logo
শনিবার, ২০ জানুয়ারি ২০১৮
 
শেরপুরের বিশালপুর ইউপি উপ-নির্বাচন

বিদ্রোহীদের চাপে কোনঠাসা আ.লীগ ফুরফুরে বিএনপি

বিদ্রোহীদের চাপে কোনঠাসা আ.লীগ ফুরফুরে বিএনপি

শেরপুর (বগুড়া), ১৭ ডিসেম্বর, এবিনিউজ : আগামী ২১ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার বগুড়ার শেরপুর উপজেলার বিশালপুর ইউনিয়নের উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এর মধ্যে বিশালপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে ৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। আ:লীগের প্রার্থী গোলাম সরওয়ার (নৌকা), আ.লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী শ্রী সুধান্য সরকার (আনারস), আ:লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মোঃ জাকির হোসেন, (ঘোড়া), বিএনপি প্রার্থী  মোঃ মজিবুর রহমান (ধানের শীষ), ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন প্রার্থী আব্দুর রহমান (হাতপাখা) প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী মাঠ চষে বেড়াচ্ছে।

এরমধ্যে বিএনপির একক প্রার্থী থাকলেও আ:লীগের একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছে। বিদ্রোহী প্রার্থীদের চাপে আ’লীগ প্রার্থীরা কোন ঠাসা হয়ে পড়লেও ফুরফুরে মেজাজে রয়েছে বিএনপি প্রার্থী। চেয়ারম্যান পদে আ:লীগের নিজ দলের একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় তৃণমূল পর্যায়ে নতুন করে দেখা দিয়েছে কোন্দল। এর নেতিবাচক প্রভাব ভোটেও পড়বে বলে দলটির তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকরা দাবি করেছেন।

ইতিমধ্যে প্রায় ২ সপ্তাহ যাবৎ বিএনপির উপজেলা পর্যায় থেকে শুরু করে ইউনিয়ন বিএনপির সকল পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ রাতদিন নির্বাচনী প্রচারণার মাঠে কাজ করলেও এখন পর্যন্তও আ:লীগের কোন উপজেলা পর্যায়ের নেতাদের একযোগে নির্বাচনী প্রচারণায় মাঠে দেখা যাচ্ছেনা। উপজেলা নির্বাচন অফিস সুত্রে জানা গেছে, বিশালপুর ইউনিয়নে কেন্দ্র ১০ টি এবং  ওয়ার্ড সংখ্যা ৯টি যার নারী-পুরুষসহ মোট ভোটার সংখ্যা ২১,১০৪ জন।
কয়েকদিন আগে আ’লীগ প্রার্থী সারওয়ার রহমান ও আ:লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী শুধাণ্য সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় আ:লীগের প্রার্থীর ৩/৪ জন সমর্থক আহত হয়।

এ বিষয়ে শেরপুর থানায় সাধারণ ডায়েরী করা হয়েছে।  তাছাড়া ইউনিয়নটি হিন্দু ধর্মাবলম্বী অধ্যুষিত হওয়ায় হিন্দু ভোটার সংখ্যা বেশী এ কারণে সাবেক চেয়ারম্যান প্রয়াত শ্রী সুবোধ চন্দ্র সরকারের ছোট ভাই সুধান্য সরকার জানান, গত ১৬-ই ডিসেম্বর বিকেলে ইউনিয়নের বেলতলা নামক স্থানে বিদ্রোহী প্রার্থীরা আমার প্রচার মাইক ভাংচুর  করে । এ বিষয়ে শেরপুর থানা এবং নির্বাচন অফিসারকে মৌখিকভাবে অভিযোগ করা হয়েছে বলে তিনি দাবী করেন। তিনি আরোও জানান, নির্বাচনী প্রচারণায় তার জনপ্রিয়তা থাকলেও দলীয় প্রার্থী গোলাম সরওয়ারের সমর্থকরা তার নির্বাচনী কাজে বাধা সৃষ্টিসহ তার কর্মী সমর্থকদের প্রতিনিয়ত হুমকি-ধামকী দিয়ে যাচ্ছে। তাছাড়া টাকার মাধ্যমে আমার প্রতি পক্ষ হিসেবে প্রার্থী দাঁড়িয়েছে।

এব্যাপারে শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খান মো: এরফানের সাথে মুঠো ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এ ব্যাপারে আমাদের কাছে কেউ মৌখিক বা লিখিতভাবে অভিযোগ করেনি। বরং এটি এক প্রার্থী কর্তৃক আরেক প্রার্থীর প্রতি যে হুমকী-ধামকীর কথা শোনা যাচ্ছে তা একে অপরকে নির্বাচনী কোনঠাসা করার কৌশলমাত্র। আমাদের তদন্তে এমনটিই বেরিয়ে এসেছে।

 অপরদিকে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা মাহবুবুর রহমান হারেজ, জেলা বিএনপির উপদেষ্ঠা জানে আলম খোকা, শহর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম পান্না, শেরপুর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুর রহমান মিলন জানান, নির্বাচনে কোন প্রকার কারচুপি না হলে ও সরকার দলীয় ক্যাডাররা ভোটদানে  বাধার সৃষ্টি না করলে এবং নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ভোটের পরিবেশ সষ্ঠুু  রাখলে আমাদের বিএনপির প্রার্থী বিপুল ভোটে বিজয়ী হবে বলে আমরা আশাবাদী। নির্বাচনের ফলাফলের ব্যাপারে জানতে চাইলে আ:লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মোঃ জাকির হোসেন, ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন প্রার্থী আব্দুর রহমান, নির্বাচনী পরিবেশ সুষ্ঠু থাকলেও তাদের জয় নিশ্চিত বলে দাবী করেন।

এব্যাপারে, রিটার্নিং অফিসার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা খাজানুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, নির্বাচনে যাতে কোন প্রকার সহিংস ঘটনা না ঘটে এ ব্যাপারে প্রশাসনের সজাগ দৃষ্টি থাকবে। এবং কোন প্রার্থী যাতে তার নিজস্ব প্রভাব না খাটাতে পারে সেদিকেও দৃষ্টি রাখবে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী।

এবিএন/শহিদুল ইসলাম (শাওন)/জসিম/তোহা

প্রধান শিরোনাম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত