৩৮তম বিসিএসে রেকর্ড পরিমাণ পরীক্ষার্থী

ঢাকা, ০৮ আগস্ট, এবিনিউজ : ৩৮তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষায়ও রেকর্ড পরিমাণ পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছেন। এর আগে প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় রেকর্ডসংখ্যক চাকরিপ্রার্থী অংশ নিয়েছিল। এ বার প্রায় ৯০ শতাংশ পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছেন, যা যে কোন বিসিএস লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণের দিক দিয়ে রেকর্ড। মূলত সরকারি চাকরির প্রতি তীব্র আগ্রহ এবং সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) প্রতি পরীক্ষার্থীদের আস্থার কারণে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের হার ক্রমশ বাড়ছে। 
 
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পিএসসির চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সাদিক ইত্তেফাককে বলেন, এবারের ৩৮তম বিসিএস পরীক্ষায় যে পরিমাণ শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছেন অতীতের কোনো বিসিএস পরীক্ষায় এত পরীক্ষার্থী অংশ নেননি। অন্য বিসিএসে লিখিত পরীক্ষায় ৮২ থেকে ৮৫ ভাগ পরীক্ষার্থী অংশ নিতেন। কিন্তু এই বিসিএসে ৯০ শতাংশের কাছাকাছি পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছেন। বিসিএসের প্রতি যে তরুণদের দিন দিন আগ্রহ বাড়ছে, এই সংখ্যা সেটি প্রমাণ করে। 
 
বুধবার থেকে শুরু হয়েছে ৩৮তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা। দেশের ৮টি বিভাগে একযোগে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। চলবে ১৩ আগস্ট পর্যন্ত। চারটি বিষয়ে মোট ৮০০ নম্বরের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিটি পরীক্ষার জন্য ৪ ঘণ্টা করে সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রথম দিনে ৩৮তম বিসিএসের ইংরেজি পরীক্ষা ছিল। এতে মাত্র ১ জনকে অসদাচরণের দায়ে বহিষ্কার করা হয়েছে। ওই পরীক্ষার্থী নিজের খাতা ছিঁড়ে অতিরিক্ত খাতা নিয়েছিলেন। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ বিষয়াবলি, আগামী ১১ আগস্ট আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি, ১২ আগস্ট সাধারণ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং ১৩ আগস্ট বাংলা ১ম ও ২য় পত্র পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিটি পরীক্ষা সকাল ১০টায় শুরু হয়ে বেলা ২টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হচ্ছে। 
 
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ৩৮তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষার ফল প্রকাশ করে পিএসসি। এতে ১৬ হাজার ২৮৬ জন উত্তীর্ণ হন। তারা এখন লিখিত পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। গত বছরের ২৯ ডিসেম্বর ৩৮তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষা হওয়ার প্রায় দুই মাসের মধ্যে এর ফল প্রকাশ করা হয়। বিসিএসের আবেদনের ক্ষেত্রে ৩৮তম বিসিএসে রেকর্ড সৃষ্টি হয়। এতে ৩ লাখ ৮৯ হাজার ৪৬৮ জন প্রার্থী আবেদন করেন। এর আগে ৩৭তম বিসিএসে অংশ নেন ২ লাখ ৪৩ হাজার ৪৭৬ জন পরীক্ষার্থী।
 
লিখিত পরীক্ষায় পাশের জন্য পরীক্ষার্থীদের ন্যূনতম ৫০ শতাংশ নম্বর পেতে হবে। প্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য কাটা হবে শূন্য দশমিক ৫০ নম্বর। লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় পৃথক পৃথকভাবে প্রার্থীকে পাশ করতে হবে বাধ্যতামূলক। ৩৮তম বিসিএস লিখিত পরীক্ষার সিলেবাসে বাংলাদেশ বিষয়াবলিতে ৫০ নম্বরের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পরীক্ষার সময় হাত ঘড়ি, পকেট ঘড়ি ও ইলেকট্রনিক ঘড়ি ব্যবহার করা যাবে না জানিয়ে কমিশন বলেছে, সময় জানার জন্য পরীক্ষার হলে প্রয়োজনীয় সংখ্যক দেয়াল ঘড়ি রাখা হবে। পরীক্ষা হলে প্রার্থীরা কানে কোনো আবরণ রাখতে পারবেন না, কান খোলা রাখতে হবে। গহনা-অলংকার জাতীয় কোনো কিছু ব্যবহার করা যাবে না। পরীক্ষার হলে ক্রেডিটকার্ড/ব্যাংককার্ড সদৃশ কোন কিছু বহন করা যাবে না।
 
৩৮তম বিসিএসের মাধ্যমে জনপ্রশাসনে ২ হাজার ২৪ জন ক্যাডার কর্মকর্তা নিয়োগ করা হবে। প্রশাসন ক্যাডারের ৩০০, পুলিশ ক্যাডারের ১০০টি পদসহ ৩৮তম বিসিএসে সাধারণ ক্যাডারে মোট ৫২০টি, কারিগরি ও পেশাগত ক্যাডারে ৫৪৯টি এবং শিক্ষা ক্যাডারে ৯৫৫টি পদ থাকছে।
 
পিএসসির পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (ক্যাডার) আ ই ম নেছার উদ্দিন ইত্তেফাককে বলেন, লিখিত পরীক্ষার প্রজ্ঞাপণের শর্তানুযায়ী মোবাইল ফোন, ঘড়ি, সব ধরনের ইলেকট্রনিক ডিভাইস, বই-পুস্তক, ক্যালকুলেটর, গহনা-অলংকার, ক্রেডিটকার্ড, ব্যাংককার্ড এবং ব্যাগসহ পরীক্ষার হলে প্রবেশ নিষিদ্ধ। এ সব জিনিস নিয়ে কেউ পরীক্ষার হলে প্রবেশ করলে সেগুলো বাজেয়াপ্ত করে প্রার্থীতা বাতিলের পাশাপাশি ভবিষ্যতে পিএসসির সব নিয়োগ পরীক্ষায় অযোগ্য ঘোষণা করা হবে। 

এবিএন/মমিন/জসিম