logo
সোমবার, ২২ জানুয়ারি ২০১৮
 

অাগামীকাল ফুলবাড়ীয়ার ঐতিহৃবাহী গুমগুটি খেলা

অাগামীকাল ফুলবাড়ীয়ার ঐতিহৃবাহী গুমগুটি খেলা

ফুলবাড়ীয়া (ময়মনসিংহ), ১২ জানুয়ারি, এবিনিউজ : অাগামীকাল শনিবার অনুষ্ঠিত হবে ময়মনসিংহ জেলার ফুলবাড়ীয়া উপজেলার ঐতিহৃবাহী ঐতিহাসিক গুমগুটি খেলা। উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া কিছু খেলা গ্রামাঞ্চলের মানুষ  ধরে রেখেছে যুগ যুগ ধরে। সে রকমই একটি খেলা গুম গুটি। যেটি  পৌষ মাসের শেষ বিকেলে অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে।  প্রতি বছরের ন্যায় এবছর অাগামীকাল  শনিবার জমিদার আমলের তালুক-পরগনার সীমানায় ২শ বছরেরও বেশি ঐতিহ্যবাহি হুম গুটি খেলাটি অনুষ্ঠিত হবে ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার  ফুলবাড়ীয়া টু ময়মনসিংহ সড়গের পাশে লক্ষীপুর গ্রামের বড়ই আটা বন্ধে ( খোলা মাঠে)।  খেলাকে ঘিরে এলাকায়  বিরাজ করছে  উৎসবের আমেজ। পৌষ মাসের শেষ দিনকে স্থানীয়ভাবে বলা হয় পুহুরা। প্রায় দুইশো বছরের ঐতিহ্যবাহী এই খেলা বছরে একবার একই স্থানে হয়।

পিতলের তৈরি ১ মণ ওজনের গুটিটি  অায়াত্ত করে নিজ গ্রামে নিয়ে গুম করা পর্যন্ত চলে এই খেলা। নিজ গ্রামে তোলতে দুই / তিন দিন লাগতে পারে। লক্ষীপুর গ্রামের ৫০ বছরের অাফছর অালী বলেন,কোন কোন বছর কয়েক দিন লেগে যায় কোন গ্রামে গুটি তোলতে ( গুম করতে) তখন দিন রাত খেলা হয়।   বিকেল চারটার দিকে খেলা শুরু হয়। সকাল থেকে ফুলবাড়ীয়া ছাড়াও পাশ্ববর্তী ত্রিশাল, মুক্তাগাছা উপজেলার লোকজন আসতে থাকে ল্মীপুর বড়ই আটা বন্ধে।

ফুলবাড়ীয়া উপজেলা সদর থেকে ৫ কিলোমিটার উত্তরে লক্ষীপুরের বড়ই আটা বন্ধ। খেলা শুরুর আগে ময়মনসিংহ-ফুলবাড়ীয়া সড়কের অদূরে ভাটিপাড়া, বালাশ্বর, তেলিগ্রামের সংযোগস্থল নতুন সড়কে লোকে লোকারণ্য হয়ে যায়।

মুক্তাগাছার জমিদার রাজা শশীকান্তের সাথে ত্রিশালের বৈলরের হেম চন্দ্র রায় জমিদারের জমির পরিমাপ নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়। জমিদার আমলের শুরু থেকেই তালুকের প্রতি কাঠা জমির পরিমাপ ছিল ১০ শতাংশে, পরগনার প্রতি কাঠা জমির পরিমাপ ছিল সাড়ে ৬ শতাংশে। একই জমিদারের ভূখন্ডে দুই নীতির প্রতিবাদে তীব্র প্রতিবাদ গড়ে ওঠে। জমির পরিমাপ নিয়ে সৃষ্ট বিরোধ মীমাংসার জন্য লক্ষীপুর গ্রামের বড়ই আটা নামক স্থানে (যেখানে শুরু তালুক পরগনার সীমানা) সেখানে এই গুটি খেলার আয়োজন করে।

গুটি খেলার শর্ত ছিল, গুটিটি যে দিকে যাবে তা হবে তালুক, পরাজিত অংশের নাম হবে পরগনা। জমিদার আমলের গুটি খেলায় মুক্তাগাছা জমিদারের প্রজারা বিজয়ী হয়। আজও তালুক পরগনার সীমান্তের জিরো পয়েন্টে ব্রিটিশ আমলে জমিদারি খেলার গোরাপত্তন। আমন ধান কাটা শেষ, বোরো ধান আবাদের আগে প্রজাদের শক্তি পরীার জন্য জমিদারদের এই পাতানো খেলা চলছে বছরের পর বছর ধরে। শনিবার জমজমাট হুমগুটি খেলাকে কেন্দ্রকরে ফুলবাড়ীয়ায় মেতে উঠবে লক্ষাধিক মানুষের মিলন মেলা।

প্রতি বছর পৌষের শেষ খেলাকে কেন্দ্র করে  প্রাচীনকাল থেকেই লক্ষীপুর, বড়ই আটা, ভাটিপাড়া বালাশ্বর, শুভরিয়া, কালীবাজাইল, তেলিগ্রাম, সারুটিয়া, গড়বাজাইল, বাসনা, দেওখোলা, কুকরাইল, বরুকা, ফুলবাড়ীয়া পৌর সদর, আন্ধারিয়া পাড়া, জোরবাড়ীয়া, চৌদার, দাসবাড়ী, কাতলাসেন সহ আশে পাশের ১৪/১৫টি গ্রামে শুরু হয় উৎসবের আমেজ। ছোট ছোট ছেলে মেয়েরা পড়ে নতুন জামা কাপড়, শতাধিক গরু-ছাগল জবাই হয় গ্রামের বিভিন্ন স্থানে। গুটি খেলা এক নজর দেখার জন্য দূরদূরান্তের আত্মীয় স্বজনরাও ভীড় জমায় এ গ্রামে।

এ খেলায় থাকে না কোন রেফারী বা আমপিয়ার। আইন শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখতে কোন প্রকার বাহিনীর প্রয়োজন হয় না। বিকেল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলে খেলা। কোন কোন বছর পরদিন পর্যন্ত খেলা চলার রেকর্ডও আছে। একেক এলাকার একেকটি নিশানা থাকে। ঐ নিশানা দেখে বুঝা যায় কারা কার পক্ষের  লোক। গুটিটি কোন দিকে যাচ্ছে তা মুলত চিহিৃত করা হয় নিশানা দেখে এবং রাতে নিশানা করা হয় টর্চ লাইটের অালোর ইশারায়। নিজেদের দখলে নিতে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করা হয় খেলায়।

এভাবে গুটিটি গুম না হওয়া পর্যন্ত চলে এ খেলা।খেলা উযাপন কমিটির  পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক  মো: চঞ্চল মাহমুদ জানান, আবহাওয়া অনুকুলে না থাকলেও খেলায় কোন ধরনের প্রভাব পড়বে না, যারা খেলোয়াড়  তারা যথা সময়েই আসবে এবং খেলা চলবে।

এবিএন/হাফিজুল ইসলাম স্বপন/জসিম/রাজ্জাক

প্রধান শিরোনাম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত