বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ৯ ফাল্গুন ১৪২৫
logo
feb18  
  • হোম
  • মিডিয়া
  • সাগর-রুনি হত্যা : তদন্তে গাফিলতি না ধামাচাপার চেষ্টা

সাগর-রুনি হত্যা : তদন্তে গাফিলতি না ধামাচাপার চেষ্টা

সাগর-রুনি হত্যা : তদন্তে গাফিলতি না ধামাচাপার চেষ্টা
ঢাকা, ১১ ফেব্রুয়ারি, এবিনিউজ : ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি, বাংলাদেশে সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার এবং মেহেরুন রুনি দম্পতিকে রাজধানীতে তাদের বাসায় নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। সেই ঘটনা তখন সারা দেশে তোলপাড় সৃষ্টি করে। হুল আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডের ৬ বছরেও গোয়েন্দারা তাদের তদন্ত কাজ শেষ করতে পারেনি।
 
এ হত্যাকাণ্ডে প্রথমে পুলিশ তদন্ত করে এবং পরে পুলিশের এলিট ফোর্স র‍্যাবের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
 
নিহত মেহেরুন রুনির ভাই নওশের আলম রোমান বলেন, গত ৬ বছরে তদন্তে কোনো অগ্রগতি নেই এবং তদন্তের বিষয়ে এ বছর তাদের কিছুই জানানো হয়নি। তদন্তকারী সংস্থা যতগুলো বাংলাদেশে আছে, অনেক ব্যাপারেই তাদের সাফল্য দৃশ্যমান। কিন্তু এই একটি জায়গায় ৬ বছরে কোনকিছু দেখি না। ৬ বছরের ন্যূনতম অগ্রগতি আসলে নেই। আমাদের কাছে মনে হয়, এটা তারা তাদের গাফিলতি থাকতে পারে কিংবা ইচ্ছাকৃতভাবে তারা রহস্য বের করতে চান না এবং ঘটনাটিকে ধামাচাপা দিতে চান।
 
র‍্যাব তদন্তের দায়িত্ব নেয়ার পর সাগর ও রুনির মরদেহ কবর থেকে তুলে এনে পুনরায় ময়না তদন্ত ও ভিসেরা পরীক্ষা করে ।বেশ কয়েকজন গ্রেফতার হলেও তদন্ত আর এগোয়নি।
 
আদালত থেকে এই হত্যাকাণ্ডের তদন্তের অগ্রগতির বিষয়ে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হলেও র‌্যাব ৫৪ বার আবেদন করে এ জন্য সময় চেয়েছে।
 
নিহত সাংবাদিক রুনির ভাই বলেন, সাধারণভাবে মনে হয়, এখানে দুটি বিষয় থাকতে পারে। যারা তদন্তকারী সংস্থা তারা অত্যন্ত অদক্ষ। আরেকটি কারণ হতে পারে সরকার চায়না অথবা এটার সাথে হয়তো বড় কেউ জড়িত যার জন্য যারা তদন্ত করছে তারা কোনো প্রকার অগ্রগতি করেননি।
 
এমন প্রেক্ষাপটে আজ রবিবার সাংবাদিকরা বিচারের দাবিতে ঢাকায় বিক্ষোভ করবেন বলে কথা রয়েছে। সাগর-রুনী হত্যার ঘটনার পরপরই বিচার চেয়ে আন্দোলনে নেমেছিলেন সাংবাদিক মহল। অল্প কিছুদিন পরই সেই আন্দোলন থেমে যায়। সে আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়া সাংবাদিক নেতা ইকবাল সোবহান চৌধুরী পরে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টার দায়িত্ব পান।
 
নওশের আলম জানান, তদন্তকারীরা গতবছর জানিয়েছিল যে, তারা এ মামলার রহস্য উদঘাটনের জন্য গুরুত্ব দিয়ে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে এখন তাদের মনে নানা প্রশ্ন।
 
ন্যায়বিচার কতটা আশা করছেন-এমন প্রশ্নে বিবিসি নওশের আলম বলেন, আমরা তো যতদিন বেঁচে আছি বিচার চাইব। কিন্তু আমরা ন্যায়বিচার পাব বলে এখন আসলে আর মনে হয়না।
 
কীভাবে বেড়ে উঠছে নিহত দম্পতির সন্তান মেঘ?
এই হত্যাকাণ্ডের একমাত্র প্রত্যক্ষদর্শী নিহত দম্পতির ৫ বছরের শিশু সন্তান মেঘের বয়স এখন ১১ বছর।
 
মামা নওশের রোমান বলেন, আর দশটি বাচ্চার মতোই মেঘ স্কুলে যাচ্ছে, ক্রিকেট কোচিং করছে। আত্মীয়বন্ধুদের মধ্যে বেড়ে উঠছে। কিন্তু বাবা-মার আদর ছাড়া যেভাবে বেড়ে ওঠে একটি বাচ্চা সেভাবেই সে বেড়ে উঠছে।
 
বাবা-মার কথা সবসময় মনে করে সে। তবে মেঘ চায়না তার পরিবার টিভি বা মিডিয়ার সামনে কথা বলুক।
 
নওশের আলম বলেন, কদিন আগে সে বলছিল আমরা যেন মিডিয়ার সাথে কথা না বলি এবার মৃত্যুবার্ষিকীতে। তার প্রশ্ন-কথা বললে কি তার বাবা-মা কখনো ফিরে আসবে?যে কথা বললে তারা ফিরে আসবেনা সে কথা বলে কি লাভ?
 
মেঘ যত বড় হচ্ছে তার ছোট মনে এই ধরনের হালকা ক্ষোভ ধীরে ধীরে বেড়ে উঠছে বলে জানান নওশের রোমান।
সূত্র : বিবিসি বাংলা
এবিএন/সাদিক/জসিম/এসএ

প্রধান শিরোনাম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত