চাকরিতে প্রবেশের বয়স ৩৫ করার পক্ষে ৯ যুক্তি

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০১ নভেম্বর ২০১৮, ১৯:২৭

সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩০ থেকে বাড়িয়ে ৩৫ করার দাবিতে ৯ দফা যুক্তি তুলে ধরেছে ‘বাংলাদেশ ছাত্র পরিষদ’। একইসঙ্গে শুক্রবার সকাল সাড়ে নয়টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ছাত্র পরিষদ ও জনতা মঞ্চের বিক্ষোভ সমাবেশ এবং শনিবার সকাল ১০টায় শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ কর্মসূচিও ঘোষণা করা হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক সমিতির (ডুজা) কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলন এ ৯ দফা যুক্তি তুলে ধরে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। এর আগেও তারা সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়স বাড়ানোর জন্য আন্দোলন করেছেন। এবার তারা তাদের দাবি আদায়ের পক্ষে ৯টি যুক্তি দিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান বাংলাদেশ ছাত্র পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. আমিরুল ইসলাম সেলিম। তিনি বলেন, ‘উন্নত বিশ্ব জনগণকে জনশক্তিতে রূপান্তরের ক্ষেত্রে বয়সের কোনও সীমারেখা নির্দিষ্ট করে রাখেনি। উন্নত দেশে চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা আমাদের দেশের তুলনায় অনেক বেশি। কোনও কোনও দেশে অবসরের আগের দিন পর্যন্ত চাকরিতে প্রবেশের সুযোগ রাখা হয়। সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বাড়ানোর সঙ্গে সরকারের কোনও আর্থিক সংশ্লিষ্ট নেই। তাই সিদ্ধান্তটি হবে জনমুখী। এর ফলে, উপকৃত হবে লাখ লাখ শিক্ষিত তরুণ-তরুণী ও তাদের পরিবার।

চাকরির বয়সসীমা ৩০ থেকে ৩৫ করার পক্ষে যুক্তিগুলোর মধ্যে প্রথম কারণ হলো—প্রাথমিক পর্যায়ে ভর্তি হওয়ার ন্যূনতম বয়স ৬ বছর করা হয়েছে। এরফলে একজন শিক্ষার্থী ১৬ বছর বয়সের আগে কোনোভাবে এসএসসি পাস করতে পারে না। দ্বিতীয় কারণ হলো, স্নাতক ও সম্মান উভয় ক্ষেত্রে একবছর করে বাড়িয়ে যথাক্রমে তিন ও চার বছর করা হয়েছে। তৃতীয় কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, ডাক্তারদের চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩২ করা হয়েছে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের চেয়ে মেডিক্যাল শিক্ষার্থীদের একবছর বেশি অর্থাৎ ৪ বছর অধ্যায়ন করতে হয়। পরবর্তী সময়ে সাধারণদের স্নাতক ও সম্মান উভয় পর্যায়ে সময় একবছর বাড়ালেও চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা আনুপাতিক হারে বাড়ানো হয়নি।

চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৫ বছর করার পক্ষে চার নম্বর যুক্তিতে বলা হয়েছে, এসএসসি, এইচএসসি, অনার্স, ডিগ্রি ও মাস্টার্সের রেজাল্ট বের হওয়ার মধ্যবর্তী সময় নষ্ট হয় প্রায় দুই বছর। পাঁচ নম্বর কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রচলিত নিয়মে ২৩ বছর বয়সে শিক্ষা জীবন শেষ হওয়ার কথা থাকলেও সমীকরণটি শুধু কাগজে কলমের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। ছয় নম্বর যুক্তিতে বলা হয়েছে, দুই থেকে তিন বছর সেশনজট থাকায় শিক্ষার্থীরা যথাসময়ে শিক্ষাজীবন শেষ করতে পারে না। সাত নম্বর যুক্তি অনুযায়ী, রাজনৈতিক অস্থিরতার জন্য ছাত্রদের জীবন থেকে যে সময় নষ্ট হচ্ছে, তার ক্ষতিপূরণ করতেও চাকরিতে প্রবেশে বয়সসীমা বাড়ানো উচিৎ। আট নম্বর দফায় দাবি করা হয়েছে, পিএসসিও যথাসময়ে পরীক্ষা নিতে না পারায় চাকরিপ্রার্থীদের বয়স বেড়ে যায়। উদাহরণ হিসেবে ২৭ থেকে ২৮তম বিসিএসের ৩ বছর গ্যাপের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সরকারি চাকরি থেকে অবসরের মেয়াদ দুই বছর বাড়ানোর বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে নয় নম্বর যুক্তিতে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশ ছাত্র পরিষদে সভাপতি মো. আল আমিন রাজু, সিনিয়র সহ-সভাপতি ইউছুফ ইলিয়াস, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মোবারক ফাতেমা মামুন প্রমুখ।

এবিএন/মমিন/জসিম

এই বিভাগের আরো সংবাদ