সোমবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ৭ ফাল্গুন ১৪২৫
logo
feb18  

তামিমের ৬০০০ ওয়ানডে রানের যাত্রাপথটা যেমন

তামিমের ৬০০০ ওয়ানডে রানের যাত্রাপথটা যেমন

ঢাকা, ২৩ জানুয়ারি, এবিনিউজ : প্রথম বাংলাদেশী ব্যাটসম্যান হিসেবে ওয়ানডেতে ৬ হাজার রান পূর্ণ করেছেন ড্যাশিং ওপেনার তামিম ইকবাল। ১১ বছরের ক্যারিয়ারে বিভিন্ন কৌশলগত পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে গিয়ে একজন পরিণত ক্রিকেটারে রূপান্তরিত হয়েছেন ২৮ বছর বয়সী তামিম। ১৭৬ ওয়ানডেতে ৯ সেঞ্চুরি ও ৪১ হাফসেঞ্চুরির মালিক বাংলাদেশের ইতিহাসের সফলতম ব্যাটসম্যান তিনি। আসুন দেখে নিই, একজন সফল ব্যাটসম্যান হিসাবে তামিমের পথচলা।তামিমের ৬০০০ ওয়ানডে রানের যাত্রাপথটা যেমন

০-১০০০ : প্রথম পদক্ষেপ

২০০৭ সালের বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে ক্যারিয়ারের পঞ্চম ওয়ানডেতে প্রথম হাফ সেঞ্চুরি করেন তামিম। ৫৩ বলে ৫১ রানের ইনিংসটি ছিলো ৭টি চার ও ২টি ছয়ে সাজানো। পোর্ট অব স্পেনে গ্রুপপর্বের ওই ম্যাচটি ৫ উইকেটে জিতে নিয়েছিলো টাইগাররা। এ জয়ের ফলে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে গ্রুপপর্ব পার হতে পেরেছিল বাংলাদেশ। তবে পরবর্তীতে ৮ ম্যাচে উল্লেখযোগ্য কোন সাফল্য দেখাতে পারেননি তামিম। এ ৮ ম্যাচে তার গড় ছিল ১৫.১২।

এসময় তার ভাণ্ডারে খুব বেশি শটও মিলছিল না! যার কারণে খুব সহজেই বোলারদের শিকার হয়ে যেতেন। অভিষেকের ঠিক এক বছর পর ২০০৮ সালে ঘরের মাটিতে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরিটি পান তামিম এবং ৩৭তম ইনিংসে এসে ১ হাজার রান পূর্ণ করেন।তামিমের ৬০০০ ওয়ানডে রানের যাত্রাপথটা যেমন

১০০০ থেকে ২০০০ : জেমি সিডন্স প্রজেক্ট

২০০৮ সালে বাংলাদেশের তখনকার কোচ জেমি সিডন্স তামিমকে নিজের পরিচর্যায় নেন। সাবেক এই অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটারের আওতায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা নেটে অনুশীলন করে তামিম বেশ উন্নতি করেন। এসময় গুরুত্বপূর্ণ কিছু কৌশল শেখেন তিনি। ফলে লেগ-সাইডের বল খেলার দুর্বলতা কেটে যায়। পাশাপাশি কিভাবে একটা ইনিংস দাঁড় করাতে হয়, সে বিষয়েও ধীরে ধীরে পারদর্শী হয়ে ওঠেন তামিম। তারপরও পরবর্তীতে খেলা ৬টি সিরিজে একটিও সেঞ্চুরি করতে পারেননি তিনি। অবশেষে ২০০৯ সালে বুলাওতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ওয়ানডে সেঞ্চুরির দেখা পান। তামিমের ১৫৪ রানের ইনিংসটি বাংলাদেশর কোন ব্যাটসম্যানের ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ স্কোর। ওই ম্যাচে জিম্বাবুয়ের দেওয়া ৩১৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করে জেতে টাইগাররা। ৫ ম্যাচের ওই ওয়ানডে সিরিজে ৩০০ রান করেন তিনি।তামিমের ৬০০০ ওয়ানডে রানের যাত্রাপথটা যেমন

২০০০ থেকে ৩০০০ : প্রথম জ্বলে ওঠা

২০১০ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১১ সালের আগস্ট- এই সময়টায় নিজের ছন্দ খুঁজে পান তামিম। তিনি শুধু ওয়ানডেতে ১ হাজারের বেশি রানই করেননি, ৫৫.৯৩ গড়ে টেস্টে রান করেছেন ৮৯৫। তিনি ফিল্ডিংয়ে নির্ধারিত গণ্ডিতে থাকার বাধ্যবাধকতার সুযোগ নিতে থাকেন এবং ভালো করতে থাকেন। তখনো তামিম তার হাফ সেঞ্চুরিকে সেঞ্চুরিতে রূপান্তর করতে ব্যর্থ হচ্ছিলেন। এসময় টেকনিক্যালি কিছুটা সমৃদ্ধ হন তিনি। সাবলীল ভাবে ক্যালিপসো স্টাইলে পুল শট খেলা শুরু করেন তিনি। কিন্তু তারপর তার খেলায় কিছু সমস্যা থেকে যায়, বিশেষ করে ৫০ পার করার পর।

এসময়ে তিনি ভারত ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্টে সেঞ্চুরি পান। পাশাপাশি দলের সহ-অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পান।তামিমের ৬০০০ ওয়ানডে রানের যাত্রাপথটা যেমন

৩০০০ থেকে ৪০০০ : পথ হারিয়ে ফেলা

এই ১ হাজার রান পূর্ণ করতে সাড়ে তিন বছর সময় লাগে তামিমের। এ সময় মাঠের বাইরেও থাকতে হয় তাকে। ২০১১ সালে জিম্বাবুয়েতে একটি ব্যর্থ সফরের পর দলের সহ-অধিনায়কত্বের পদও হারান তিনি। তারপর ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও পাকিস্তানের বিপক্ষে বাজে পারফরম্যান্সের জন্য ২০১২ সালের এশিয়া কাপে বাংলাদেশের স্কোয়াড থেকে বাদ পড়েন তামিম। তবে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে তাকে আবার দলে নেয়া হয়। এসময় তিনি ৪টি হাফ সেঞ্চুরি করেন। তবে ২০১২ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে টেস্ট ও ওয়ানডেতে চোখ ধাঁধানো কোন পারফরম্যান্স দেখাতে পারেননি।

ফর্মে না থাকার কারণে তামিম কিছুটা বিচলিত হয়ে পড়েন ও মাঠের বাইরে চলে যান। এসময় ইন্টারনেটে ট্রলেরও শিকার হতে হয় তাকে। তবে ২০১৫ সালের বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ৯৫ রানের গুরুত্বপূর্ণ একটি ইনিংস খেলেন তিনি।তামিমের ৬০০০ ওয়ানডে রানের যাত্রাপথটা যেমন

৪০০০ থেকে ৫০০০ : নিজেকে খুঁজে পাওয়া

২০১৫ সালে বিশ্বকাপের পর তামিমের বাহ্যিক ও মানসিক আচরণে বিপুল পরিবর্তন আসে। তিনি দলের মধ্যে আরো বেশি যোগ্য হয়ে ওঠেন। এসময় পাকিস্তানের বিপক্ষে আগ্রাসী ব্যাটিং করে দুইটি সেঞ্চুরি করেন। এসময় টেস্টে প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি করে দারুণ ধারাবাহিক হয়ে ওঠেন। ২০১৬ সালে প্রথম বাংলাদেশি ব্যাটসম্যান হিসেবে ৫ হাজার রান পূর্ণ করেন তামিম।

৫০০০ থেকে ৬০০০ : সংহত ডানায় ওড়া

এ যেন এক অন্য তামিম। টেস্ট ও ওয়ানডেতে সমান তালে এগিয়ে চলছেন। বাংলাদেশের শততম টেস্টে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে চতুর্থ ইনিংসে ম্যাচ জেতানো দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি করেন তামিম।

২০১৭ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি তামের প্রথম সফল আইসিসির কোন টুর্নামেন্ট। এ টুর্নামেন্টে খেলা ৪ ইনিংসে তার রান ২৯৩। এসময় ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়াকে টেস্টে হারানোয় দলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। চলমান ত্রিদেশীয় সিরিজে খেলা তিন ম্যাচে তার স্কোর যথাক্রমে ৮৪*, ৮৪ ও ৭৬।

তামিম প্রথম পাওয়ার প্লের গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটসম্যান হিসেবে আবির্ভূত হয়ে দলকে ভালো সূচনার দিকে নিয়ে যান। তারপর বড় ইনিংস খেলায় মনোযোগ দেন। তিনি দ্রুত গতিতে রান করে যেতে পারেন। আর এভাবেই তিনি বাংলাদেশের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে মিরপুরে ৬ হাজার রান পূর্ণ করেছেন। সনাথ জয়াসুরিয়াকে অতিক্রম করে তামিম এখন নির্দিষ্ট একটি ভেন্যুতে ওয়ানডের সর্বোচ্চ রানের বিশ্ব রেকর্ডের মালিক।

এবিএন/শংকর রায়/জসিম

প্রধান শিরোনাম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত