শনিবার, ২১ এপ্রিল ২০১৮, ৮ বৈশাখ ১৪২৫
logo
 
  • হোম
  • অপরাধ
  • ‘জঙ্গি আস্তানা’ রুবি ভিলায় অভিযানের আদ্যোপান্ত
নাখালপাড়ার এই বাড়িটিতে আগেও অভিযান চালানো হয়; দুই দফায় গ্রেপ্তার হয়েছিল ১২

‘জঙ্গি আস্তানা’ রুবি ভিলায় অভিযানের আদ্যোপান্ত

‘জঙ্গি আস্তানা’ রুবি ভিলায় অভিযানের আদ্যোপান্ত

ঢাকা, ১২ জানুয়ারি, এবিনিউজ : রাজধানীর পশ্চিম নাখালপাড়ার ‘জঙ্গি আস্তানা’ সন্দেহে যে ভবনটিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গতকাল রাত থেকে অভিযান চালায়, গত চার বছরে দুই দফায় আগে সেই ‘রুবি ভিলা’ থেকে ১২ জনকে জঙ্গি সন্দেহে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে র‍্যাব। আজ শুক্রবার বেলা ২টার দিকে র‌্যাবের গণমাধ্যম শাখার পরিচালক মুফতি মাহমুদ খান এক ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, এই বাড়িতে ২০১৩ ও ২০১৬ সালে অভিযান চালায় র‌্যাব। এ সময় অভিযান চালিয়ে এই ভবন থেকে জঙ্গি সন্দেহে ১২ জনকে গ্রেফতার করা হয়।

মুফতি আরও বলেন, বৃহস্পতিবার রাতের অভিযানে নিহতরা নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জেএমবির সদস্য। তাদের পরিচয় এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে পশ্চিম নাখালপাড়ার পুরাতন এমপি হোস্টেল সংলগ্ন ১৩/১ নম্বর হোল্ডিংয়ের রুবি ভিলা নামের ৬ তলা বাড়ির পঞ্চম তলায় ‘জঙ্গি আস্তানা’ সন্দেহে অভিযান শুরু করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। অভিযানের শুরুতে পুরো বাড়ি ঘিরে ফেলে র্যা ব। ওই সময় র‌্যাবও পাল্টা গুলি করলে তিন জঙ্গি নিহত হয়। নিহতরা সবাই ২০ থেকে ৩০ বছরের যুবক। ভেতরে একটি গ্রেনেডের বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে জঙ্গিরা। আরো একটি গ্রেনেড ভেতরে রয়েছে। তাদের রুমে পিস্তলসহ আরো কিছু আর্মস রয়েছে।

এই ঘটনায় আহত হয় র‌্যাবের দুই সদস্যও। তাদের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে । এর আগেই ওই ভবনের ৬৫ জন বাসিন্দাকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

অভিযানে তিন জঙ্গি নিহতের পর আজ শুক্রবার সকালে র‌্যাবের শীর্ষ কর্মকর্তারা ওই আস্তানা পরিদর্শন করে বড় নাশকতা ঘটানোর বেশ কিছু আলামত পেয়েছেন। র‌্যাব জানিয়েছে, জঙ্গি আস্তানার ভেতরে একাধিক সুইসাইডাল ভেস্ট, পিস্তল, বিস্ফোরক, অবিস্ফোরিত ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি) ও কিছু বাল্ব পাওয়া গেছে। এছাড়া সেখানে বিভিন্ন বিস্ফোরক দ্রব্যও পাওয়া গেছে।

র‌্যাব ডিজি বেনজীর আহমেদ জঙ্গি আস্তানা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের বলেন, আস্তানার ভেতরে গ্যাসের চুলা ছেড়ে এর ওপর একটি গ্রেনেড রেখে দিয়েছিল জঙ্গিরা। বড় বিস্ফোরণ ঘটানোর জন্যই তারা এটি সেখানে রেখেছিল। এই বিস্ফোরণ হলে গোটা ভবন ধসে যেত। আমাদের ধারণা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে গোটা ভবন ধসিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল জঙ্গিরা।

‘জঙ্গি আস্তানা’ রুবি ভিলায় অভিযানের আদ্যোপান্ত

তিনি বলেন, গত ৪ জানুয়ারি তারা বাসা ভাড়া নেয়। অথচ এই বিষয়ে বাড়ির মালিক কিছুই জানতেন না। বাড়ির কেয়ারটেকার বাড়ি ভাড়া দিয়েছিল।

এদিকে, রাজধানীর পশ্চিম নাখালপাড়ায় জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে যে বাড়িটিতে অভিযান চালায় র‌্যাব, তা ভুয়া এনআইডি দেখিয়ে ভাড়া নেয়া হয়েছিল বলেও জানান র‌্যাব মহাপরিচালক। ওই বাড়িটিতে মেস করার কথা বলে জাহিদ ও সজীব নামে দুই তরুণ বাড়িটি ভাড়া নিয়েছিল বলে জানান তিনি।

বেনজীর আহমেদ জানান, মেস ভাড়া নেয়ার কথা বলে গত ৪ জানুয়ারি পশ্চিম নাখালপাড়া (ছাপড়া মসজিদের পাছে) সাব্বির রহমানের ১৩/১ রুবি ভিলা ভাড়া নেয় জাহিদ ও সজীব নামে দুই তরুণ। বাড়িটি ছয় তলা। সবার ওপরের তলায় একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়েছিল তারা। বাড়ির তত্ত্বাবধায়ক রুবেল তাদের বাড়িটি ভাড়া দেন। ভাড়া নেয়ার সময় তারা দুটি এনআইডি কার্ডের ফটোকপি দেয়। তেজগাঁও থানায় জমা দেয়ার পর এনআইডি কার্ড দুটি দেখে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সন্দেহ হয়। কারণ, দুটি কার্ডেরই ছবি একটি, নাম দুটি।

জানা গেছে, ওই বাড়িটির মালিক বিমানের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। এর আগে রাজধানীর মাজার রোডে সন্ধান পাওয়া জঙ্গি আস্তানার বাড়ির মালিকের ছেলেও ছিল বিমানের পাইলট।

জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বাড়ির তত্ত্বাবধায়ক রুবেল ও মালিক সাব্বির রহমান আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, জঙ্গি আস্তানার রুবি ভিলার মালিকের নাম মো. সাব্বির হোসেন। বয়স ৫৫ বছর। তিনি বাংলাদেশ বিমানের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. ফরিদ হোসেন এই এলাকায় পরিবার নিয়ে বিগত ৪ বছর ধরে বসবাস করছেন। তিনি বলেন, ‘আমি এই এলাকায় থাকি। প্রাইভেট কার চালাই। রুবি ভিলার মালিকের নাম সাব্বির হোসেন। সে বাংলাদেশ বিমানে চাকরি করতো। তবে পাইলট কি না জানি না।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক দোকানদার বলেন, ‘আমি শুনেছি, ওই বাড়ির মালিক পাইলট ছিল। বিমানে চাকরি করতো। আমি বিস্তারিত জানি না।’

বাড়িটির পাশে তুহিন নামে একজনের রিকশার গ্যারেজে আছে। সেখানে ৫০ জনের মতো রিকশাচালক রাতে ঘুমান। তাদের একজন শামীম মিয়া। সকালে তার সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, ‘অনেক গোলাগুলির শব্দে রাইতে ঘুম ভাইঙা যায়। মনে করছি, ২১ ফেব্রুয়ারির লাইগ্যা ২১ বার বুঝি গুলি হইতাছে। কিন্তু অনেক গোলাগুলির শব্দ শুইন্যা উঁকি মাইরে বাইরে তাকাই। দেহি প্রচুর র‌্যাব-পুলিশ দাঁড়ায়া আছে।’

জঙ্গি আস্তানাটির চারপাশ ঘিরে রেখেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ওই এলাকা দিয়ে কাউকে যেতে দেয়া হচ্ছে না। এখন র‌্যাবের বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল (বম্ব ডিসপোজাল ইউনিট) বাড়িটিতে ঢুকে বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয়ের কাজ করছে।

পশ্চিম নাখালপাড়ার ওই ছয়তলা বাড়িটি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে খুব বেশি দূরে নয়। এই ভবনটি ছাপড়া মসজিদের পাশে। ভবনের পাঁচতলায় একটি মেস করে জঙ্গিরা অবস্থান করছিল বলে র‌্যাব সূত্রে জানা গেছে।

রাজধানীর পশ্চিম নাখালপাড়ার ‘জঙ্গি আস্তানা’ সন্দেহে যে ভবনটিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গতকাল রাত থেকে অভিযান চালায়, গত চার বছরে দুই দফায় আগে সেই ‘রুবি ভিলা’ থেকে ১২ জনকে জঙ্গি সন্দেহে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

র‌্যাবের গণমাধ্যম শাখার পরিচালক মুফতি মাহমুদ জানান, ২০১৩ ও ২০১৬ সালে দুই দফায় অভিযান চালিয়ে এই ভবন থেকে জঙ্গি সন্দেহে ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

অভিযান সম্পর্কে সকালে জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পশ্চিম নাখালপাড়ার এক ষাটোর্ধ্ব নারী জানান, তাঁর জন্ম এখানেই। এক বছর আগেও এই ভবন থেকে কয়েকজনকে ধরে নিয়ে যায় তেজগাঁও থানার পুলিশ। পরে তাঁরা জেনেছিলেন, তাদের জঙ্গি সন্দেহেই গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

আজ সকালে অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে সেখানে দায়িত্ব পালন করছিলেন তেজগাঁও থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আমিনুল ইসলাম। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বছরখানেক আগে ওই ভবন থেকে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছিল র‌্যাব, পুলিশ না। র‌্যাব পরে তাদের পুলিশে হস্তান্তর করে। পরে দুজনকে ছেড়ে দেওয়া হয়, একজনের নামে মামলা হয়।’

এবিএন/জনি/জসিম/জেডি

প্রধান শিরোনাম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত