শুক্রবার, ২৭ এপ্রিল ২০১৮, ১৪ বৈশাখ ১৪২৫
logo
 
  • হোম
  • মুক্ত মতামত
  • ব্যাংকিং খাতের বর্তমান অবস্থা ও উদ্যোক্তাদের দাবি প্রসঙ্গে

ব্যাংকিং খাতের বর্তমান অবস্থা ও উদ্যোক্তাদের দাবি প্রসঙ্গে

ব্যাংকিং খাতের বর্তমান অবস্থা ও উদ্যোক্তাদের দাবি প্রসঙ্গে

ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ, ১৬ এপ্রিল, এবিনিউজ : বাংলাদেশের পুরো ব্যাংক খাতে নাজুক অবস্থা তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন অনিয়মের কারণে এ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। এ অবস্থার শুরুটা হয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক থেকে। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোয় দুর্নীতি হলেও, এমনকি চিহ্নিত করার পরও এর বিরুদ্ধে তেমন কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। ফলে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের পরিচালক থেকে শুরু করে ব্যবস্থাপনা, মনিটরিং সব স্তরেই দুর্নীতি ছড়িয়ে পড়েছে। এর বিরুদ্ধে কোনো শাস্তি বা ব্যবস্থা না নেয়ার ফলে এর একটা ডমিনো ইফেক্ট বা সংক্রামক রোগের মতো প্রভাব দেখা দিয়েছে। সংক্রামক রোগ যখন হয়, তখন এটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এ দুর্নীতি এখন বেসরকারি ব্যাংকিং খাতে ছড়িয়ে পড়েছে।

মূলত ব্যাংকিং নিয়ম-কানুনের মধ্যে সরকারি ও বেসরকারির মধ্যে তেমন কোনো তফাত নেই। মূল সমস্যা সুশাসনের অভাব। এরপর ব্যবস্থাপনা ও তদারকির অভাব। এখন দেখা যাচ্ছে, বেসরকারি ব্যাংকগুলোকে এর পরিচালনা পর্ষদ বা পরিচালকরাই নিয়ন্ত্রণ করেন বেশি। আবার কোনো কোনো ব্যাংক ঘুরেফিরে মুষ্টিমেয় কিছু পরিচালক নিয়ন্ত্রণ করেন, অন্য পরিচালকরা কিছু বলতে পারেন না। তবে সব ব্যাংকে যে এ অবস্থা, তা নয়। নিয়ম হলো, যারা পরিচালনা পর্ষদে থাকবেন, তারা ব্যাংকে মেজর গাইডলাইনগুলো দেবেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা ও আইনের আলোকে। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, চেয়ারম্যানসহ পরিচালনা পর্ষদের প্রভাবশালীরা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনায় হস্তক্ষেপ করছেন। ব্যাংকের এমডিকে প্রতিটি বিষয়ে জবাবদিহি করতে হয়। জবাবদিহিতা ভালো, কিন্তু দেখা যাচ্ছে, পরিচালকরা ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের সরাসরি নির্দেশ দিচ্ছেন। অনেক চেয়ারম্যান সরাসরি ব্যাংকে গিয়ে বসেন, তাদের কাছে ফাইল যায়, ব্যবস্থাপনা পরিচালকরা স্বাধীনভাবে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনায় চেয়ারম্যান ও পরিচালনা পর্ষদের হস্তক্ষেপের প্রভাব পড়ছে সুপারভিশন ও মনিটরিংয়ের ওপর। আবার সবসময় পরিচালনা পর্ষদের দোষও দেয়া যাবে না। যারা ব্যবস্থাপনায় রয়েছেন, তারাও কিন্তু বিভিন্ন যোগসাজশ করে কিংবা পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গে মিলে অনিয়ম করেন।

ঋণের সাধারণ প্রক্রিয়া হলো, এর প্রস্তাব আসবে নিচের স্তর থেকে, এরপর ক্রেডিট কমিটি পর্যালোচনা করে সুপারিশ করবে, তারপর এ প্রস্তাব যাবে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে, সব শেষে যাবে বোর্ডের কাছে। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে এ প্রক্রিয়া মানা হচ্ছে না। পরিচালনা পর্ষদের ইচ্ছায় কিংবা ব্যবস্থাপনা পরিচালকরা অনেক সময় পরিচালকের ইচ্ছায় ঋণ অনুমোদন করছেন। ব্যাংকে যারা উচ্চপর্যায়ে রয়েছেন, তারা ভালো বেতন-ভাতা পান, তারা এটি হারাতে চান না। মুষ্টিমেয় লোককে এমন সুবিধা দেয়ার অর্থ হতে পারে কিছু লোককে হাতে রেখে কাজ করা। সাম্প্রতিক সময়ে দেখা যাচ্ছে, ব্যাংকের মালিকরা ব্যক্তিগতভাবে হস্তক্ষেপ করছেন, আবার সম্মিলিতভাবে সমিতির মাধ্যমেও ব্যাংকিংয়ের ওপর প্রভাব বিস্তার করছেন। রাজনৈতিক পর্যায়ে এদের চলাফেরা রয়েছে। অন্যদিকে ব্যাংকিং আইন সংশোধনে পরিস্থিতি আরো খারাপ হয়ে গেছে। বেসরকারি ব্যাংকে পরিচালকের মেয়াদ ছয় বছরের জায়গায় নয় বছর করাটা যুক্তিসঙ্গত হয়নি। আবার একই পরিবার থেকে পরিচালক পদে দুজনের জায়গায় চারজন আসা মানে এটি পারিবারিক প্রতিষ্ঠান হয়ে যাওয়া।

আমাদের মনে রাখা প্রয়োজন, ব্যাংক অন্যান্য কোম্পানি থেকে ভিন্ন। একটি ব্যাংক ও একটি ফার্মেসি বা গাড়ি কোম্পানি এক না। কারণ ওইসব কোম্পানি যারা খোলেন, তাদের ইকুইটি বেশি থাকে, ঋণ নিয়ে ঝুঁকি নেন। অন্যদিকে ব্যাংকের ৯০ শতাংশ টাকা জনগণের। অর্থাৎ জনগণের টাকায় ব্যাংকাররা ব্যবসা করেন। আমানতকারীদের টাকা নিয়ে ছিনিমিনি খেলা যাবে না। আমানতকারীরা মুনাফা চান না, তারা চান রিটার্ন ও সুরক্ষা। আমানতকারীরা নিজেদের টাকা নিয়ে ঝুঁকি নিতে চাচ্ছেন না, এবং ঝুঁকি নিলে যে টাকা আসে, তা তো আমানতকারীরা পান না, পরিচালনা পর্ষদ ও শেয়ারহোল্ডাররা পান। কিন্তু যদি লোকসান হয়, তবে তার ভাগ আমানতকারীদের বহন করতে হয়। এজন্য ব্যাংকের প্রুডেন্সিয়াল নর্মস রয়েছে। অন্যান্য কোম্পানিকে বলে দেয়া হয় না— তা কী করবে, কী বিক্রি করবে বা কার কাছে কী অর্থ দেবে। কিন্তু ব্যাংককে বলে দেয়া রয়েছে— কী পরিমাণ অর্থ দেয়া যাবে, কোন কোন ক্ষেত্রে ঋণ দেয়া যাবে। আমানতকারীদের পক্ষে নিয়ন্ত্রক সংস্থা এসব মান নির্ধারণ করে। ব্যাংকের কার্যক্রম অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলে। ব্যাংকের কার্যক্রম ভালো হলে অর্থনৈতিক উন্নতি হবে, খারাপ হলে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে ব্যবসা-বাণিজ্যের ওপর এবং আল্টিমেটলি মানুষের জীবনযাত্রার ওপর। ব্যাংক ব্যর্থ হলে মানুষকে সারা জীবনের সঞ্চয় বা সর্বস্ব হারাতে হতে পারে, মানুষ নিঃস্ব হয়ে যেতে পারে।

তবে কিছু ব্যাংক ছাড়া বেসরকারি ব্যাংকগুলো এখনো এ বিষয়ে সজাগ রয়েছে। কিছু ব্যাংক খুব বাজে উদাহরণ সৃষ্টি করেছে। এসব ব্যাংককে প্রটেকশন দেয়ার জন্য সরকারি কিছু উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে, এগুলোর যৌক্তিকতা নেই। যে ব্যাংকগুলো খারাপ করবে, প্রয়োজনে তাদের অন্য ব্যাংকের সঙ্গে একত্রীভূত করা যেতে পারে বা কীভাবে নিজেদের উদ্ধার করবে, তা তারা ঠিক করবে, কিন্তু সম্মিলিতভাবে তাদের উদ্ধার করার জন্য ব্যাংকিং নিয়ম-কানুন পরিবর্তনের প্রয়োজন নেই। কারণ এভাবে পরিবর্তন করা হলে তা সার্বিকভাবে অন্য ব্যাংকের ওপর প্রভাব ফেলে। একটা ব্যাংক খারাপ করলে আমানতকারীদের মনে অন্য ব্যাংক নিয়েও সন্দেহ তৈরি হয়। এটাকে রোধ করতে হবে। দোষ যেমন সব ব্যাংকের না বা সব ব্যাংক যে খারাপ কাজ করছে, তাও না। ব্যাংকিং খাতের ওপর যেন নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে, সেটার জন্য সবাইকে চেষ্টা করতে হবে। যেসব ব্যাংক খারাপ করছে, তাদের ওপর ভর করে অন্য ব্যাংকগুলোর সুবিধা নেয়া ঠিক না। ট্রেড ইউনিয়নের মতো ব্যাংকের মালিকরা সম্মিলিতভাবে কাজ করতে পারেন না, সিন্ডিকেট করতে পারেন না। এভাবে চললে ব্যাংকের কর্মচারীরাও ইউনিয়ন করে সুবিধা চাইবেন, তখন বড় ক্ষতি হবে। সম্মিলিতভাবে মত আদান-প্রদান করা যেতে পারে, কিন্তু দাবি আদায়ে ট্রেড ইউনিয়ন কিংবা সিন্ডিকেশন করতে পারে না।

বর্তমান আইনে বেসরকারি ব্যাংকে ২৫ শতাংশের বেশি সরকারি ফান্ড রাখা যায় না। বেসরকারি ব্যাংকের মালিকরা ৫০ শতাংশ দাবি করেছেন। সরকারি ফান্ড কোথায় রাখা হবে, তা সরকারের বিষয়। বেসরকারি ব্যাংক বিভিন্ন ইনসেনটিভ দেয়, অনেক ডিপোজিট আহরণ করে, বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখে প্রভৃতি বিবেচনায় বেসরকারি ব্যাংকে সরকারি আমানতের ২৫ শতাংশ থেকে কিছুটা বৃদ্ধি করে সর্বোচ্চ সীমা সরকার নির্ধারণ করতে পারে। সেটা এ ধাপে ৫০ শতাংশ করা যৌক্তিক হবে না। বিভিন্ন সরকারি ব্যাংকের জন্য জমাকৃত সরকারি অর্থ বিভিন্ন হতে পারে। সরকার বেসরকারি ব্যাংকের পারফরম্যান্স, ফিন্যান্সিয়াল স্ট্যাটাস দেখে তারপর সেখানে ফান্ড রাখবে। আর যে এ সিদ্ধান্ত নেবে, সে এর জন্য সম্পূর্ণভাবে দায়ী থাকবে। ট্রান্সফার হয়ে চলে গেলে দায়দায়িত্ব থাকবে না, এমন হওয়া চলবে না। দায়বদ্ধতা থাকতে হবে। এতে কেউ ইচ্ছামতো অনুমোদন দিতে পারবে না। আর বেসরকারি ব্যাংকে সরকারের দীর্ঘমেয়াদে ফান্ড রাখা উচিত না। প্রয়োজনে পুনর্নবায়ন করা যাবে। সরকারের অর্থ দীর্ঘমেয়াদে ফেলে রাখার জন্য নয়।

কৃষিতে ঋণ প্রদানের বাধ্যবাধকতার সীমা শিথিলের দাবি করা হয়েছে। কৃষিকাজের ফলেই আমাদের খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা এসেছে। এ খাতে প্রচুর মানুষ কাজ করে। জিডিপিতে কৃষি খাতের অবদান কম থাকলেও মানুষের সংশ্লিষ্টতা অনেক বেশি। ৫০ শতাংশ লোক কৃষির ওপর নির্ভরশীল। এ খাতে ২ দশমিক ৫ শতাংশ ঋণ দেয়া যুক্তিসঙ্গত। কেন কমানোর দাবি করা হয়েছে, তা বোঝা যাচ্ছে না। এখানে কম সুদ পেলেও ক্রেডিট কার্ডে তো বেশি সুদ নিচ্ছে। কৃষি খাতে ঋণ ১ শতাংশে নামিয়ে আনা যুক্তিসঙ্গত হতে পারে না। এছাড়া ব্যাংকেরও তো দায়িত্ব রয়েছে। সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকেই তো ব্যাংকাররা ব্যাংকিং করবে; তারা শুধু মুনাফামুখী হবে না, পুরো ব্যাংকিং খাত সমাজের উপকারের ভিত্তিতেই তো কাজ করবে।

আর ইন্টার ব্যাংক রেট কমবে কিনা, তা কেন্দ্রীয় ব্যাংক কিংবা সরকারের দায়িত্ব না। ব্যাংকের মালিকরা চাচ্ছে হারটি নির্দিষ্ট করে দেয়ার নির্দেশনা। তবে অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ তাদের জন্য খারাপ হতে পারে। এ হারগুলো বাজার নির্ধারণ করবে।

ব্যাংক একমাত্র জায়গা, যেখানে মানুষ টাকা-পয়সা রাখতে পারে। এখানে আবগারি শুল্ক আরোপ করা একটি হাস্যকর ব্যাপার। অর্থের কোনো পরিমাণের ওপরই আবগারি শুল্ক রাখা উচিত না। বিভিন্ন ক্ষেত্রে তো কর দেয়াই হচ্ছে। এভাবে ডাবল ট্যাক্সেশন হয়ে যাচ্ছে।

এরপর নেয়া হয়েছে সিআরআর ১ শতাংশ কমিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত। সিআরআর করা হয় টাকার নিশ্চয়তার জন্য। এভাবে কমিয়ে দিলে বিপদ হতে পারে। ব্যাংক তো লিকুইডিটিও বাড়াবে, প্রফিটও বাড়াবে। লিকুইডিটির দিকে না গিয়ে শুধু প্রফিটেবিলিটির দিকে গেলে ব্যাংকিংয়ের মূল প্রিন্সিপাল ভায়োলেট করা হবে। সিআরআর কমানোর ফলে বাজারে ১০ হাজার কোটি টাকা আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে, এতে ব্যাংকগুলো অ্যাগ্রেসিভ ল্যান্ডিংয়ে যাবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক যে প্রক্রিয়ায় সিদ্ধান্তটি নিয়েছে, তা মোটেই ঠিক হয়নি। আর এটি মুদ্রানীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

ডিপোজিট ইন্স্যুরেন্স নিয়ে এখনো দুর্বলতা রয়েছে। এখন মাত্র ১ লাখ টাকা। এটা বাড়ানো উচিত। এখন ইন্স্যুরেন্স কী হবে, তা দেখতে হবে, মোট সম্পদের ওপর হবে না, ডিপোজিটের ওপর হবে। কাভারেজ বাড়াতে হবে, দেখতে হবে ব্যাংকের ওপর যেন চাপ না বাড়ে। যেসব ব্যাংকের পারফরম্যান্স খারাপ, তাদের প্রিমিয়ামের হার একটু বেশি হওয়াটাই যৌক্তিক।

ব্যাংকে জমা টাকার ওপর ট্যাক্স রিবেটের কথা বলা হয়েছে; এটা যুক্তিসঙ্গত। ৬০ হাজার টাকা কিছু না। এ নিয়ে গুরুত্বসহকারে ভাবতে হবে। সরকার যেখান থেকে পারে কর আদায় করে, কিন্তু এর প্রভাব কী পড়ে মানুষের সঞ্চয়ের ওপর, জীবনযাত্রার ওপর, বিনিয়োগের ওপর; সেটা ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হবে। এটিকে বলা হয় ইনসিডেন্ট অব ট্যাক্স।

ফরেন ট্রেড অপারেশনের কারণে তারল্য সংকট দেখা দেয় ও বিনিয়োগ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর জন্য বৈদেশিক মুদ্রা চেয়েছে তারা। এটি একটি ভ্যালিড পয়েন্ট। কিছু কিছু ব্যাংক এলসি করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আনতে, খাবার কিংবা ফুয়েল আনার জন্য। এগুলোর জন্য ব্যাংকমালিকরা সহায়তা দাবি করেছেন। এটা বাংলাদেশ ব্যাংক চিন্তা করতে পারে। এক্সপোর্ট ডেভেলপমেন্ট ফান্ড থেকে পোশাক শিল্পে সহায়তা দেয়া হয়। এ রকম কিছু করা যায় কিনা তা চিন্তা করা যেতে পারে।

নেতিবাচক সংবাদ না ছাপানোর জন্য আইন প্রণয়নের দাবি করা হয়েছে। এটা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক একটি দাবি। এর জন্য প্রেস কাউন্সিল রয়েছে, ইনফরমেশন অ্যাক্ট রয়েছে। ব্যাংক মিথ্যা সংবাদের প্রতিবাদ জানাতে পারে, ওই পত্রিকায় প্রতিবাদ ছাপাতে পারে, এজন্য তো আইন করার দরকার নেই। পৃথিবীর সব দেশেই ব্যাংক ও শেয়ারবাজার নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এটা যত বন্ধ করতে চাওয়া হবে, পরিস্থিতি তত খারাপ হবে। এসব তথ্য প্রকাশ না হলে সবাই অন্ধকারে থাকবে, দুর্নীতি আরো বাড়বে। আর রাইট টু ইনফরমেশন অ্যাক্ট রয়েছে। মানুষের জানার অধিকার রয়েছে। জনগণের অর্থ নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হবে আর দাবি করা হবে নেতিবাচক সংবাদ প্রকাশ করা যাবে না, তা হবে না। তবে উদ্দেশ্যমূলকভাবে কেউ যদি কোনো সেক্টর বা ব্যক্তি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করে, তা নিয়ে সার্বিকভাবে সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে। অন্যদিকে সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণ দেয়া প্রয়োজন, যাতে এমনভাবে তথ্য পরিবেশন করা হয়, যেন ব্যবসার ক্ষতি না হয়। এমনভাবে সংবাদ পরিবেশন করতে হবে, যেন মনে হয় তাকে সংশোধন করার জন্য এবং জনগণকে সচেতন করার জন্য এটা করা হচ্ছে। এভাবে করলে হয়তো ব্যাংকাররাও খুশি হবেন।

ব্যাংকিং খাতে অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ ভালো নয়, আবার একেবারে ছেড়ে দেয়াও ঠিক নয়। ব্যাংক নিয়ে যেসব নিয়ম-কানুন রয়েছে, প্রতিটি ব্যাংককে তা পরিপালন করতে হবে। সবচেয়ে বড় বিষয়, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দায়িত্ব বাণিজ্যিক ব্যাংকের নীতিমালা পরিপালন নিশ্চিত করা। পরিপালন না করলে দ্রুততম সময়ে শাস্তি দিতে হবে। আর সরকারের উচিত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্তৃত্বের ওপর হস্তক্ষেপ না করা। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের বিষয়টি পুরোপুরি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওপর ছেড়ে দেয়া উচিত। একটি দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক নষ্ট হয়ে গেলে পুরো অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে, তখন টেকসই উন্নয়ন সম্ভব হবে না। সুশাসন ও আইনের শাসন নিশ্চিতে সরকারের সদিচ্ছা থাকতে হবে। আর ব্যাংকমালিকরা যদি হস্তক্ষেপ করার জন্য সরকারকে ডেকে নিয়ে আসেন, তবে তা ভবিষ্যতে আরো খারাপ উদাহরণ ও পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে। এখন ব্যাংকাররা মনে করছেন, সরকার হস্তক্ষেপ করলে আমরা খুব লাভবান হব, এখন হয়তো হচ্ছে, ভবিষ্যতের জন্য এটা একটা খারাপ দৃষ্টান্ত হিসেবে ব্যাংক খাতকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। (বণিক বার্তা)

লেখক : বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর

ও ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক

প্রধান শিরোনাম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত