বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ৯ ফাল্গুন ১৪২৫
logo
feb18  

গানে গানে রাজ্জাককে স্মরণ করলেন কবরী

গানে গানে রাজ্জাককে স্মরণ করলেন কবরী

ঢাকা, ২৩ জানুয়ারি, এবিনিউজ : বেহালা শিখছেন বাংলা চলচ্চিত্রের মিষ্টি নায়িকা কবরী। সে বেহালায় সুর তুলছেন নতুন গান। এ গান আজীবনের বন্ধু প্রিয় মানুষের জন্য। গাইবার বড় ইচ্ছে হলো। তাইতো তার জন্মদিনে বেহালা ছাড়াই গাইলেন—‘হ্যাপি বার্থ ডে টু ইউ, হ্যাপি বার্থ ডে ডিয়ার রাজ্জাক’।

কণ্ঠ ধরে এলো, চোখে অশ্রু গড়িয়ে পড়লো। আঁচল দিয়ে মুছলেন সে ঝর্ণাধারা। খুলে দিলেন প্রিয় নায়ক, প্রিয় মানুষ, প্রিয় সহকর্মী নায়ক রাজ রাজ্জাককে নিয়ে স্মৃতির ডালা বিএফডিসির মান্না কমপ্লেক্সের মিলনায়তনে।

আয়োজনে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতি। নায়ক রাজ রাজ্জাকের ৭৭তম জন্মদিনের দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভা।

কবিগুরুর গান ‘মুক্তি আমার ধূলায় ধূলায়’র উল্লেখ করে কবরী বলেন, ‘মৃত্যু অবধারিত। একে মেনে নিয়ে এগোতে হবে। কারণ মৃত্যু না থাকলে এতো নতুনের জন্ম হতো না। তাদের জায়গা হতো না।’

ছয় মাসও হয়নি নায়করাজ প্রয়াত হয়েছেন। মৃত্যুর পর তার প্রথম জন্মদিন। এ দিনে তাকে নিয়ে মজার স্মৃতিই বলতে চাইলেন। বললেন ‘ময়নামতি’র সময়কার স্মৃতি। যে সিনেমা তাদের জুটিকে প্রতিষ্ঠা করেছিল। দিয়েছিল কিংবদন্তির রূপ। সহশিল্পীর সম্পর্ক রূপান্তরিত হয়েছিল প্রেমে।

মিষ্টি মেয়ের স্মৃতির সাক্ষী বর্ষীয়ান ক্যামেরাম্যান আবদুল লতিফ সিদ্দিকী।

‘আমি, বাচ্চু ভাই ও রাজ্জাক ভাই কী যে শয়তান ছিলাম! কী যে দুষ্টামি করতাম! খাবার নিয়ে ঝগড়া করা। নতুন হিরো আসলে তার পিছনে লেগে থাকা। কস্টিউম নিয়ে সমস্যা করা।’

‘যাই হোক একটা সময়ে আমি শুনি রাজ্জাক ভাই আমাকে ভয় পায়। কাজী জহির ভাইয়ের ছবিতে কাজ করার সময় শুনলাম এটি’— বললেন কবরী।গানে গানে রাজ্জাককে স্মরণ করলেন কবরী

ভয়ের রহস্য উদঘাটনও করলেন তিনি। ‘উনি যখন শট দিয়ে বসত তখন বলতাম— বাহ! শটটা ভালো হয়েছে তো!’ আবার আমার শট ভালো হলে সেটের সবাই প্রশংসা করলেও সে করতো না। একদিন আমি ধরলাম— এ আপনি আমাকে এত হিংসে করেন কেনো বলেন তো? আমি যে শটা দিলাম সবাই ভালো বলছে, আপনি কিছু বলছেন না। তখন তিনি আস্তে আস্তে বললেন, না না ভালো হয়েছে,’ বলেই হেসে ফেললেন কবরী।

এরকম ঝগড়া তাদের মধ্যে শুধু শট নিয়ে হতো না। হতো সিনেমা কার চরিত্র কতো বড়, গুরুত্ব কম না বেশি, কস্টিউম, খাবার অনেক কিছুই নিয়েই।

একে একে বললেন ‘আবির্ভাব’সহ আরো কিছু সিনেমার সময়কার স্মৃতি, খুঁনসুটির গল্প।
‘আমাদের মধ্যে অনেক ঝগড়া ছিল। কিন্তু তারপরও আমাদের মধ্যে গভীর বন্ধুত্ব ছিল। যেটা আসলে কোনভাবেই সংজ্ঞায়িত করা যাবে না’— রাজ্জাক-কবরীর পর্দার বাইরের সম্পর্কের ব্যাখ্যায় কবরী।

তাদের দুজনের সম্পর্কের ব্যাখ্যায় পেইন্টিংয়ের উদাহরণ টানলেন, ‘মনিরুল ইসলাম নামে একজনের প্রদর্শনী হচ্ছিল। একটা পেইন্টিং দেখিয়ে একজন জিজ্ঞেস করেছিল ভাই, এটা কী আঁকছেন? উনি বলেছিলেন, বুইজ্জা লন। একইভাবে আমাদের দুজনের মধ্যে যে রসায়ন কাজ করতো, তার মধ্যেও হিংসা ছিলো। কিন্তু তা পজেটিভ।’

অবলীলায় তাদের মধ্যকার সম্পর্কের অবনতির কথাও স্বীকার করলেন। ‘রাজ্জাক সাহেবের সাথে আমি দীর্ঘদিন কাজ করি নাই। একটা মনোমালিন্য ছিলো। তারপর যখন কাজ করলাম তখন কী কেউ বলবে, কোনো সমস্যা হয়েছিল?’

শুরুর দিকে এমনও হয়েছে কবরী মেকআপ নিয়ে রাজ্জাক থেকে মতামত নিত। রাজ্জাককে পোশাক নিয়ে কবরী পরামর্শ দিয়েছেন। ‘আসলে আমাদের চেষ্টা ছিলো ভালো কাজ করার,’ বললেন কবরী।
নায়ক রাজের ৭৫ তম জন্মদিন পালন করেছিল চ্যানেল আই। সেখানে কবরীকে দেখে বলেছিলেন, ‘তোমাকে দেখি না কেনো?’ উত্তরটা গানে দিয়েছিলেন, ‘চোখ যে মনের কথা বলে।’

সে স্মৃতিচারণ করে কবরী বলেন, ‘আমি একজন ভালো বন্ধুকে হারিয়েছি। আসলে তাকে হারাইনি, পেয়েছি।’

এবিএন/শংকর রায়/জসিম

প্রধান শিরোনাম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত