সোমবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ৭ ফাল্গুন ১৪২৫
logo
feb18  

ঢাবি ভিসিকে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম

ঢাবি ভিসিকে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম
ঢাকা, ১৭ জানুয়ারি, এবিনিউজ : গত সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে সম্প্রতি অধিভুক্ত সরকারি সাত কলেজের অধিভুক্ততা বাতিলের দাবিতে আন্দোলনে, ছাত্রলীগের হামলা এবং নারী নিপীড়নের ঘটনায় অভিযুক্তদের বিচারের দাবিতে ভিসিকে ৩ দফা দাবিতে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
 
আজ বুধবার সকাল ১১টায় অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে ‘নিপীড়নের বিরুদ্ধে সাধারণ শিক্ষার্থীরা’ ব্যানারে মানববন্ধন হয়। সেখান থেকে একটি মিছিল পুরো বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে। এরপর বেলা ১টা থেকে বিকেল ৪টা পযন্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টরকে অবরুদ্ধ করে রাখে আন্দোলনকারীরা। এসময় কলা ভবনের গেট বন্ধ করে দিলে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। একপর্যায়ে ভিসি কার্যালয়ে গিয়ে ভিসিকে তাদের দাবি অনুয়ায়ী ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেওয়া হয়।
 
আন্দোলনকারীদের ৩ দফা দাবি হলো হামলা ও নিপীড়নের ঘটনায় অভিযুক্ত বঙ্গবন্ধু হল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আল আমিন রহমান, সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের সভাপতি সোহানুর রহমান, মুহসীন হলের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান সানী, সূর্যসেন হলের সভাপতি গোলাম সারোয়ার, রোকেয়া হলের সভাপতি বি এম লিপি, ফজিলাতুন্নেসা হলের সভাপতি বেনজির হোসেন নিশি, কুয়েত মৈত্রী হলের সাধারণ সম্পাদক শ্রাবণী শায়লা, সুফিয়া কামাল হলের সভাপতি শারজিয়া শারমিন শম্পাকে বহিষ্কারের দাবি, ছাত্র প্রতিনিধিদের নিয়ে তদন্ত কমিটি করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত কমিটি গঠন, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত কমিটির রিপোর্ট প্রকাশ।
 
গত বৃহস্পতিবার, রোববার ও সোমবার ঢাকার সাত কলেজকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অন্তর্ভুক্তির প্রতিবাদে আন্দোলন চালিয়ে আসছে একদল শিক্ষার্থী। ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থী’ ব্যানারে আন্দোলনকারী এই শিক্ষার্থীদের সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করছেন ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন টেকনোলজির ছাত্র মশিউর।
 
সোমবার শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিলে সেখান থেকে মশিউরকে ভেতরে ঢুকিয়ে নেন ছাত্রলীগ নেতারা। পরে তাকে শাহবাগ থানায় নিয়ে এক দিন আটকে রেখে বুধবার রাতে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
 
প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন বাম সংগঠনের নেতাকর্মীদেরও আজকের কর্মসূচিতে দেখা যায়।
 
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের থেকে জানা যায়, মানববন্ধন শেষে শিক্ষার্থীদের আসতে দেখে কলা ভবনে অবস্থিত প্রক্টর অফিসের মূল গেটে তালা দিয়ে আটকে দেওয়া হয়। কিন্তু শিক্ষার্থীরা ফটক ভেঙে প্রক্টর অফিসের বারান্দায় অবস্থান গ্রহণ করে।
 
পরে প্রক্টর তার কক্ষ থেকে বেরিয়ে এসে কলাভবনের গেটে উত্তেজিত ছাত্রদের সঙ্গে কথা বলেন। শিক্ষার্থীরা এ সময় তাদের তিন দফা দাবি প্রক্টরের সামনে তুলে ধরেন। প্রক্টর সাত দিনের সময় চাইলে শিক্ষার্থীরা তা মানেননি। তাদের দাবি অপরাধীদের ছবি বিভিন্ন গণমাধ্যমে আসায় তারা চিহ্ণিত। সাত দিনের কথা বলে তিনি প্রহসনের ব্যবস্থা করছেন বলে অভিযোগ করেন শিক্ষার্থীরা। পরে প্রক্টরকে ৪ ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখেন তারা।
 
শিক্ষার্থীরা এ সময় ছাত্রলীগের হামলা এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন করলেও সরাসরি কোনো উত্তর দেননি অধ্যাপক রব্বানী। বিকেল ৪টার দিকে ভিসি অফিসে যান শিক্ষার্থীরা। সেখানেও ভিসি অফিসের প্রবেশ মুখে গেট বন্ধ করতে চাইলে কর্মচারীদের সাথে আন্দোলনকারীদের ধস্তাধস্তি হয়। পরে সেখানে বারান্দায় বসে পড়েন তারা। এর ঘণ্টাখানেক পর শিক্ষার্থীরা হট্টগোল শুরু করলে ভিসি তাদের সামনে আসেন। এসময় শিক্ষার্থীরা তাদের দাবি উপস্থাপন করেন। একই সাথে ৩ দফা দাবি মানার জন্য ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেওয়া হয়।
 
আন্দোলনকারী ছাত্র ফেডারেশনের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি বেনজীর আহমেদের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ে অতীতে গঠিত কোনো তদন্ত কমিটি আলোর মুখ দেখেনি। যেহেতু আমরা একটা টাইম ফ্রেম দিয়েছি। আমরা সে পর্যন্ত অপেক্ষা করবো। দাবি মানা না হলে লাগাতার কর্মসূচি দেব।
 
এবিএন/মমিন/জসিম

প্রধান শিরোনাম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত