শুক্রবার, ২৭ এপ্রিল ২০১৮, ১৪ বৈশাখ ১৪২৫
logo
 

ফ্রান্সের রিপাবলিক চত্তরে বৈশাখী মেলায় হাজারো মানুষের ঢল

ফ্রান্সের রিপাবলিক চত্তরে বৈশাখী মেলায় হাজারো মানুষের ঢল

ঢাক, ১৫ এপ্রিল, এবিনিউজ: বাঙ্গালী জাতীর শত বছরের পুরাতন ঐতিহ্য পহেলা বৈশাখ, যখন কৃষ্জ্ঞ চুড়ার ঢালে ঢালে লাল লাল রঙ্গে রাঙ্গায় দেশের মাঠি।পহেলা বৈশাখের আনন্দ ঊপভোগ করতে বাদ পড়েনি প্রবাসী বাঙ্গালীরা। তাইতো ফ্রান্সের ঐতিহাসিক রিপাবলিক চত্তরে আয়োজন করা হল বৈশাখী মেলার।স্থানীয় সময় শনিবার দুপুর ১২:০০ঘটিকা থেকে রাত্র ১০:০০ঘটিকা পর্যন্ত আয়োজন করা হয়েছে বৈশাখী মেলার।

ফ্রান্সের রিপাবলিক চত্তরে বৈশাখী মেলায় হাজারো মানুষের ঢল

এতে ফ্রান্সে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্র দূত, কাজি ইমতিয়াজ হুসেন প্রধান অতিথি এবং ফ্রান্স আওয়ামী লীগের সভাপতি বেনজির আহমেদ সেলিম বিশেষ অতিথি হিসেবে এবং কমিঊনিটি ব্যাক্তিবর্গ ঊপস্থিত ছিলেন।

এ অনুষ্টানের আয়োজন করে স্বরলিপি শিল্পী গোষ্টি ফ্রান্স।

এ ঊপলক্ষে আয়োজন করা হয়:

  • বৈশাখী বনাঢ্য রেলী

  • গন মানুষের কন্ঠে বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত

  • বাচ্চাদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা

  • যেমন খুশী তেমন সাজ

  • বৈশাখী পিঠা ঊৎসব

  • ছেলে মেয়েদের নৃত্য

  • মহিলাদের বালিশ বদল

  • পান্তা ইলিশ

  • জমকালো সাংস্কৃতিক অনুষ্টান ।

এতে সঙ্গীত পরিবেশন করেন বাংলাদেশ থেকে আগত মামুন,আখি আলমগীর,মমো,পার্থ প্রথিম বাপ্পী,সাকিব সহ প্রবাসী শিল্পীরা।

মেলা ঊপলক্ষে বিভিন্ন প্রকার পন্যের ষ্টল বসে।মেলা প্রঙ্গন শত শত প্রবাসীদের আগমনে মুখরিত হয়ে ওঠে।

ফ্রান্সের রিপাবলিক চত্তরে বৈশাখী মেলায় হাজারো মানুষের ঢল

বাংলা বছরের প্রথম দিন পহেলা বৈশাখ।

ভারতবর্ষে মুঘল সম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার পর সম্রাটরা হিজরী পঞ্জিকা অনুসারে কৃষি পণ্যের খাজনা আদায় করতেন। কিন্তু হিজরি সন চাঁদের উপর নির্ভরশীল হওয়ায় তা কৃষি ফলনের সাথে মিলত না। এতে অসময়ে কৃষকদেরকে খজনা পরিশোধ করতে বাধ্য করা হত। খাজনা আদায়ে সুষ্ঠুতা প্রণয়নের লক্ষ্যে মুঘল সম্রাট আকবর বাংলা সনের প্রবর্তন করেন। তিনি মূলত প্রাচীন বর্ষপঞ্জীতে সংস্কার আনার আদেশ দেন। সম্রাটের আদেশ মতে তৎকালীন বাংলার বিখ্যাত জ্যোতির্বিজ্ঞানী ও চিন্তাবিদ ফতেহউল্লাহ সিরাজি সৌর সন এবং আরবি হিজরী সনের উপর ভিত্তি করে নতুন বাংলা সনের নিয়ম তৈরি করেন।

১৫৮৪ খ্রিস্টাব্দের ১০ই মার্চ বা ১১ই মার্চ থেকে বাংলা সন গণনা শুরু হয়। তবে এই গণনা পদ্ধতি কার্যকর করা হয় আকবরের সিংহাসন আরোহণের সময় (৫ই নভেম্বর, ১৫৫৬) থেকে। প্রথমে এই সনের নাম ছিল ফসলি সন, পরে বঙ্গাব্দ বা বাংলা বর্ষ নামে পরিচিত হয়। . আকবরের সময়কালে প্রত্যেককে চৈত্র মাসের শেষ দিনের মধ্যে সকল খাজনা, মাশুল ও শুল্ক পরিশোধ করতে হতো।

এর পরদিন অর্থাৎ পহেলা বৈশাখে ভূমির মালিকরা নিজ নিজ অঞ্চলের অধিবাসীদেরকে মিষ্টান্ন দ্বারা আপ্যায়ন করতেন। এ উপলক্ষ্যে বিভিন্ন উৎসবের আয়োজন করা হতো। পরে উৎসবটি একটি সামাজিক অনুষ্ঠানে পরিণত হয় যার রুপ পরিবর্তন হয়ে বর্তমানে এই পর্যায়ে এসেছে। তখনকার সময় এই দিনের প্রধান ঘটনা ছিল একটি হালখাতা তৈরি করা। হালখাতা বলতে একটি নতুন হিসাব বই বোঝানো হয়েছে।

প্রকৃতপক্ষে হালখাতা হল বাংলা সনের প্রথম দিনে দোকানপাঠের হিসাব আনুষ্ঠানিকভাবে হালনাগাদ করার প্রক্রিয়া। গ্রাম, শহর বা বাণিজ্যিক এলাকা, সকল স্থানেই পুরনো বছরের হিসাব বই বন্ধ করে নতুন হিসাব বই খোলা হয়। হালখাতার দিনে দোকনদাররা তাদের ক্রেতাদের মিষ্টান্ন আপ্যায়ন করে থাকে। এই প্রথাটি এখনও অনেকাংশে প্রচলিত আছে।

প্রবাসে এমন আয়োজন নতুন প্রজন্মের কাছে দেশ প্রেম ও দেশের ঐতিহ্য ধারন এবং লালন করতে সহায়ক হবে,এমটাই মনে করতেছন বিজ্ঞজনরা।

এবিএন/মোহাম্মদ আব্দুল মুহিব/জসিম/নির্ঝর

প্রধান শিরোনাম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত