময় দিয়েছিলাম তবে কিছু কারণে সেটি মার্চে নেয়া সম্ভব হয়ে উঠছে না। আমরা শিগগির চেয়ারম্যান স্যারের সাথে বৈঠক করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব।

কবে হচ্ছে ৪১তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি? জানতে চাইলে পিএসসি চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সাদিক জানান, যত দ্রুত সম্ভব ৪১তম বিসিএস প্রিলির পরীক্ষা নেওয়ার সর্বাত্মক চেষ্টা করছি। তবে আপাতত আমরা ৩৮তম বিসএস পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে ব্যস্ত আছি। ৩৮তম বিসিএসের ফল ঘোষণার পরে আমরা ৪১তম বিসিএসের প্রিলি পরীক্ষা নিতে চাই।

সূত্র জানায়, ৩৮তম বিসিএসের ফলাফল প্রস্তুতের কাজ প্রায় শেষ। চলতি মাসের যেকোনো দিন ৩৮তম বিসিএসের ফল প্রকাশ করা হবে। এরপর ৪১তম বিসিএসের প্রিলি পরীক্ষা নেয়ার কাজ শুরু হবে।

প্রসঙ্গত, ৪১তম বিসিএসে রেকর্ডসংখ্যক প্রার্থী আবেদন করেছেন। এই বিসিএসে মোট ৪ লাখ ৭৫ হাজার প্রার্থীর আবেদনপত্র জমা পড়েছে। এর আগে ৪০তম বিসিএসে রেকর্ডসংখ্যক ৪ লাখ ১২ হাজার প্রার্থী আবেদন করেছিলেন।

৪১তম বিসিএসের মাধ্যমে বিভিন্ন পদে ২ হাজার ১৬৬ জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে। ৪১ তম বিসিএসের শিক্ষা ক্যাডারে সবচেয়ে বেশি ৯০৫ জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে। তাছাড়া বিসিএস প্রশাসনে ৩২৩ জন, পুলিশে ১০০ জন, পররাষ্ট্রে ২৫ জন, সহকারী কর কমিশনার ৬০ জন, আনসারে ২৩ জন, অর্থ মন্ত্রণালয়ে সহকারী মহা হিসাবরক্ষক (নিরীক্ষা ও হিসাব) ২৫ জন, সহকারী কমিশনার (শুল্ক ও আবগারি) ২৩ জন ও সহকারী নিবন্ধক ৮ জন, পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ৪ জন, বিসিএস খাদ্যে সহকারী খাদ্যনিয়ন্ত্রক ৬ জন ও সহকারী রক্ষণ প্রকৌশলী ২ জন, সহকারী পোস্ট মাস্টার জেনারেল পদে ২ জনকে নেওয়া হবে।

তথ্য মন্ত্রণালয়ের সহকারী পরিচালক বা তথ্য কর্মকর্তা বা গবেষণা কর্মকর্তা পদে ২২ জন, সহকারী পরিচালক (অনুষ্ঠান) পদে ১১ জন, সহকারী বার্তা নিয়ন্ত্রক পদে ৫ জন, সহকারী বেতার প্রকৌশলী পদে ৯ জন, স্থানীয় সরকার বিভাগে বিসিএস জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলে সহকারী প্রকৌশলী পদে ৩৬ জন নিয়োগ পাবেন।

তাছাড়া, পরিসংখ্যান কর্মকর্তা পদে ১২ জন, রেলপথ মন্ত্রণালয়ে সহকারী যন্ত্র প্রকৌশলী ৪ জন, সহকারী ট্রাফিক সুপারিনটেনডেন্ট ১ জন, সহকারী সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক ১ জন, সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) ২০ জন, সহকারী প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) ৩ জন, বিসিএস গণপূর্তে সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) ৩৬ জন ও সহকারী প্রকৌশলী (ই/এম) ১৫ জনকে নেওয়া হবে।

বিসিএস পশুসম্পদে ৭৬ জন, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ১৮৩ জন ও বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ৬ জন, মৎস্যে ১৫ জন, সহকারী বন সংরক্ষক পদে ২০ জন, বিসিএস বাণিজ্যে সহকারী নিয়ন্ত্রক ৪ জন নিয়োগ পাবেন।

এছাড়া বিসিএস স্বাস্থ্যতে সহকারী সার্জন পদে ১১০ জন ও সহকারী ডেন্টাল সার্জন পদে ৩০ জন নিয়োগ পাবেন। সবমিলিয়ে ২ হাজার ১’শ ৬৬ জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে। তবে পদসংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে বিপিএসসি।

এবিএন/মমিন/জসিম

এই বিভাগের আরো সংবাদ